সিবিএন ডেস্ক:
আগামী ১৫ নভেম্বর ৪৮৫ পরিবারের দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা মিযানমারে ফেরত যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত জাতিসংঘের সংস্থা একযোগে কাজ করছে।
জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্যান্য সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরের ১৫ থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হবে।’
কতজন ফেরত যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংখ্যা (নাম্বার) নিয়ে কাজ করছি। আমরা তাদের ২২ হাজারের বেশি একটি লিস্ট সরবরাহ করেছি যাচাই-বাছাই করার জন্য। বেশ কিছু ফিরে যাবে এই আশায় আমরা একটি নাম্বার নিয়ে কাজ করছি। ফিরে যখন যাবে তখন নাম্বার শেয়ার করা যাবে।’
নির্বাচনের আগে আরও ব্যাচ যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আরও ব্যাচ যাবে। প্রক্রিয়া শুরু হলে আশা করি এটি কন্টিনিউ করবে।’
সচিব বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি লম্বা। তবে শুরু হলে ধাপে ধাপে এটি চলতে থাকবে।
১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন শুরু করার বিষয়ে এম শহীদুল হক বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে গত সপ্তাহের আলোচনায় উঠে এসেছে— একটি তারিখ থাকলে সবার জন্য ভালো হয়। তারাই (মিয়ানমার) ১৫ তারিখ প্রস্তাব করেছে। এর একটি কারণ আছে। গত বছরের ২৩ নভেম্বর আমরা যে চুক্তি সই করেছি সেখানে বলা আছে লিস্ট সরবরাহের দুই বছরের সপ্তাহের প্রকৃত প্রত্যাবাসন শুরু হবে। সেই বিবেচনায় ১৫ নভেম্বর একটি ভালো তারিখ।’
জাতিসংঘের সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনও দূরত্ব আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি মোটেই ঠিক নয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে এবং আজকেও বাংলাদেশে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার যে প্রধান তার সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি এবং মিয়ানমারও করেছে। প্রথম থেকে জাতিসংঘ প্রত্যাবাসন বিষয়ে সম্পৃক্ততা রয়েছে।’
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল যখন কক্সবাজার ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে তখন জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে দ্রুত প্রত্যবাসনের জন্য সবার সঙ্গে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এম শহীদুল হক বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে যে গ্রুপের ফিরে যাওয়ার লিস্ট সরবরাহ করেছি, একই দিনে জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থাকেও সেই লিস্ট দেওয়া হয়েছে এবং লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।’
এখন পর্যন্ত ভারত রাখাইনে ২৮৫টি বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে এবং চীন একহাজার বাড়ি তৈরির সরঞ্জাম দিয়েছে বলে তিনি জানান।
সচিব বলেন, জিরো পয়েন্টে যে সাড়ে চার হাজার রোহিঙ্গা আছে, তাদের বাড়িঘর ঠিক আছে কিনা তা দেখতে মিয়ানমার রেডক্রসকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। যাতে করে সেখানকার লোকজন বাড়ি ফিরে যেতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •