নিউজ ডেস্ক:

বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সংলাপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বাংলাদেশে ইইউর হেড অফ ডেলিগেশন রেন্সজে তেরিংক বলেন, ‘এটা নির্বাচনের জন্য একটি ভালো অগ্রগতি।’

সম্প্রতি জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইইউ দূত একথা বলেন। এ ছাড়া নির্বাচনে ইইউর পর্যবেক্ষক দল না পঠানোর বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করেন তিনি।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ সম্পর্কে ইইউ দূত বলেন, ‘আমার পক্ষে একজন দর্শক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন। প্রত্যেক পক্ষেরই তাদের নিজস্ব বক্তব্য আছে। কিন্তু আমার কাছে যেটা ইতিবাচক মনে হয়েছে যে বিরোধী দলগুলো সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসছে। এটা অনেকে ভালো একটি অগ্রগতি। এই সংলাপকে আমরা স্বাগত জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এক বছর হলো বাংলাদেশে এসেছি। তখন থেকেই নির্বাচনের কথা শুনছি। শুনেছি বিক্ষোভ হবে। রাস্তায় প্রতিবাদ হবে। এখন নির্বাচনের সময় এসে গেছে। আমরা নির্বাচনকে স্বাগত জানাই। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনকে স্বাগত জানাই। বিরোধীরা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করি এবং বিশ্বাস করি বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য এবং স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। আমরা গভীর আগ্রহের সঙ্গে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছি।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল না পঠানোর বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করে বলেন, ‘একটি কার্যকর নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানো বড় একটি কাজ। এতে অনেক সদস্য থাকেন এবং এর প্রস্তুতি নিতে মাসের পর মাস সময় লাগে। এটা অনেক ব্যয়বহুল, সময় সাপেক্ষ এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এবার বাংলাদেশের জন্য আমাদের পক্ষে এটি করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছি না। আমাদের দুজন প্রতিনিধি থাকবেন, তারা দেখবেন। আপনাদের স্থানীয় পর্যবেক্ষক থাকবেন। তারা হয়তো অনেক ভালো কাজ করবেন। তারা দেখবেন আসলে নির্বাচনের সময় আসলে কী ঘটে।’

ইইউ কীসের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষক পাঠায়- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে হয়। পৃথিবীর অনেক দেশে নির্বাচন হয়। আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে কোথায় পর্যবেক্ষক দল পাঠানো অর্থপূর্ণ হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কাজটি করার জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং নিরাপত্তা দরকার। এ ছাড়া আরও অনেক বিষয় থাকে। বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে শুধু আমরা কেন, সারাবিশ্ব নজর রাখছে। কারণ এই নির্বাচনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১০ কোটি ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দেবেন, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •