নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিল্লির মাওলানা সাদ পন্থিদের ইজতেমার বিরুদ্ধে কক্সবাজারে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে তাবলীগ জামাতের লোকজন। বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে শহরের গোলদীঘিরপাড়স্থ তাবলীগের মরকাজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। কক্সবাজারের ইতিহাসে তাবলীগ অনুসারীদের প্রথম প্রকাশ্য বিরোধের বিক্ষোভ মিছিলটি পুলিশী পাহারাায় স্টেডিয়াম সড়ক, শহীদ সরণি হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্ত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড নিয়ে কয়েক হাজার তাবলীগের অনুসারী বিক্ষোভ করে। আদালতপাড়ায় আগত লোকজন তাবলীগ জামাতের হঠাৎ এমন বিক্ষোভ দেখে হতভম্ব হয়ে যায়। অনেকে বিরুপ মন্তব্যও করে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্ত্বরে হাজারো বিক্ষোভকারী সাদপন্থিদের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও আগামী ৮, ৯, ১০ নভেম্বর ইজতেমা বন্ধ করার দাবী তুলে।
এ সময় আলেম ওলামা ও তাবলীগ জামাতের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনকে বিভিন্ন দাবী দাওয়া তুলে ধরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক তাদের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় ১ ঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর কক্সবাজারে ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত হয়। ইজতেমা সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- মুফতি মুরশেদুল আলম চৌধুরী, মাওলানা মোসলেম উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল মান্নান, মুফতি মাওলানা আলি আহমদ, হাফেজ আব্দুল হক, মাওলানা মোহসেন শরীফ, মুফতি সাঈদুল ইসলাম, মাওলানা আনোয়ার আলম, হাফেজ শামসুল হক, মাওলানা সাইফুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুছ ফরাজি।
দিল্লির সাদ পন্থিরা ৮, ৯, ১০ নভেম্বর শহরের কবিতা চত্ত্বরে ইজতেমা আয়োজন করে। তাদের সেই আয়োজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় দেওবন্দপন্থি তাবলীগ জামাত। মূলধারা দাবীদার এই গ্রুপটি কক্সবাজারের মুরব্বিদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে। এদিকে, হঠাৎ করে তাবলীগের মধ্যে এমন বিভক্তি সাধারণ মানুষকে বিস্মিত করেছে। তাদের অবস্থা দেখে খোদ প্রশাসনও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •