মাদক ও মমতা

প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:১৪

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


cbn  

মাস্টার সাইফুল ইসলাম


অাবির (ছদ্মনাম) নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরে বেড়ে উঠা এক সাধারণ যুবক। বাবা সুবেদ অালী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি। মাতা সুফিয়া বেগম একজন গৃহিণী। মা-বাবা,ভাই-বোন মিলে পরিবাবের সদস্য সংখ্যা পাঁচ। খুব সুন্দরভাবে চলছিল তাদের জীবন গাড়ী । এর মধ্যে হঠাৎ বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের পরিবারে আস্তে আস্তে অভাবের দরজা কড়া নাড়তে লাগল। আবির তখন কিন্তু নিম্ম মাধ্যমিকে পড়ুয়া ফুরফুরে এক যুবক মাত্র। বাবা অসুস্থতারর পর পরিবারের হাল ধরতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্কুল থেকে অনাকাঙ্খিত বিদায় নিতে হয় তাকে । যদিও তার ইচ্ছে ছিল স্কুল পড়ুয়া অপরাপর ছেলেমেয়েদের মতো পড়ালেখা চালিেয় গিয়ে একজন প্রকৃত মানুষ হওয়ার মনোবাসনা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার সেই স্বপ্ন বাস্তবে পূরন হওয়ার পূর্বেই সমাপ্তি ঘটল। যাক পরিবারের স্বার্থে আবির তার ভাগ্যকে মেনে নিল। আর এর মধ্যে দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রিয় বাবার মৃত্যু হলো। আবিরদের মাথার উপর থেকে পিতৃত্বের ছায়া নেমে গেল। পিতৃবিয়োগের পর পুরোপুরিভাবে পরিবারের হাল ধরতে আবির নেমে পড়ল জীবনের কঠিন সংগ্রামে। মা ও এতিম ভাই-বোনদের পেঠের ও সুখের কথা বিবেচনা করে কষ্টকে অালিঙ্গন করতে দ্বিদ্বা করেন নি। পরিবারের বড় সন্তান হওয়াতে হাল ধরতে গিয়ে নতুন নতুন অভিজ্ঞার সম্মুখীন হতে হলো তাকে। কারণ বাবা থাকতে কখনো আবিরকে এসব অভিজ্ঞার মুখাপেক্ষী হতে হয়নি। এতকিছুর পরও আবির বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া যুবক। মাকে স্বামীর ও ভাইবোনদের বাবার অভাব কখনো অনুভূত হতে দেয়নি আবির। মায়ের সম্মতিতে বিয়ে করেন পছন্দের মেয়েকে। তাদের ঘরেও দুইটি ফুটফুটে সন্তানের আগমন। আবিরের কষ্টের পরিমাণটা একটু বেড়ে গেল। কারণ পরিবাবের সদস্য সংখ্য বেড়ে যাওয়াতে ।তারপরেও মোটামোটি ভাবে চলছিল তাদের সুখের সংসার। হঠাৎ আবিরের জীবনের ছন্দপতন শুরু হলো। তার অন্যতম কারণ মাদক। খারাপ বন্ধুদের খপ্পরে পড়ে আস্তে আস্তে মাদক সেবন করতে শুরু করল সে। অত:পর সুখের পরিবারে নেমে আসল দুঃখের যাত্রা। যে সন্তান স্বামীহারা গর্ভধারিণী মাকে কখনো কষ্ট নামক যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে দেননি। সে সন্তান এখন মাদক সেবনের মাধ্যমে মাকে প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছেন মানসিক যন্ত্রণা। আর পরিবারের ভাই বোনদের দিকে খেয়াল নেই। নেই নিজ স্ত্রী ও সন্তানদের দিকেও। বাবা ও নিজের কষ্টে অর্জিত সবকিছু বেচা শুরু করে দেন মাদকের টাকার জন্যে। বাড়ি থেকে বের করে দেয় মা, ভাই বোন ও নিজ স্ত্রীকেও। প্রিয় সন্তানের এমন অবস্হা দেখে জননী মায়ের মনতো কিছুতে মানে না। তবে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল সন্তানকে বাঁচাতে হবে এবং বাঁচাতে হবে পরিবারকে। অবশেষে কঠিন সিদ্ধান্ত নিল আবিরের মা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সন্তানকে সোপর্দ করল। একদিকে সন্তানকে সোপর্দ অন্যদিকে মায়ের দু’নয়নে অশ্রুজল। সে এক নিদারুণ অাবেগময় মুহূর্ত। তদুপরি মায়ের চিন্তা হলো এই,সন্তান বাঁচলেতো তাঁর পরিবার বাঁচবে। তবে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর কাছে আবিরের মায়ের শেষ অনুরোধ ছিল,তারা যেন তাঁর সন্তানকে মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা না দেয়। তিনি বলেন, আমার ছেলে খুবই অসুস্থ । আমার অসুস্থ সন্তানকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনুন। তিনি আরো বললেন,আমি কোনদিন আমার সন্তানেরর গায়ে হাত তুলিনি। আপনারা যদি তাকে যন্ত্রণা দেন, আমি না দেখলে আমার অন্তর কিন্তু ঠিকই জেনে যাবে। কারণ আমি মমতাময়ী মা আমার ছেলেকে খুব বেশি ভালোবাসি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •