বিশেষ প্রতিবেদক:
দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে এখন অনেকটা কোনঠাসা মাদক কারবারিরা। অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্নরক্ষায় এলাকা ছেড়েছে। জীবন বাঁচাতে বেশকিছু ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
তবে শহরের খ্যাতনামা ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযান চোখে পড়েনি। কক্সবাজার শহরের প্রায় মাদক কারবারিরা অনেকটা নিরাপদে রয়ে গেছে।
কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীতে আলিশান বাড়ি বানাচ্ছে সাহেদুল ইসলাম প্রকাশ ভুলু নামের ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিচরণ প্রকাশ্যে হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীর সমাজ সেবক হাজী নুর আহাম্মদ বলেন, ‘ইয়াবা আমাদের দেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ওঠতি যুবকরা মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। পাহাড়তলীতে ইয়াবা কার বাড়িটা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা গডফাদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও মূলত পাহাড়তলীতে কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। এতে এলাকার যারা স্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়িদের দৌারাত্ব আরো বেড়ে যাচ্ছে। আর তারা দিন দিন নতুন উঠতি বয়সের ছেলেদের দিয়ে ইয়াবা চালান করছে। এবং শত শত যুবক ইয়াবা সেবন করছে। আমরা এলাকার মানুষ হিসাবে ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী করছি’।
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়তলীর সব চেয়ে বড় ইয়াবা গডফাদার সাহেদুল ইসলাম প্রকাশ ভুলু। সে ৬ বছর আগে সর্বপ্রথম প্রকাশ্য ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। মাঝে মধ্যে তার বাড়িতে পুলিশের অভিযান হলেও আটক হয়নি। যার ফলে শূন্য থেকে বর্তমানে কোটিপতি ভুলু অনেকটা লেশহীন ভাব।
বর্তমানে পাহাড়তলীতে ৬-৭ গন্ডা জমির উপর তার তিন তলা বাড়ি গড়ে উঠেছে। আরো অনেক সহায় সম্পদ রয়েছে তার। ভুলুর আত্নীয় স্বজনও ইয়াবার কল্যানে অনেকে লাখপতি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কিছুদিন আগেও যারা দোকানে একটি চায়ের দিতে পারতো না তারা এখন মোটর সাইকেল নিয়ে ঘুরে। টাকার বাহাদুরী করে।
ভুলুর আলিশান বাড়ির বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটে থাকে টেকনাফের বাসিন্দা। ভাড়ায় থাকে রোহিঙ্গারাও।
পাহাড়তলীবাসীর অভিযোগ, ভুলুর পিতা একসময় মিয়ানমারের বাসিন্দা ছিল। ১৯৯০ সালের দিকে প্রথম থেকে তার পিতা জহির হাজীর কার্যকলাপ ছিল বেপরোয়া। ভুলুসহ তার অনান্য ছেলেরাও মাদকাসক্ত। পাহাড়তলীতে সর্বপ্রথম যুব সমাজের হাতে মাদক পৌঁছে দেয় ভুলু। তার সহযোগী হিসাবে আরো কয়েকজন রয়েছে।
স্থানীয় প্রভাবশালী শামসুর ভাই শহিদুল্লাহ, ছেলে নিশান, ইছুলুঘোনার আরিফসহ অনেকে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। তারাই বিভিন্ন উঠতি বয়সের ছেলেদের মাদকের কাজে ব্যবহার করে।
স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম বলেন, এলাকাটি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত হওয়াতে কেউ কাউকে নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা। ইয়াবা ব্যবসা করে অনেকে এখন কোটিপতি। টাকার জোরে তারা আর কাউকে মানতে চায়না। ইয়াবার বিরুদ্ধে মসজিদে বক্তব্য দিলে ফোনে হুমকি দেয়। প্রতিবাদকারীদের নানানভাবে নাজেহাল করার চেষ্টা করে। দ্রুত ইয়াবা আগ্রাসন বন্ধ করা না গেলে সামনের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হতে পারে বলে ওই মাওলানা মনে করেন।
এ ব্যপারে কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলার আশরাফুল হুদা জামশেদ বলেন, ‘পাহাড়তলীতে একটি সিন্ডিকেট আদিকাল থেকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তারাই এখন ছোট ছোট মাদক ব্যবসায়িদের নিয়ন্ত্রন করে। আমরা এসব মাদক ব্যবসায়িদের চিরতরে উচ্ছেদ চাই। একই সাথে দ্রুত মাদক ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য আহবান জানাচ্ছি।
এ ব্যপারে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সোমেন মন্ডল বলেন, ‘কোনো মাদক ব্যবসায়ি ছাড় পাবে না। পর্যায়ক্রমে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে’।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •