সোয়েব সাঈদ, রামু:

রামুর বৌদ্ধরা সম্প্রীতি ও দেশের কল্যাণ কামনা করে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করেছে। সন্ধ্যায় বিহার প্রাঙ্গণে হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলণ করে আকাশে ফানুস উড়িয়ে ভগবান সম্যক সম্বুদ্ধকে পূজা করেন বৌদ্ধরা। ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারনা পূর্ণিমার প্রথম দিনে রামু উপজেলার সতেরটি বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধপূজা, অষ্টশীল গ্রহন, স্বধর্মালোচনা, প্রদীপ পুজা, হাজার প্রদীপ প্রজ্জলন ও ফানুস উড়ানোর মধ্যদিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় এ উৎসব উদযাপন করা হয়। সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানোকে ঘিরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সন্ধ্যা রামুর বিভিন্ন বিহারে ফানুস উড়ানো দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমায়। বিভিন্ন বৌদ্ধ গ্রাম থেকে সন্ধ্যার আঁধারে ফানুস উড়ানো হলে আকাশ তারায় তারায় পরিপুর্ন হয়ে উঠে।

রামু উপজেলা বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিনমাস বর্ষাব্রতের পর ফানুস উড়ানো, জাহাজ ভাসাই উৎসব ও কঠিন চীবর দানের মহানন্দে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপন কওে বৌদ্ধরা। এ উৎসবে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সমগ্র দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করা হয়। তিনি বলেন, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহা বিহারে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। ধর্মালোচনায় সভাপতিত্ব ও ধর্মদেশনা করেন, বিহার অধ্যক্ষ বাংলাদেশ ভিক্ষু মহাসভার উপ-সংঘরাজ একুশে পদকপ্রাপ্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের।

বৌদ্ধদের মতে, রাজকুমার সিদ্ধার্থ (ভগবান সম্যক সম্বুদ্ধ) বুদ্ধত্ব লাভের আগে অনোমা নদীর তীরে এসে সন্ন্যাসী বেশ ধারন করার পূর্বে নিজের রাজ তরবারী দিয়ে স্বীয় মাথার কেশ (চুল) কর্তন করতঃ চুলের গোছা হাতে নিয়ে অধিষ্টান করেন যে, আমি যদি সত্যি বুদ্ধ হবার যোগ্য হই তাহলে সমস্ত চুল উর্দ্ধগামী হোক। অধিষ্টান পূর্বক চুলের গোছাটি উর্দ্ধদিকে ছুড়ে মারলেন। স্বর্গপতি দেবরাজ ইন্দ্র স্বর্ণময় পাত্রে চুলের গোছাটি ধারন করলেন,ইন্দ্ররাজা চুল গুলো দিয়ে দেবগণের পুজোর সুবিধার্থে স্বর্গে চুলামণি চৈত্য (জাদি) প্রতিষ্ঠা করেন। ঐ চুলামণি চৈত্যের পুজোর উদ্দ্যেশে ফানুস বাতি উড্ডয়ন করে মর্তলোকের বুদ্ধ পুজারীরা।

রামু উপজেলা বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদেও সাধারণ সম্পাদক কেতন বড়–য়া জানান, প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রামু বাঁকখালী নদীতে ভাসানো হবে কল্পজাহাজ। বাংলাদেশ ভিক্ষু মহাসভার সহ-সভাপতি উপ-সংঘরাজ রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহা বিহারে অধ্যক্ষ একুশে পদকপ্রাপ্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন।

ইতোমধ্যে রামুর ছয়টি বৌদ্ধ গ্রামে কল্পজাহাজ নির্মাণ করা হয়েছে। এ সব কল্পজাহাজে বাঁশ, বেত, কাঠ, রঙ্গিন কাগজ দিয়ে অপূর্ব কারুকাজে তৈরী জাহাজে ঈগল, ময়ূর, ঘোড়া, চূড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেই জাহাজেই চড়ে শিশু-কিশোর ও যুবকরা বাঁধভাঙা আনন্দে, বাদ্য বাজিয়ে নাচে-গানে মেতে ওঠবে রামুর বাঁকখালী নদীতে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •