আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:

ব্যাপক সেনা অভিযানের মুখে টিকতে নাপেরে অবশেষে অপহরণের ৭ ঘন্টা পর অপহৃতা চবি শিক্ষার্থী রিমি চাকমাকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়েছে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার সময় দীঘিনালা-বাঘাইহাট সড়কের শুকনাছড়ি এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিলো অপহরণকারি সন্ত্রাসীরা। অপহরনের পর এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার পাশাপাশি ব্যাপক অভিযানে নামে বাঘাইহাট জোনের সেনা সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বাঘাইহাট জোনের মেজর বাশার এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সংশ্লিস্ট্য সম্ভাব্য সকল স্থানে ব্যাপক তল্লাসী শুরু করে। এসময় নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারনে সন্ত্রাসীরা কোনঠাসা হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে রাত দশটার সময় ১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে শুকনাছড়িতে স্নেহ কুমার চাকমার বাড়ির কাছে উক্ত শিক্ষার্থী রিমি চাকমাকে ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা রিমি চাকমাকে অপহরণের পরপরই বাঘাইহাট জোনের টু-আইসি মেজর বাশারের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নামে। ব্যাপকহারে অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে তারা স্নেহ কুমার চাকমার বাসার কাছেই শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয়। পড়ে তাকে সেখান থেকে নিয়ে এসে স্থানীয় বাসিন্দা দয়াধন চাকমা, মাধুরী চাকমা ও সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমার হাতে রিমি চাকমাকে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (০১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টায় দীঘিনালা-বাঘাইহাট সড়কের শুকনাছড়া নামক এলাকা থেকে রিমি চাকমা(২৩) কে জীপগাড়ী থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। অপহৃত রিমি চাকমা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান ৪র্থ বর্ষের ১৩ জনের একটি গ্রুপ ২দিনের জন্য সাজেক ভ্রমনে যাচ্ছিল। গাড়িতে থাকা পর্যটক দিপ্ত রায় বলেন, আমরা সহপাঠীরা মিলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাজেকের উদ্দেশ্যে আসি। আমরা সকলেই পরিসংখ্যান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। খাগড়াছড়ি দিঘীনালা পার হওয়ার পর মাঝপথে আমাদের গাড়ি দাঁড় করিয়ে তিনজন উপজাতি সন্ত্রাসী রিভলবার তাক করে গাড়ি থেকে আমাদের সহপাঠীকে নামিয়ে নিয়ে যায়। রিমি চাকমার বাড়ি কোথায় জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন তার বাড়ি দিঘীনালায়। এরপর তাকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •