ডেস্ক নিউজ:
ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে তল্লাশি করছেন তুর্কি পুলিশের ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তারা। ১৭ অক্টোবরের ছবি – ছবি : এএফপি
ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল হচ্ছে। সর্বশেষ একটি তুর্কি সংবাদপত্র এই ইস্যুতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। সৌদি সরকার এই ঘটনায় বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও পত্রিকাটি বলছে, বিন সালমানের সাথে ফোনালাপের পরই খাসোগিকে হত্যা করে সৌদি ঘাতক দল।

তুর্কি ভাষায় প্রকাশিত দেনিক ইয়েনি সাফাক বলেছে, ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেটে জামাল খাসোগি নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তাকে ফোন করেছিলেন মোহাম্মাদ বিন সালমান। নিরপেক্ষভাবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা না গেলেও তুর্কি কর্মকর্তারা প্রায় নিয়মিত ভাবে তদন্ত কাজের বিভিন্ন তথ্য দেশটির সংবাদ মাধ্যমকে দিয়ে আসছে এবং সেসব তথ্য যথাযথ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘ ঘটনার দিন কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে খাসোগিকে আটক করে সৌদি টিম। এরপর যুবরাজ মোহাম্মাদ ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাকে রিয়াদ ফেরত যেতে অনুরোধ করেন’।

পত্রিকাটি আরো বলেছে, ‘রিয়াদে ফিরলে গ্রেফতার ও হত্যা করা হতে পারে এই আশঙ্কায় যুবরাজের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন খাসোগি। তাদের ফোনালাপ শেষ হওয়ার পর সৌদি ঘাতক দল খাসোগিকে হত্যা করে।’

তুর্কি কর্মকর্তারা মনে করছেন, হত্যাকারীরা খাসোগিকে মেঝেতে চেপে ধরে শরীরে প্রাণঘাতি ইনজেকশন পুশ করে। এরপর তাকে অন্য একটি রুমে নিয়ে একটি কনফারেন্স টেবিলের ওপর রেখে দেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তদন্ত কারীরা এখনো খাসোগির লাশের সন্ধান করছেন। তারা প্রাথমিকভাবে এই কাজে জড়িত থাকায় সৌদি কনস্যুলেটের দুটি গাড়ি খোঁজ করছে। এই গাড়ি দুটির যে কোন একটিতে করে লাশ সরিয়ে নেয়া হতে পারে।

গাড়ি দুটির একটি ঘটনার পর বেলগ্রেড বন এলাকায় গিয়েছিলো। ইস্তাম্বুলের পাশ্ববর্তী এলাকায় বড় একটি বনাঞ্চল এটি। আরেকটি গাড়ি কনস্যুলেট ভবন থেকে এক ঘণ্টার দূরত্বে ইয়ালোভ শহরে গিয়েছিলো। দুই এলাকায়ই লাশের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।

এদিকে খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে বিবৃতি দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি পররাষ্টমন্ত্রী আদলে আল জুবায়ের বলেছেন খাসোগি হত্যাকাণ্ড ‘বড় ও মারাত্মক ধরনের ভুল’ তবে এ ঘটনার সাথে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কোন ধরনের সম্পর্ক নেই।

তবে সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তা রোববার রয়টার্সকে বলেন, ‘২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরেই শ্বাসরোধ করে খাসোগিকে হত্যা করা হয়। দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য তাকে বোঝানো হচ্ছিল। কথা না শোনায় হত্যা করা হয়েছে।’ পরে লাশ এক তুর্কি সহযোগীর কাছে দিয়ে দেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘খাসোগিকে হত্যার পর তার পোশাক পরেই কনস্যুলেট থেকে এক কর্মকর্তা বেরিয়ে যান। যাতে বোঝানো যায়, কাজ শেষে কনস্যুলেট থেকে খাসোগিই বেরিয়ে গেছেন।’ ৫৯ বছর বয়সী খাসোগির নিখোঁজের ২ সপ্তাহ পর্যন্ত চুপ ছিল সৌদি আরব। শনিবার দেশটি স্বীকার করে যে, কনস্যুলেটে তর্ক-বিতর্ক থেকে মারামারিতে খাসোগি মারা গেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •