মাহাবুবুর রহমান :
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে কক্সবাজারের ২ উপজেলার ৯২ হাজার গ্রাহক। কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ব্যবস্থাপনায় কক্সবাজারের সদর উপজেলা ও টেকনাফ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ এখন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে। ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই দুটি উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রম উদ্বোধন। সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া দারুন খুশি স্থানীয় জনগন।
এছাড়া এসব এলাকাতে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য ইতি মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান অনেকে। এদিকে পর্যায় ক্রমে পুরু জেলাতেই সার্বক্ষনিক বিদ্যূৎ সুবিধার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড এলাকার রাজারছড়া গ্রামের আবুল হোসেন রাজু বলেন,আগে বিদ্যুতের জন্য আমাদের পরিস্থিতি খুবই নাজুক ছিল। কয়েক বছর আগেও এমন সময় গেছে বিদ্যুৎ না থাকাকে রাতে ঘুমাতে পারিনি,দিনের বেলায় গোসল করতে পারিনি,এমনকি ব্যবসা বানিজ্যও লাটে উঠার অবস্থা হয়েছিল কিন্তু এখন পরিস্থিতি বেশ উন্নত, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ থাকে। এতে নাগরিক জীবনে বেশ গতি ফিরেছে আমি মনে করি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এভাবে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়া এটা বর্তমান সরকারের অনেক বড় সফলতা।
টেকনাফ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন,কয়েক বছর আগেও মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য নির্দিস্ট দোকানে যেতে হতো টাকার বিনিময়ে মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য। আর সন্ধ্যা হলে বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর ব্যবসায়িরা প্রতিটি দোকানে একটি করে বাল্ব জালিয়ে ১০ টাকা করে নিত। কিন্তু এখন সেই দিন নেই দিন বদলে গেছে। শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দিয়েছে মানুষের জীবন মান উন্নয়ন করেছে। টেকনাফে সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সুবিধা থাকায় এখানে ইতি মধ্যে অনেকে জমি কিনে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে এতে টেকনাফের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো ভাল হবে।
এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির এজিএম উদয়ন দাশ গুপ্ত বলেন, টেকনাফ উপজেলাতে এখন শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়ে গেছেএখানে কোন গ্রামে বিদ্যুৎ বিহিন নাই। এখানে ৩৮ হাজার মিটার চলমান আছে আরো বকেয়ার কারনে সংযোগ বিছিন্ন সহ আবেদন করা সহ ৪৪ হাজার গ্রাহক আছে।তিনি বলেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা হিসাবে আমি নিজেও গর্বিত আগে মানুষ বিদ্যুতের জন্য ফোন করতো বা অফিসে আসতো এখন আর কেই বিদ্যুৎ নাই সেই অভিযোগ করেনা। তবে এখানে অনেক বড় বড় প্রকল্প চলছে সে জন্য সেখানে সংযোগ দেওয়ার সময় অথবা কাজ করার সময় বিদ্যূৎ কিছুক্ষনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়।
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ঘাটকুলিয়া পাড়ার কৃষক শহিদুল ইসলাম বাবুল জানান,আগে বিদ্যুতের দেখা পাওয়া খুব মুশকিল ছিল,২৪ ঘন্টার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬/৭ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যেত। বিশেষ করে আমাদের মাঠে পানি দেওয়ার সময় হলে পাম্প চালানোর জন্য বিদ্যুৎ দরকার হলে পাওয়া যেত না। এতে কৃষি কাজ করতে খুব সমস্যা হতো কিন্তু এখন সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ থাকে এতে কৃষি কাজের জন্য খুব ভাল হচ্ছে।একই এলাকার সিরাজউল্লাহ বলেন,আগে পল্লী বিদ্যুতের একটি মিটার নিতে অনেক টাকা খরচ হতো,দালাল ধরতে হতো অনেক ঝামেলার কাজ ছিল এছাড়া ট্রান্সফরমারের সমস্যা হলে আমাদের টাকা দিয়ে ঠিক করতে হতো এখন কিন্তু সেই সমস্যা আর নেই এখন আবেদন করার সাথে সাথে মিটার বাড়িতে চলে আসে এবং তাদের আচার ব্যবহারও আগের চেয়ে ভাল হয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ খুব খুশি।
সদর উপজেরার ঈদগাও এলাকার কলেজ ছাত্র শফিউল আলম বলেন,কয়েক বছর আগে আমার পরিবার থেকে ২ লাখ টাকা পূজি দিয়ে ঈদগাও বাজারে একটি ফটোকপি এবং কম্পিউটার কম্পোজের দোকান দিয়েছিলাম। কিন্তু তখন বিদ্যুতের অবস্থা এত খারাপ ছিল যা বলার মত না,সারা দিনে ২/৩ ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকতো না।এতে দোকান ভাড়াও উঠানো মুশকিল হয়ে যেত। ফলে কিছুদিন পরে লোকসানের কারনে দোকান সহ জিনিস পত্র বিক্রি করে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সেই অবস্থা নেই বর্তমানে দেখছি বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বেশ ভাল এটা নিশ্চই সরকারের সফলতা। তবে এখনো মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অনিয়মের কথা শুনা যায়।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ আজম মজুমদার বলেন,কক্সবাজারের টেকনাফ এবং সদর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষনা করা হয়েছে। ১ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। এতে সদর উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা ৪৭ হাজার ৮৪৬ এতে খরচ হয়েছে ১২৫ কোটি টাকা আর টেকনাফ উপজেলার গ্রাহক ৪৪ হাজার ৫৬৪ এতে খরচ হয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। তিনি বলেন পল্লী বিদ্যুতের অভাবনিয় উন্নয়ন হয়েছে ৩ বছর আগে বিদ্যুৎ পেতাম ২৫ মেঘাওয়াট এখন পায় ৭২ মেঘাওয়াট,৩ বছর আগে মিটার সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার এখন হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার। সাবষ্টেশন ছিল ৯ টি এখন হয়েছে ১২ টি আগামী জুনের মধ্যে হবে ২১ টি। সব মিলিয়ে আমাদের ভাল লাগার বিষয় হচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষ এখন বিদ্যুৎ নিয়ে সন্তুস্ট।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •