cbn  

শাহেদ মিজান, সিবিএন:
মহেশখালী উপজেলা উত্তর নলবিলায় বিশাল এবং সুউচ্চ পাহাড় কেটেই করা হচ্ছে জাইকার সড়ক। মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ থেকে নলবিলা দিয়ে তৈরি করা জাইকার সড়কে পাহাড় কেটে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। গোপনীয়তায় রাতের আঁধারে এভাবে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। মাতারবাড়ী সংযোগ সড়কের পশ্চিম পাশের পাহাড় কেটে সাবাড় করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি মহল। এতে ওই এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু পাহাড়খেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানাতে পারছে না। বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন রহস্যজনকভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালারমারছড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হাসান আরিফের নেতৃত্বে মাতারবাড়ী সংযোগ সড়কের পশ্চিম পাশের পাহাড় কেটে সাবাড় করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি মহল। মানুষের নজর এড়াতে সন্ধ্যার পর থেকে বোলডোজার দিয়ে নির্বিঘেœ পাহাড় কাটা হচ্ছে। সারারাত এই পাহাড়কাটা চলে। পাহাড় কাটা দৃশ্য দিনের বেলায় দেখলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ শতকের একটি সুউচ্চ পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে। ১৪০ শতকের মতো আরো দু’টি পাহাড় দু’টি স্ক্যাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে। অভিযোগে উঠেছে বিষয়টি স্থানীয় বিট কর্মকর্তার চোখের সামনে ঘটছে। তিনি টাকা খেয়ে চুপ রয়েছেন। স্থানীয় জনসাধারণ এই বিষয়ে অভিযোগ করলেও তারা আমলে নেয়নি।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, প্রায় মাস দুয়েক ধরে যুবলীগ সভাপতি হাসান আরিফের নেতৃত্বে উত্তর নলবিলার প্রায় বিভিন্ন স্থানের পাহাড় কাটা চলছে। তার সাথে সরকারদলীয় আরো কিছু নেতা যুক্ত আছেন। পাহাড়কাটার সময় উপস্থিত থেকে সব দেখাশোনা করেন টিপু নামের এক ব্যক্তি।

স্থানীয় সচেতন মহলে বলছেন, বাংলাদেশের অন্যতম দ্বীপাঞ্চল মহেশখালীতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বড় মেগা প্রকল্প হতে যাচ্ছে। আর এই দ্বীপাঞ্চলকে ভৌগলিক ভাবে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর পাহাড়কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন। কিন্তু তারপরও বর্তমান সরকারে কিছু চক্র পাহাড়কাটায় মেতে উঠেছে। পাহাড়কাটা বন্ধ এবং এর বিরুদ্ধে যাতে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কঠোর ব্যবস্থা নেয় তার জোর দাবী স্থানীয় মহলের।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা হাসান আরিফ বলেন, ‘আমি পাহাড় কাটছি না। জাইকার লোকজন পাহাড় কাটছে। তবে আমি আমার ডাম্পার গাড়ি তাদের ভাড়া দিয়েছি। কেউ শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ করেছে হয়তো।’

উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহর মুঠোফোনের সংযোগ পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা জামিরুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘সেখানে পাহাড় কাটার বিষয়টি আমি জানতাম না। যেই হোক, কেউ এভাবে পাহাড় কাটতে পারে না। আমি আগামীকালকেই (আজ) ব্যবস্থা নেবো।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •