ডেস্ক নিউজ:
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে এ তারিখ নির্ধারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আরো দুই তিন মাস আগে থেকেই বলাবলি করে আসছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন নির্বাচন যথা সময়ে হবে।

নির্বাচন কমিশন বলছেন, নির্বাচনের বিষয়ে ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করবেন নির্বাচন কমিশনাররা। এরপরে তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। এত কিছুর পরেও নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। একটা শ্রেণি নির্বাচন প্রসঙ্গে বলছেন, দেশে নির্বাচন হবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেছেন- যথা সময়ে নির্বাচন হবে। কেউ আটকাতে পারবে না। তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আহ্বান জানান।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই কমিশন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ করতে চায়। ১ নভেম্বর বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবে কমিশন। তারপর নির্বাচনের তফসিল ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরো বলেন, রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে থাকেন। ৪ নভেম্বর কমিশন সভায় বসবে কিনা-সেটা এখনও ঠিক হয়নি। ১ নভেম্বর আমরা জানতে পারব কবে বৈঠক হবে।

অন্যদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সম্প্রতি দলের একটি সভায় বলেছেন, দেশে নির্বাচন হবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। বর্তমানে যে অবস্থা আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব এমন নীতি চলছে। মানুষ নিজের ইচ্ছামত সিল মারতে পারছে না। জনগণের ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ এক হাজার বছর ক্ষমতায় থাকুক, কিন্তু ভোট ছাড়া একদিনও ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটভুক্ত দল এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রক্তপাতের আশংকা করছেন। এ রক্তপাত এড়াতে সংলাপের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন ঘিরে আগামীতে ‘খুবই কঠিন’ দিন আসছে। যতই দিন যাবে বিশৃঙ্খলা হবে, যতই দিন যাবে রক্তপাত বৃদ্ধি পাবে। আগামী ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চললেও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এখনও দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরে বিরোধ রয়েছে।

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-এর শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দলসমূহকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমি এবং অপরাপর সহকর্মীরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি, যা প্রধানমন্ত্রীর চিন্তার অনুকূল।

তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যবশত সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে আমরা উদ্বিগ্ন। সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশ বিনষ্ট হবার আশঙ্কা করছি। এ সময় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি ও গ্রেফতার অনাকাঙ্খিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •