এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:

চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভনে তরুনীর সর্বনাশ করেছে প্রতারক প্রেমিক মোহাম্মদ ফারুক। যুবক ফারুকের মিষ্টি কথায় সরল বিশ্বাসে প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে ভুক্তভোগী তরুনী বর্তমানে সাতমাসের গর্ভবতী। সম্পর্কের শুরুতে বিয়ের সম্মতি জানালেও পরে দেয়া ওয়াদা অস্বীকার করে বসেন ফারুক। এ অবস্থার কারনে ভবিষ্যত জীবনে অন্ধকার নেমে আসায় বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী তরুনী।

গত ১৭ অক্টোবর চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দুইজনকে আসামি করে নালিশী মামলাটি রুজু করেছেন প্রতারনার শিকার তরুনী। মামলায় উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের মনজুর আলমের ছেলে প্রেমিক মোহাম্মদ ফারুককে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসামি করা হয়েছে একই এলাকার মৃত আবদুল মজিদের ছেলে প্রেমিকের সহযোগি মো.রহিমকে।

আদালতের বিচারক বাদির নালিশী মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত পুর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে চকরিয়া উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতারিত তরুনীর বাড়ি চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মৌলভী শফিউল আলমের মেয়ে।

মামলার আর্জিতে বাদি ওই তরুনী দাবি করেছেন, এক নম্বর আসামি ফারুকের সঙ্গে বছর আগে তাঁর পরিচয় ঘটে। পরিচয়ের সুবাদে দুইজনের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক তৈরী হয়। এরফলে প্রেমিক ফারুক একদিন বিয়ের প্রস্তাব পাঠান তার (বাদি) মায়ের কাছে। জবাবে তাঁর মা জানিয়ে দেন, যেহেতু তরুনীর বাবা মারা গেছে, সেকারনে বিয়ে করতে হলে তাঁর (ফারুক) পরিবারের সম্মতি থাকতে হবে এবং পরিবারের মাধ্যমে বিয়ের কথাবার্তা চুড়ান্ত করতে হবে।

তরুনী এজাহারে বলেন, বিয়ের কথাবার্তা চলার ফাকে দুইজনের মধ্যে আগের মতো সর্ম্পক চলতে থাকে। একপর্যায়ে প্রেমিক ফারুক চলতিবছরের ৩০ জানুয়ারী হঠাৎ করে তরুনীকে একজন মৌলভীর কাছে নিয়ে যান। সেখানে কলেমা পড়ে তাকে (তরুনী) বিয়ে করেন। এরপর তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে একটি ভাড়া বাসায় তুলে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাঁর (তরুনী) মেলামেলা শুরু করে ফারুক। এভাবে কেটে গেছে প্রায় সাতমাস।

তরুনী বলেন, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেলামেশার সুবাদে বর্তমানে তিনি সাতমাসের অন্তর্স্বত্তা। এরই ফাকে তাঁরা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর সকালে তরুনী নিজের বাড়িতে ফারুককে বলেন, বিয়ে যেহেতু হয়ে গেছে, এখন তাকে শ্বশুর বাড়িতে (স্বামী ফারুকের) তুলে নেয়া হোক।

ওইসময় ফারুক বেকে বসে বলেন, মৌলভী ডেকে কলেমা পড়ে বিয়ে করার ঘটনাটি ছিল সাজানো। আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না, এমনকি ঘরেও তুলতে পারবেনা। এ অবস্থার কারনে ভবিষ্যত জীবনে অন্ধকার নেমে আসার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্বামীর অধিকার নিশ্চিতের জন্য বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী তরুনী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •