কাব্য সৌরভ হাসান শিবলু


২০১৫ সাল ১০ ই মার্চ।ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে একদল সাদা পোশাকি বাহিনী বাংলাদেশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে উঠিয়ে নিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম স্তম্ভ দলীয় বিব্রিতির শব্দ বুলেট নিক্ষেপকারী সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সালাহ্ উদ্দীন আহমেদকে।তার পরের ইতিহাস সবারই জানা,গুম নামক ছোট্ট শব্দের ছাদরে আবদ্ধ করে দিয়েছে বাংলার আকাশসমান একজন রাজনৈতিক সু-পুরুষকে।

হতাশা,ক্লান্তি জর্জরিত দুঃচিন্তা বাসা বাঁধে মনের মনিকোঠায়।একজন সালাহ্ উদ্দীন খোঁজে দিশাহারা একটি রাষ্ট্রের মানুষ,সংগোপনে কাঁদে রাষ্ট্রতন্ত্র।একমাত্র রাষ্ট্রই জানে একজন সালাহ্ উদ্দিন কতোবড় বাতিঘর।অন্ধকারে চেয়ে যায় বাংলার আকাশ।
অন্ধকারাচ্ছন্ন গাঢ় থেকে প্রগাঢ় হয় কক্সবাজার।হাহাকার আর হতাশার ভষ্ম উড়ে কক্সবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চল।অপেক্ষা থেকে প্রতিক্ষার রূপ নেয় একজন সালাহ্ উদ্দীনকে ফিরে পাওয়ার শূন্যতা।প্রতিক্ষা কখনো জানান দেয়,নিভে গেল কি কক্সবাজারের বাতিঘর?

মসজিদে মিলাদ হলো।দোয়া মাহফিল করে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনায় মসগুল ছিল একজন সালাহউদ্দীন এর সন্ধান পেতে।অবশেষে ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতে মেঘালয় রাজ্যের শিলং শহরে মানষিক ভাবে ভারসাম্যহীন ভাবে আমাদের প্রিয় বাতিঘর আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে পাওয়া যায়।মেঘালয় রাজ্যের পুলিশ বিনা অনুমতিতে ভারত প্রবেশের দায়ে আনিত মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়।সে থেকে নিজ মাতৃভূমির মায়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বৃহত্তর কক্সবাজারের অভিভাবক।যেদিন তাঁর খোঁজ মিলেছিল,সেদিন আবেগ আপ্লুত ক্রন্দনরোলে কম্পিত হয়েছিল কক্সবাজার।বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভিন্নতার রংধনু এঁকেছিল বিএনপি।

আজ মহান সু-খবরে সুভাষিত দিন,বে-কসুর খালাসে মুক্তি পেল আলহাজ্ব সালাহ্ উদ্দীন।বাংলাদেশের রাজনীতির সংকট মুহুর্ত্বে বিএনপি’র অন্যতম মুল স্তম্ভ আলহাজ্ব সালাহ্ উদ্দীন আহমেদ এর মুক্তিতে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে বিএনপি সমর্থকরা।প্রিয় অভিভাবকের মুক্তিতে প্রফুল্লময় কক্সবাজার বাসী ফিরে পেয়েছে স্বস্তি।
একটি মুক্তি,সত্য সততা বিজয়ের।ভারত সরকারের আদালত জানালো আলহাজ্ব সালাহ্ উদ্দিনকে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে।ভারতের সীমান্ত বাহিনী আলহাজ্ব সালাহ্ উদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশ সীমান্ত বাহিনী বিজিবি’র কাছে প্রেরণ করবেন।বাংলাদেশের সীমান্ত বাহিনী কি অবৈধভাবে দেশ ত্যাগের যুক্তি দাঁড় করিয়ে তাঁকে বাংলাদেশ কারাগারে প্রেরণ করবেন? আর যদি প্রেরণ করেন বর্তমানে দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপট কোন দিকে যাবে? প্রশ্ন অনেক।কেননা ইতিমধ্যে ড.কামাল,স ম আব্দু রব মাহমুদুর রহমান মান্নাদের নিয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্ট ভালো অবস্থানে আছেন আস্থা ও জনপ্রিয়তা কুড়াচ্ছেন মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার উন্মেস সৃষ্টি করছেন।মানুষ আবারো জনসভামুখি হচ্ছে আন্দোলনে ফিরছে।বাংলাদেশ বিজিবি’র আনিত কোনো মামলায় যদি বাংলাদেশের কারাগারে সালাহ্ উদ্দীন আহমেদ’কে সাঁজা দিয়ে প্রেরণ করা হয়,
পূর্বের সুপ্তক্ষোভ বর্তমানে অগ্নিতে রূপনিয়ে ঐক্যফ্রন্টের উন্মেসের সাথে যোগ হয়ে বিএনপির কি আবারো কোনো গণ আন্দোলন হতে যাচ্ছে?সে আন্দোলন বর্তমান সরকারের জন্য কতোটা ভয়াবহতম পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে সেটা দেখার বিষয়।ইতিমধ্যে সংগঠন গুছিয়ে শক্তিসঞ্চারণে বিএনপি একটি ইস্যুই হবে আগামী আন্দোলনের ডাক,সে ডাক কি আলহাজ্ব সালাহ্ উদ্দীন আহমেদ’র পুনরায় সাঁজার মাধ্যমে দিবে বিএনপি?

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গণ আন্দোলন বর্তমান সরকারের জন্য কাল হয়ে আসবে,সে কাল কে আগামীতে রূপ দিয়ে বিজয়ের আসনে আসীন হবেন বিএনপি এমনটা পরিলক্ষিত।

ফিরছে কক্সবাজারের বাতিঘর,আলোকিত কক্সবাজার ও কক্সবাজার বিএনপি বাঁধভাঙা আনন্দের জোঁয়ারে প্লাবিত দ্বীপ থেকে দেপান্তর।আস্থা স্বস্তিতে দৃঢ়মনোবল অনড় তাঁর পূর্বের নির্বাচনী এলাকা চকরিয়া পেকুয়া।যদিও চকরিয়া পেকুয়ায় প্রার্থী নির্ধারণ হয়েগেছে সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ।অবহেলিত মহেশখালী কুতুবদিয়ার জনগণ দলীয় রাজনীতির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে, লবন পান চিংড়ির সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং মহেশখালীতে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য আদায় ও অনুন্নয়ন মহেশখালীকে উন্নয়নের ছোঁয়া দিতে আলহাজ্ব সালাহ্ উদ্দীন আহমেদ এর অবকাশ নেই বলে মনে করে।তিনি কক্সবাজার-২ মহেশখালী কুতুবদিয়ার হয়ে নির্বাচন করবেন বলে আশাবাদী জনসাধারণ।

তিনি কি সে আশার প্রতিফলন ঘটাবেন? নাকি হতাশ করবেন?নাকি হতাশ করতে তাঁর বিরুদ্ধে জুড়ে দেওয়া হবে একাদিক মামলা।একটি আসনের মানুষকে হতাশ করতে আওয়ামীলীগ কি গণ আন্দোলনের জন্মদিতে যাচ্ছেন।নাকি কক্সবাজারের বাতিঘর মহেশখালী কুতুবদিয়ার বটবৃক্ষ হয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া দিতে আসছেন।দেখার অপেক্ষায় আমরা।জনপ্রিয়তার জনস্রোতে কম্পিত হোক মহেশখালী কুতুবদিয়া।

কাব্য সৌরভ হাসান শিবলু- ছাত্র, লেখক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •