বিশেষ প্রতিবেদক:
এলাকাবাসীর আন্দোলন ও আদালতের নির্দেশে বাধ্য হয়ে অবশেষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বালিয়াড়ি দখল করে নির্মাণাধীন মার্কেটের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বুধবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে লোহার এঙ্গেল দিয়ে নির্মাণাধীন মার্কেট থেকে টিনের ছাউনি তুলে নেওয়া শুরু হয়।
বিকেলে তিনটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক মার্কেটের টিনের ছাউনিগুলো তুলে নিচ্ছেন। দুই সারি করে নির্মাণাধীন মার্কেটের প্রথম সারির টিন প্রায় তোলা হয়েছে।
সেখানে টিন তুলে নেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে কথা হয় সিভয়েস প্রতিবেদকের। তারা জানান, সকালে জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট মার্কেটের টিন তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। আজ এবং আগামীকালের মধ্যে টিনগুলো তুলে নেওয়া সম্পন্ন হবে।
সুগন্ধা পয়েন্টের কয়েকজন ঝিনুক ব্যবসায়ী জানান, ঝুপড়ি থেকে আধুনিক করার জন্য লোহার এঙ্গেল দিয়ে মার্কেটটি নির্মাণ করছিল জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। এক সপ্তাহ আগে বালিয়াড়িতে লোহার এঙ্গেল পোতার কাজ শেষ হয়। কয়েকদিন ধরে রাতের বেলায় টিনের ছাউনিও দেয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ বুধবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত শ্রমিকরা টিনের ছাউনি তোলা শুরু করে। শুনেছি সবগুলো উচ্ছেদ করা হবে।
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি দখল করে প্রায় ৩০০টি দোকান নির্মাণ শুরু করে জেলা প্রশাসনের বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। বালিয়াড়িতে স্থায়ীভাবে মার্কেট নির্মাণ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় সচেতন মহলে।
বালিয়াড়ি দখল করে সমুদ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণাধীন মার্কেট উচ্ছেদের জন্য গত ৫ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (চট্টগ্রাম) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কক্সবাজারকে আইনি নোটিশ দেয় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ (বেলা)।
ওই নোটিশে আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেণ গ্রহণ করে বেলাকে অবহিত করার জন্য বলা হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি করা হয়।
বেলার নোটিশের পর বুধবার (৭ নভেম্বর) সকাল থেকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা প্রশাসন।
এদিকে, সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশ সংগঠন স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। অবস্থান ধর্মঘট পালন করে কবি মানিক বৈরাগী। সর্বশেষ বেলার আইনি নোটিশ আসায় চরম বেকাদায় পড়ে জেলা প্রশাসন। বির্তকের মুখে শেষ পর্যন্ত মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে জেলা প্রশাসন সরে আসে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •