cbn  

এম, রিদুয়ানুল হক, কক্সবাজারঃ
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কক্সবাজার জেলায় ৪ টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের অালোচিত-সমালোচিত অনেক নেতা। তবে সবার নজরকে ফাঁকি দিয়ে ছোট- খাটো ইতিহাস তৈরি হয়েছে কক্সবাজার সংসদীয় আসন -১ (চকরিয়া-পেকুয়া)। ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চকরিয়া-পেকুয়া আসনে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন মহাজোটের ২৩ জন। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট (বিএনপি) থেকে কে কে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন তা এখনো সঠিক জানানো হয় নি। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্ট (বিএনপি) থেকে ২ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করবেন। এদিকে গত ২/৩ দিন ধরে চকরিয়া – পেকুয়া আসনে বিশেষ করে আওয়ামীলীগ দলীয় নেতারা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের মহোৎসবে মেতেছেন। আওয়ামীলীগের মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি প্রতিবেদককে বলেছেন, চকরিয়া-পেকুয়া আসনে আমাদের দল থেকে মোট ২১ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে ১ জন এবং জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) থেকে ১ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

জানাগেছে, বর্তমানে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শতাধিক নেতা ঢাকায় অবস্থান করছেন। এদিকে আ:লীগ-জাপায় চলছে নির্বাচনী উৎসবমুখর পরিবেশ। যে যার অবস্থান থেকে চাইছেন দোয়াও। সংসদ সদস্য পদে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন পত্র কিনেছেন এ পর্যন্ত ২৩ ডজন। কিন্তু রোববার ঐক্য ফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিএনপি নির্বাচন করার ঘোষণা দিলে নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে প্রার্থীরা। চকরিয়া-পেকুয়ার সকলের একটিই প্রশ্ন কে কে হচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী?

ইসি’র দ্বিতীয় দফায় ঘোষিত তফসীল অনুযায়ী একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। এ উপলক্ষে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সারাদেশের মত চকরিয়া-পেকুয়ার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন পত্র ফি জমা দিয়ে ফরম সংগ্রহ করেছেন।

জানাগেছে, চকরিয়া- পেকুয়া আসনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) বর্তমান এমপি মোহাং ইলিয়াছ, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) এর পক্ষ থেকে সালাহ উদ্দীন মাহমুদ ছাড়াও আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের প্রতিযোগিতা চলছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১২ নভেম্বর পর্যন্ত যাঁরা জাতীয় সংসদের ২৯৪ আসন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে মনোনয়ন দৌঁড়ে রয়েছেন তারা হলেন: বর্তমান সাংসদ হাজ্বী মোহাং ইলিয়াছ (জাতীয় পার্টি, এরশাদ), সাবেক জেলা চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মাহমুদ (জাতীয় পার্টি, মঞ্জু), কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম বিএ(অনার্স)এমএ, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, সহ-সভাপতি এডভোকেট আমজাদ হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ মিথুন, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়া, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য উম্মে কুলছুম মিনু, জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ড: আশরাফুল ইসলাম সজিব, মাতামুহুরী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল, যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট ফয়াসাল উদ্দিন সিদ্দিকী, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম, পেকুয়া আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সাংবাদিক মো, জহিরুল ইসলাম, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সরওয়ার আলম, আওয়ামীলীগ নেতা মাসেদুল হক রাশেদ, যুবলীগ নেতা খলিল্লাহ চৌধুরী, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক, আওয়ামীলীগ নেতা শফিউল আলম বাহার সহ মোট ২৩ জন।

অপরদিকে ঐক্যফ্রন্ট (বিএনপি) থেকে ২ জনের নাম জোরালো ভাবে শোনা যাচ্ছে। তাঁদের একজন হলেন- সাবেক এমপি ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ। এই ২ জনের বাইরে অন্য কোনো তৃতীয় প্রার্থী দলের পক্ষ থেকে দেয়া হবে না বলে জানান চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার। চকরিয়া-পেকুয়া আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর বিষয়ে কারো নেগেটিভ বক্তব্য নাই। সুতরাং সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদকে অবশ্যই মনোনয়ন দিবেন বলে জানান তিনি।

এখন দেখার বিষয় হলো আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও দলীয় মনোনয়ন বোর্ড কাকে মনোনয়ন দেবেন? এটা নিয়ে চলছে রাজনৈতিক মন্তব্য। তবে দলীয় নেতা কর্মীরা বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকার মাঝি বানাবেন তার পক্ষেই কাজ করবেন। বিশেষ করে যিনি এলাকায় ক্লিন ইমেজের অধিকারী সর্বমহলের জন্য নিরাপদ তাকেই মনোনয়ন দেবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমনটি প্রত্যাশা করেন দলীয় নেতা কর্মীরা।

এদিকে রোববার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাচ্ছে। তাই এখন দু’দলেরই নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই আসনে নৌকার বিজয় কেউ দেখাতে পারেননি। এবার নৌকার বিজয় নিশ্চিতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিবেন বলে জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম (এম,এ)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •