তাওহীদুল ইসলাম নূরীঃ
প্রথম সারির শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তৃতীয় সারির কোন শিক্ষার্থীকেও যদি জিজ্ঞেস করা হয় “কোন কোন বিষয়গুলো তোমার কঠিন মনে হয়?” তাহলে সবাই একযোগে উত্তরে বলে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান। আর ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের ফলে অনুর্ধ ১৫ বছরের শিক্ষার্থীদের একদিনও বিরতি ছাড়াই টানা তিন দিন অংশ নিতে হবে এসকল পরীক্ষায়। ৪ নভেম্বর ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষের দিকে, তখন কোন কারণ উল্লেখ না করে ৩ নভেম্বর জানানো হল যে পরীক্ষাটি স্থগিত করা হল। স্থগিত এই পরীক্ষাটি ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। জেএসসি পরীক্ষার রুটিনে দেখা যাচ্ছে এর আগের দিন অর্থাৎ ৮ নভেম্বর গণিত এবং এর পরের দিন ১০ নভেম্বর বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিরতি ছাড়াই উপর্যুপরি তিন দিনে এই তিনটি কঠিন বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ প্রস্তুুতি নেয়া কখনোই সম্ভব নয়। আর যেখানে এই বছর সংশোধিত সিলেবাসের আলোকে ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় বিষয় একীভূতভাবে পরীক্ষা নেয়া হবে, সেখানে শিক্ষার্থীরা ১০-১২ ঘন্টায় ২৫ নম্বরের গ্রামার এবং ৩০ নম্বরের মুখস্থ অংশসহ ১০০ নম্বরের সম্পূর্ণ বিষয়ে ভালভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে ভাবাটাও বোকামী।
অন্যদিকে বিজ্ঞানের কথা তো সবারই জানা। প্রতি বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এই তিনটি বিষয়েই ফেলের সংখ্যা বেশী থাকে এবং অকৃতকার্যদের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগই এই তিনটি বিষয়ের কোন না কোনটিতে ফেল করে। আর সেই জায়গায় একটা রুটিন প্রণয়নের পরও হঠাৎ কোন বিরতি ছাড়াই এই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা একটানা তিন দিনে নেয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক এবং তা কতটুকু ফলপ্রসূ প্রভাব ফেলবে তা অন্তত একবার ভাবা দরকার। দেখা যাচ্ছে ইংরেজি বিষয়ের পরিবর্তিত সময়সূচিটা আবার পরিবর্তন করলে শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন কষ্ট কম হবে, অন্যদিকে পাশের হার এবং জিপিএ-৫ ও বাড়বে। তাই আজ শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন মহলের একটাই দাবী ” ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষাটি ৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ১৭ নভেম্বর কিংবা এরপরে যে কোন সময়ে নেয়া হোক”।

তাওহীদুল ইসলাম নূরী
আইন বিভাগ (অধ্যয়নরত),
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।
শাহারবিল সদর, চকরিয়া, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •