হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :

রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং পাঁচ বারের নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী গুরুত্বর অসুস্থ। হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে তাঁর বড় ছেলে শাহারিয়ার ওয়াহেদ মুঠোফোনে জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী অসুস্থ হয়ে পড়লে কক্সবাজার জেনারেল হসপিটালে ডা.লুৎফুর নাহারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। অবস্থার অবনতি দেখে তিনি তাঁকে গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় রেফার করেন। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে আকাশপথে তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীকে ঢাকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালে রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য নানা রকম পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। জেলাবাসীর কাছে বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন শাহারিয়ার ওয়াহেদ।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী ১৯৪৯ সালের ৩০মে গর্জনিয়া ইউনিয়নের স¤্রান্ত মুসলিম চৌধুরী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। প্রয়াত সিরাজুদৌল্লাহ চৌধুরী ও গোল চেহের বেগম তাঁর বাবা-মা। তিনি রামু খিজারি আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও পরে ¯œাতক পাশ করেন। প্রয়াত চাচা রিয়াজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে রাজা মিয়া চৌধুরীর হাত ধরে রাজনীতিতে হাতেকড়ি তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীর। ১৯৬৪ সনে কামাল হোসেন চৌধুরী ও নজরুল ইসলাম চৌধুরীর মাধ্যমে ছাত্রলীগে যোগদেন তিনি।

১৯৬৯/৭০ সনে কক্সবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং চট্টগ্রাম জেলার অন্যতম সদস্য, ১৯৭০/৭১ সনে ছাত্রলীগ মনোনীত কক্সবাজার কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী। ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে কক্সবাজার সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে বাংলাদেশ খঁচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা প্রথম তিনিই উত্তোলন করেছিলেন। এর পর মুক্তিযুদ্ধের ছাত্র সংগঠক হিসাবে ভূমিকা পালনের পাশাপাশি ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে- দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এ প্রবীন রাজনীতিক।

১৯৭৩ সন থেকে ২০১৬ সনের মধ্যে তিনি পাঁচ বার গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এখনো তিনি শত বাঁধা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লাড়াই অব্যাহত রেখেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •