ইমাম খাইর, সিবিএন
পৃথক দুই গ্রুপের ভিন্ন স্থানে ডাকা তাবলীগ জামাতের জেলা ইজতেমা স্থগিত হয়ে গেছে। আয়োজনের মুখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসায় কক্সবাজারে এবছর আর ইজতেমা হচ্ছেনা।
২৫ অক্টোবর বিকালে কক্সবাজার পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে দুই গ্রুপের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভায় দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা ও তাবলীগের অন্তঃকোন্দলের কারণে প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।
বৈঠকে ওলামায়ে কেরামের সমন্বয়ে তাবলীগ জামাতের পক্ষে ছিলেন- মুফতি মুরশেদুল আলম চৌধুরী, মুফতি মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ শফিক, মাওলানা মোসলেম উদ্দিন, হাফেজ আব্দুল গফুর, হাজি জসিম উদ্দিন, মাওলানা আতাউল করিম প্রমুখ।
তারা আগামী ১, ২, ৩ নভেম্বর শহরের ডায়াবেটিক পয়েন্ট সংলগ্ন ঝাউবাগানের পশ্চিম পার্শ্বে ইজতেমার সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বৈঠকে দিল্লির মাওলানা সাদের অনুসারী তথা এতায়াতি জামাতের পক্ষে ছিলেন- এডভোকেট হামিদুল্লাহ, হাজি মুসা মিয়া, নেজাম উদ্দিন, মো. শাহজাহান, ফেরদৌস ড্রাইভার, শফিউল্লাহ ড্রাইভার প্রমুখ।
৮, ৯, ১০ নভেম্বর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন কবিতা চত্ত্বর এলাকায় তাদের ইজতেমার দিন ঠিক করে।
উভয় গ্রুপই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইজতেমার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছিল।
দুঃখের বিষয়, রাজধানীকেন্দ্রীক তাবলীগের গ্রুপিং এবারই প্রথম কক্সবাজারে এসে পড়ে। কক্সবাজারেও বিভক্ত পথে হাটে অরাজনৈতিক ধর্মভিত্তিক দল হিসেবে পরিচিত তাবলীগ জামাত।
অবশেষে তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা থেকে কক্সবাজার জেলায় ইজতেমা স্থগিত করে প্রশাসন।
একটি সুত্র জানায়, বাংলাদেশের তাবলীগের মারকাজ কাকরাঈলের শুরায় সিদ্ধান্ত হয়, এ বছর ৬৪ জেলার ইজতেমা হবে টঙ্গীর ময়দানে। জেলা পর্যায়ে কোন ইজতেমা হবে না।
কিন্তু দিল্লির বিতর্কিত ব্যক্তি মাওলানা সা’দের এতায়াতপন্থীরা কাকরাঈলের শুরার সিদ্ধান্ত ও টঙ্গীর ইজতেমাকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন জেলায় ইজতেমা করার তৎপরতা চালায়। তাতে বাধ্য হয়ে ১, ২, ৩ নভেম্বর কক্সবাজারে ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত নেয় জেলার সর্বস্তরের তাবলীগের মুরব্বী ও আলেম ওলামারা।
ওলামায়ে কেরাম ও তাবলীগ জামাতের মুরব্বীদের পক্ষে মাওলানা আতাউল করিম জানান, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের সম্ভাব্য তফসীল ঘোষণা, আগামী নির্বাচনকেন্দ্রিক আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। সব কিছু বিবেচনা করেন উভয় পক্ষের ইজতেমা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়।
তাবলীগের বেশ অনুসারী জানিয়েছে, পুরো জেলায় সা’দ পন্থী রয়েছে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে লোকজন এনে তারা ইজতিমা আয়োজনের কাজ শুরু করে।
অন্যদিকে ক্যাম্প থেকে ইজতেমার নামে যারা বের হবে তারা নাও ফিরতে পারে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এমন তথ্য জমা হয়েছে। পাশাপাশি দুইটি গ্রুপের ইজতেমার কারণে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কাও ছিল। সব মিলিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগি হয়েছে বলে মনে করেছে অনেকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •