আল জাবের, বদরখালী থেকে:
এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমবায় সমিতির আওতাধীন জলাশয়, পরিত্যাক্ত জায়গা সহ বিভিন্ন মূল্যবানের জায়গা দখল নিতে এলাকার কিছু অসাধুপয় ব্যাক্তির সাথে আতাত করে বহিরাগতরা এসব জায়গা দখল নিতে বিভিন্ন ফন্ধি-ফিকির করে যাচ্ছে। এতে সামাজিক ও সমবায় আইনে বাঁধা হওয়ায় এসব ফন্ধি-ফিকিরকারীরা বিভিন্ন স্থানে সমিতির বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লেগেছে। অথচ এ সমিতির বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড দেখে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪০তম জাতীয় সমবায় দিবসে কৃষি ভিত্তিক শ্রেষ্ট সমবায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমিতির তৎকালীন সভাপতি আবদুল হান্নান বি এ কে ২০০৯ সালে স্বর্ণপদকসহ সনদ প্রদান করেছিলেন।
এছাড়া একই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালেও অত্র সমিতির বর্তমান সভাপতি আলহাজ¦ নুরুল আলম সিকদারকেও স্বর্ণ পদকসহ সনদ প্রদান করেছেন। বর্তমানে সমিতির কর্তা ও সদস্যদের ক্লিন-ইমেজের কারণে বদরখালী এখন মিনি শহরে পরিণত হয়েছে। এ উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড দেখে এলাকার বন্দোবস্তিকারী নামের কয়েকটি স্বার্থন্বেষী মহল এ সমবায় সমিতির আওতাধীন বসবাসরত ৫০ হাজার জনগোষ্টীর সম্পদ নিয়ে ছিনি-মিনি খেলছে। সমবায়ীরা জানিয়েছেন, সমিতির আওতাধীন সকল জমি, নালা, জলাশয় ও পরিত্যাক্ত জায়গাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গার মালিক অত্র সমিতি।
এছাড়া সকল মসজিদ, ফোরকানিয়া, মন্দিরসহ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন সমিতি কর্তৃপক্ষ একমাত্র বহন করে আসছে। গরীব অসহায় পরিবারের ছাত্র/ছাত্রীদেরকে লেখা-পড়ার খরচও বহন করে থাকেন। ফলে বদরখালীতে দিন দিন উচ্চ শিক্ষার হার বৃদ্ধি হতে চলছে। সরে জমিনে অনুসন্ধানে জানাযায়, দেশের বিভিন্ন স্থানের মেধাবী ২৬২ ব্যক্তিদের সম্বনয়ে ১৯২৬ সালে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমবায় সমিতি গঠনের জন্য প্রস্তাব করলে, তা ১৯২৯ সালে বাস্তবায়ন হয়। বর্তমানে ২৬২ শেয়ারের বিপরীতে ১৫শত সদস্য রয়েছে। এসব সদস্যদের ভোটে প্রতি ৩ বছর পর পর ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক ও ৯ জন সদস্য (পরিচালক) নির্বাচিত হন। তারাই সমিতির যাবতীয় কার্য্যাদি পরিচালনা করে থাকেন। এমনকি সমিতির আয়-ব্যয় ও বার্ষিক হিসাব বিবরণী সম্বলিত একটি বই প্রতি সদস্যদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এছাড়া সমিতির অনুকুলে থাকা মিঠা ও লবণ মাঠ, চিংড়ি প্রকল্পসহ হাল-সন ইজারা দেয়া হয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রকাশ্যে মাইকিং করে। বদরখালী একটি অবহেলিত এলাকা হলেও সমিতির ১৫ শত সদস্যদের তিলে-তিলে পরিশ্রমে গড়ে তোলা বদরখালী সমিতি বর্তমানে দক্ষিণ চট্টগ্রামে একটি মিনি শহরে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সমিতির আওতাধীন বসত বাড়ী, লবণ মাঠ, চিংড়ি প্রকল্প, মিঠা পানি প্রকল্প, পরিত্যাক্ত জায়গা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থাপনার জায়গা, খাদ্য গুদামের জায়গা, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির জায়গা, টিএনটি বোর্ডের জায়গা, বি আই ডবিøটি ভবনের জায়গা, স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা, মসজিদ,ফোরকানিয়া, কবরস্থান ও শ^শ্বানের জায়গার মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষ। যারা এ সমস্ত জমি ভোগ দখল করে আসছেন তারাই সরকার বাহাদুরের নীতিমালা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করে আসছেন। সমিতির শেয়ার অনুকুলে যারা দোকান ও ভিটা পায়নি তাদের জন্য খালি থাকা জায়গা ইতিমধ্যে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। তা সংস্কার করে বুঝিয়ে দেয়ার কার্যক্রমও ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। এ সংবাদ জেনে দখলবাজরা বহিরাগতদের সাথে আতাত করে বিভিন্ন কাগজপত্র সৃজন করার অজুহাত দেখিয়ে রাতের আঁধারে দোকান ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যা সমবায় সমিতির আইন ও বিধিমালা পরিপন্থি। সমিতির নীতি-মালা অনুযায়ী আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। অপরদিকে এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম বদরখালী কৃষি ও উপনিবেশ সমবায় সমিতির অব্যাহত ধারাবাহিকতা দেখে ঢাকায় ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বসে বিভিন্ন দপ্তরে সমিতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করে সমিতি থেকে অবৈধ ফায়দা হাসিলে পায়তারা চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, লোকের আড়ালে বসে পত্রিকায় বিভিন্ন সংবাদ প্রচার করে সমিতির পরিচালনা কমিটির মান ক্ষুন্ন করার পাশা-পাশি সমগ্র বদরখালীর ৫০ হাজার জনগোষ্টীর মানক্ষুন্ন করছে। এদিকে সমিতির পর পর ২বার নির্বাচিত সভাপতি আলহাজ¦ নুরুল আলম সিকদার জানান, যারা সমিতির নীতিমালা লঙ্গন করে পত্রিকায় ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে সমবায় আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে পরিচালনা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অপরদিকে সমিতির পর পর ২ বার নির্বাচিত সম্পাদক এ কে এম ইকবাল বদরী থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমিতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বদরখালী সমিতির ৫০ হাজার জনগোষ্ঠীর সম্পদ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। যার ফলে জরা-জীর্ণ অফিস ভেঙ্গে বর্তমানে ৪ তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক মানের ভবন নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া মিঠাপানি ও লবণ চিংড়ি পানির প্রকল্প প্রকাশ্যে নিলাম দেয়ায় অতীতের চেয়ে বর্তমানে কয়েক গুণ বেশী টাকা সমিতি আয় করতে সক্ষম হয়েছে। সমবায় সমিতির নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ সভায় উপস্থিত সভ্যদের মতামতের মাধ্যমে আয়ের টাকা ব্যাংকে রক্ষিত রয়েছে। 
তিনি আরো বলেন, দক্ষ সদস্যদের পরামর্শে বর্তমানে সমিতির আয়ের উৎস বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে অতিতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে এ সমিতির উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ড কয়েক ধাপ এগিয়ে নিতে সক্ষম হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা হাত থেকে শ্রেষ্ট সমবায় প্রতিষ্ঠানের স্বর্ণ পদকসহ সনদ পেয়েছেন। বর্তমানে বদরখালীকে মিনি শহর বললেই চলে।
তিনি কান্নায় বিজড়িত কণ্ঠে বলেন, সমিতি প্রতিষ্ঠায় যারা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বন জঙ্গল আবাদ করে জনবসতি গড়ে তোলে আমাদেরকে মিনি শহর উপহার দিয়েছেন তারা আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তারা রয়েছে ৫০ হাজার জনগোষ্টীর হৃদয়ের মাঝে। সর্বোপুরি আমি ঐ সমস্ত জ্ঞানী ব্যক্তিদের রুহের বিদ্রেহী মাগফিরাত কামনা করছি।
উল্লেখ্য গত ৮ নভেম্বর কুতুবদিয়া পাড়ার মো: সাহাদত হোছাইন ও সাঈদের পাউবো কর্তৃক ইজারা কৃত জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণের পর সমিতির কর্তৃক ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগটি সত্য নয়। 
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •