cbn  

ডেস্ক নিউজ:
রোহিঙ্গাপ্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসাম থেকে আরও ২৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত। ইতোমধ্যে সাতজনকে রাখাইনে পাঠানো হয়েছে। আসাম, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও মিয়ানমার সরকারের সমন্বয়ে করা একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে এসব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পাঠানো হচ্ছে। দুদেশের সরকারের মধ্যে অনেক আলাপ-আলোচনা ও পর্যালোচনার পর তাদের মিয়ানমারে পাঠানোর এ সিদ্ধান্ত হয়। যদিও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ এসব রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে রাখাইনে পাঠানো হচ্ছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক খবরে জানা যায়, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমি মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী বলে আসাম সরকার দাবি করছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যে সাতজন রোহিঙ্গাকে ইতোমধ্যে মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে, তাদের সবাই ভারত ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। অনেকটা জোরপূর্বক তাদের সে দেশে পাঠানো হয় বলে মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেন। যদিও মিয়ানমার সরকার এই রোহিঙ্গাদের আশ্বাস দিচ্ছেন যে, তারা সেদেশে গেলে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকার নেবে।
কলকাতার গণমাধ্যম অবজারভার বলছে, কোনও ধরনের চাপ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের যে মিয়ানমারে পাঠানো হচ্ছে না, সে বিষয়টি বার বার বোঝাতে চাচ্ছেন আসাম কর্তৃপক্ষ। নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠীগুলোকেও বিষয়টির পক্ষে প্রচারণা চলাতে কাজ করে যাচ্ছে আসাম কর্তৃপক্ষ।

ভারত থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর বিরোধীতা করে আসছে। ভারত চাচ্ছে, যে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা সে দেশে আছে তাদের মিয়ানমারে পাঠাতে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গেছেন। তবে এখানে আদালতের ভূমিকাও সরকারের পক্ষেই লক্ষ করা যাচ্ছে। আদালত বলছে, যেখানে মিয়ানমারই চাচ্ছে, নাগরিক হিসেবে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত নিতে, তাহলে ভারতের কেন আপত্তি থাকবে?

ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে অস্থায়ী ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা বসবাস করছেন। এর মধ্যে বৃহত্তর দিল্লি, হায়দরাবাদ, জম্মু ও কাশ্মীর, হারিয়ানা এবং অন্যান্য রাজ্যে বাস করছেন তারা। প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা রয়েছেন যারা কলকাতা শহরের অদূরে দক্ষিণে বসবাস করছেন। তবে এরা কেউ নিবন্ধন বা তালিকাভুক্ত নয়। আবার কিছু রোহিঙ্গা ট্রেনে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা খেয়ে বেঙ্গালুরুর জেলখানায় বন্দি রেয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •