cbn  

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :

সুন্দর এই পৃথিবী থেকে সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। এই বাক্যটি মানব জাতি থেকে শুরু করে প্রাণী জগতের সকলের জন্য একটি চিরন্তর সত্য প্রবাদ। কিন্তু সেই চলে যাওয়া যদি হয় হৃদয় বিদারক। সবার হৃদয়কে নাড়াঁ দেয়ার মতো ঘটনা। তখন সেই মৃত্যুটি কীভাবে মেনে নেবেন পরিবার, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভানুধায়ী বা প্রতিবেশি। তারপরও সভ্য সমাজে বাস্তবতার এই পরিণতির শিকার হয়েছেন টগবগে যুবক জিহাদুল ইসলাম ওরফে রায়হান চৌধুরী (২২)। সোমবার ভোররাত দুইটার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকায় নিজেদের মুদির দোকানের ভেতরে মশার কয়েল থেকে সুত্রপাত হওয়া আগুনে পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে জিহাদুলের। আগুনে তাঁর শরীর অঙ্গার হয়ে গেছে। গভীরঘুমে অচেতন থাকায় শত চেষ্ঠা করেও জীবন প্রদীপ রক্ষা করতে পারেনি জিহাদুল। হতভাগ্য জিহাদুল কাকারা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের দীঘিরপাড় এলাকার হাফেজ ইউনুছ আহমদের পুত্র। এদিকে যুবক জিহাদুলের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুবক জিহাদুল রোববার রাত রাত দশটার দিকে দোকানের পাশে বন্ধুদের সাথে ব্যাটমিন্টন খেলেন। খেলার পর রাত ১২টার দিকে দীঘিরপাড়ে নিজেদের মুদির দোকানে ঘুমাতে যান। ঘুমানোর আগে দোকানের ভেতরে মশার কয়েল জালিয়ে মশারী টাঙ্গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। এরপর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে কয়েলের আগুন মশারীতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানায়, ঘটনার একপর্যায়ে দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত জিহাদুল বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেন। কিন্তু দোকানের কলাপসিবল গেট (দরজা) ভিতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় জিহাদুল আর বের হতে পারেনি। আশপাশের লোকজনও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। ততক্ষনে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় যুবক জিহাদুল।

রাতে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া জিহাদুলের লাশ উদ্ধার করা করে।

চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জিএম মহিউদ্দিন বলেন, রাতে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে দোকানের ভিতর থেকে দরজা তালাবদ্ধ থাকায় জিহাদুল পুড়ে মারা যায়।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি জানা মাত্র রাত আড়াইটার দিকে থানা পুলিশের একটিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ততক্ষনে আগুনে পুড়ে মারা যায় যুবক জিহাদুল। ভোরে পুলিশ দোকানের ভেতর থেকে মরদেহটির অংশবিশেষ উদ্ধার করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ বিনা ময়না তদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ।

চকরিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুউদ্দিন মো: শিবলী নোমান গতকাল সোমবার সকালে নিহত জিহাদুল ইসলামের বাড়িতে যান। ওইসময় তিনি শোকাহত পরিবার সদস্যদেরকে শান্তনা দেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান। তৎক্ষনিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিহাদুলের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেন। পরবর্তীতে পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি তৈরী করে দেওয়ারও আশ্বাস তিনি।

অপরদিকে চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরীর পক্ষ থেকে নিহত জিহাদুল ইসলামের পরিবারকে ২০হাজার টাকা অনুদানের আশ্বাস দেন কাউন্সিলর মুজিবুল হক।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে দীঘিরপাড় জামে মসজিদে জিহাদুল ইসলামের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশনেন চকরিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নুরুউদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজবাউল হক, লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার, পৌরসভার কাউন্সিলর মুজিবুল হকসহ সর্বস্তরের জনগণ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •