cbn  

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার ॥


কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতের আমতলীর ছড়া মোহনায় গড়ে তোলা ৫০ একর ঝাউবাগানের চারাবৃক্ষ বিবর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। সৈকতের পাশ্ববর্তী পাহাড়ে লাগানো আরো ২৫ একর জমির চারাগাছও একইভাবে মরে যাচ্ছে। গত প্রায় পক্ষকাল আগে বনকর্মীরা অজ্ঞাত কারণে খরার সময় সৈকতের ঝাউবাগানে ও পাহাড়ের এলআর বাগানে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করার পরপরই ঝাউবাগানের চারা গাছগুলো বিবর্ণ হয়ে মরে যেতে শুরু করে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তবে বিষয়টি ‘স্যাবোটাজ’ হতে পারে বলে মনে করেন কক্সবাজারের দক্ষিণ বিভাগের বনরক্ষক।
গত জুনে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ কোটি টাকা ব্যয়ে হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতের আমতলী ছড়া মোহনায় অর্ধলক্ষাধিক চারা লাগিয়ে ঝাউবনটি সৃজন করে। একই সময়ে সমুদ্র তীরবর্তী আরো ২৫ একর পাহাড়ে ২৫ হাজার নানা জাতের চারা লাগানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতের আমতলী ছড়া মোহনায় এক যুগেরও বেশি সময় আগে সাগরে বিলীন হওয়া কয়েকশত একর চর জমি গত কয়েক বছর আগে পূনরায় জেগে ওঠতে শুরু করে। ওই চরের ৫০ একর জমিতে গত ২০১৭-১৮ অর্থসালে কোটি টাকা ব্যয় করে ঝাউবাগান গড়ে তুলে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ। এখানে অর্ধলক্ষাধিক ঝাউ গাছের চারা লাগানো হয়। গত জুনে লাগানো ওই চারাগুলো ডালপালা মেলে আরো হৃষ্টপুষ্ঠ ও বড় হয়। এরমধ্যে অনেক চারা ৫/৬ ফুট দীর্ঘও হয়। একই সময়ে সৈকতের তীরবর্তী আরো ২৫ একর পাহাড়ে ২৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ লাগানো হয়। এরমধ্যে সেগুণ, গর্জন, গামারীও রয়েছে। কিন্তু গত প্রায় পক্ষকাল আগে খরার সময় স্থানীয় হিমছড়ি বিট কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বনকর্মীরা ৭৫ একর বাগানে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে। অথচ এর বেশ কয়েকদিন আগে থেকে বর্ষণ বন্ধ থাকায় ওই সময় চর ও পাহাড়ের জমি ছিল শুকনো।
কৃষিবিদরা বলেন, নিয়মিত পানি সেচ দেয়া হয় না এমন জমিতে খরা বা টানা রোধের সময় সার প্রয়োগ করা যায় না। সার দিলে চারা গাছের ক্ষতি হয়। এ জন্য বৃষ্টির সময় সার প্রয়োগ করা উচিৎ, যাতে সেই সার বৃষ্টির পানির সাথে মাটিতে মিশে যায়।
স্থানীয় আমতলী ছড়া এলাকার বাসিন্দা কৃষক মাহবুব ও হাবিব বলেন, খরার সময় সার প্রয়োগের বিষয়টি আমাদের কাছে খটকা লাগায় বিষয়টি বনকর্মীদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা উল্টো আমাদের মামলার হুমকী দেয়। বিষয়টি রহস্যজনক বলে দাবি করেন তারা।
হিমছড়ি সৈকত ও পাহাড়ে অকালে ইউরিয়া সার প্রয়োগের কারণ সম্পর্কে জানতে হিমছড়ি বিট কর্মকর্তা ও সদর রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার তারিকুর রহমানের মোবাইল ফোনে বার বার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) হক মাহবুব মোর্শেদ ঘটনাটি ‘স্যাবোটাজ’ (নাশকতা) হতে পারে বলে মনে করেন।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) হক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, গত একমাসের মধ্যে বনবিভাগে সার প্রয়োগের কোন বাজেট ছিল না। তবে দুই মাস আগে চারাগাছে মড়ক দেখা দিলে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়।
তিনি বলেন, বনবিভাগের গড়ে তোলা ঝাউবাগানের পাশে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে সৈকতে ব্যবসা করছে একটি প্যারাসেইলিং কোম্পানী। সেখানে তারা নানা স্থাপনাও নির্মাণ করেছে। আমরা তা উচ্ছেদ করেছি। এ কারণে তারা বিষয়টি ছড়াতে পারে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ‘ফানফেস্ট বীচ স্পোর্টস’র ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, গত চার বছর আগে হিমছড়ি আমতলী ছড়ার জেগে ওঠা চরে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ব্যবসা শুরুর পর আমরা নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজনে অনেক চারা গাছ লাগিয়ে বাগান গড়ে তুলেছি। বনবিভাগও গত কয়েক মাস আগে চারা লাগিয়েছে। এতে আমাদের লাভই হয়েছে। আমরা কেন ‘স্যাবোটাজ’ করতে যাব।’ অদক্ষ বনকর্মীরা গাছে অকালে সার প্রয়োগ করে বাগান ধ্বংস করেছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •