মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
একজন ওসি হয়েও সাধারণ জীবনযাপন করতেন মোঃ নুরুল আমিন। বেতনের সরকারি একাউন্টটি ছাড়া ব্যক্তিগত কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই এ পুলিশ কর্মকর্তার। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার চিকিৎসা খরচ চলে বন্ধুবান্ধবদের সহযোগিতা ও জমি বিক্রির টাকায়। তিনি হলেন কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার সন্তান। ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বৈরাগিরখীল গ্রামের মরহুম জাগের আহমদের ৩য় পুত্র।
গত শনিবার সবাইকে শোকের সগরে ভাসিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আদর্শবান এ পুলিশ কর্মকর্তা। দীর্ঘ ছয়মাস পর ক্যানসার কাছে জীবনের পরাজয় মানতে হলো তার। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তবে যতদিন আদর্শের নক্ষত্র পৃথিবীতে জ্বলবে ততদিন মানুষের কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে ওসি নুরুল আমিন। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে অফিসার পদে যোগদান করে তিনি। বিভিন্ন থানায় কর্মরত থাকার পর সর্বশেষ ছিলেন বান্দরবান জেলা পুলিশের গোয়ান্দা (ডি.এস.বি) শাখার ওসি। এ বিশ বছর তার চাকরি জীবনে সততা দিয়ে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আইনের পবিত্র খাঁকি পোশাক গায়ে রেখে নীতিকে বিসর্জন দিতে পারেননি কখনো। খবর নিয়ে জানা গেছে, তার পূর্বের কর্মস্থলে নীতিনৈতিকতা বিসর্জন না দেওয়ায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তি।
ওসি নুরুল আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, তার কোন ব্যাংক একাউন্ট ছিলানা। বেতনের টাকায় নিজের সংসার খরচ ও মরহুম ভাইয়ের সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতেন। মরহুম ওসি’র ভাইপো মোঃ এখলাস জানায়, ২০০৭ সালে তার পিতা মৃত্যুর পর পিতৃস্নেহ দিয়ে লালনপালন করতেন তিনি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাঃ আবদুল আওয়াল ওসি নুরুল আমিন মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নুরুল আমিন ছিলেন অত্যন্ত মহৎ ব্যক্তি। আমার অত্যন্ত কাছের লোক ছিলেন তিনি। তার ক্যানসার মাত্রা তীব্র হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অবশেষে ওখানেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •