এম, রিদুয়ানুল হক
আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রায় সব দলের অংশগ্রহণেই হতে যাচ্ছে উক্ত নির্বাচন। প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজ নিজ জোটসহ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ডানপন্থী বা বামপন্থীদের মূল জোটও নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী। এসবের বাইরেও আরো দল বা জোট রয়েছে, যারা নির্বাচন করতে চায়। এটা দেশের পুরো জাতির জন্য স্বস্তিদায়ক খবর। নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে অনেক দিন ধরেই সন্দেহের দোলাচল ছিল। অবশেষে নির্বাচনী ট্রেনে উঠলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল তারা। তাদের নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ায় দোলাচলের অবসান ঘটে। গতকাল কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করল বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যদিও শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে অনেক আইনজীবী বলেছেন- খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন। আবার অনেকে বলেছেন, এটি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব। এখন দেখা যাক, কী হয়?
বিএনপি ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করে, তাদের নেত্রীর প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে, তার প্রতিবাদ তারা জানাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। সাংগঠনিক কারণেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ জরুরি। কিন্তু শেষ সময় পর্যন্ত তাদের মধ্যে দোলাচল ছিল। এ কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অংশগ্রহণের ব্যাপারেও অনিশ্চয়তা ছিল। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করে জানান, ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র দলগুলো ভোটের কাজে নেমে পড়লেও বিএনপির স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় মানুষের মনে শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল। রবিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলন থেকে ফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন ও মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে ২০ দলীয় জোটও ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের তারিখ পেছানোর আহ্বানও জানায়। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভোট এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল ঘোষিত নতুন তফসিল অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এখন ভালোয় ভালোয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই হয়। এ কথা বলার কারণ বাংলাদেশে নির্বাচন এলেই সহিংসতা বাড়ে। গত ১০ বছরে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই রাজনৈতিক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি বেসামরিক লোক আক্রান্ত হয়েছে। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ডাটা প্রজেক্টের (অ্যাকলেড) এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাকলেডের মতে, চার ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে—সংঘর্ষ, গুপ্ত হামলা, দাঙ্গা ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা। বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নিলে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা ২০১৪ সালের তুলনায় কম হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সহিংসতার সংস্কৃতির পুরোপুরি অবসান নাও হতে পারে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রয়োজনে সরকার ও নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তৎপর হতে হবে। সহিষ্ণুতার চর্চা করতে হবে সব পক্ষকেই। নির্বাচনী সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হবে এ চর্চায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করা।
লেখকঃ শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও মানবাধিকার কর্মী
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •