cbn  

এমএ সাত্তারঃ
সংস্কারের অভাবে পিএমখালীর সংযোগ রাস্তাটি যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে পিএমখালী ও খুরুশকুল ইউনিয়নের একাংশের জনসাধারণের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত এ রাস্তাটি পিএমখালী ও খুরুশকুলের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চলাচল করে।
খুরুশকুল ইউনিয়নের কুলিয়া পাড়া ও হিন্দু পাড়ার দক্ষিণে, পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা গ্রামের ভিতর দিয়ে রাস্তাটি রয়েছে। এ সংযোগ রাস্তাটি কাঁচা ও সরু হওয়া সত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন এবং ভারী বোঝা নিয়ে বেপরোয়া ডাম্পার গাড়ীসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় অসংখ্য বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে রাস্তা উভয় পার্শ্বে ভেঙ্গে গেছে।
প্রায় সময় এ রাস্তাটি চলাচল অঅযোগ্য হয়ে পড়ে, সে সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জরুরী ভিক্তিতে মাটি, বালি, কংকরগুড়া দিয়ে সংস্কার করে আসলেও তা অল্প কয়েকদিনের মাথায় ভারী গাড়ীর চাকায় পিষ্ট হয়ে কোথাও হারিয়ে যায়। যার কারণে রাস্তাটির উভয় পার্শ্বে দেবে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি এবং বড় বড় গর্ত হয়ে কাঁদা জলে একাকার হয়ে যায়। বর্তমানে এ অতিগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সজিব দেব, রুবেল দেবসহ কয়েকজন জানান এ রাস্তাটি হওয়ার আগে তাদের বাড়ি থেকে কক্সবাজার ও অন্যান্য এলাকায় আসা যাওয়া করতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এ রাস্তা তৈরীর পর থেকে চলাচলে কোন অসুবিধায় পড়েনি বরং জমি জমার মুল্য বৃদ্ধিসহ এলাকার মানুষের মানমর্যাদা শতগুন বেড়ে গেছে। তাই জরুরী ভিত্তিতে কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে রাস্তাটি সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোরদাবিও জানিয়েছেন তারা।
খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান সে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই এ রোড়ের অবস্থা দেখে অন্য সাইটের বিভিন্ন প্রকল্পের বাজেটের টাকা দিয়ে কয়েকবার এ রাস্তা সংস্কার করেছেন কিন্তু অত্র এলাকার কিছু অমানুষ এ কাঁচা রাস্তা দিয়ে ডাম্পার গাড়ী চালায়ে বারবার নষ্ট করতেছে। সে নিজে এ রাস্তা থেকে চলন্ত অবস্থায় কয়েকবার ডাম্পার গাড়ী আটক করে ছিল কিন্ত প্রতিবারই ওই ডাম্পারের মালিক এসে হাত,পা ধরে এ রোডে আর গাড়ী চালাবে না মর্মে স্টাম দিয়ে গাড়ী নিয়ে গিয়ে ক’দিন অন্য রোড ব্যবহার করে পুন;রায় এ রোডে ডাম্পার চলাচল অব্যাহত রেখে রাস্তাটি ভেঙ্গেচুড়ে নষ্ট করছে। আগামী ১৮ তারিখ তাদের সমন্য় মিটিং আছে তাই মিটিংয়ে এ রাস্তার চিত্র তুলে ধরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকের নজরে আনবেন বলেও তিনি জানান।
সুত্রে জানা যায় জনবহুল ছনখোলা গ্রামটি পিএমখালী ইউনিয়নের ১নং ও ২নং ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত হলেও,এ গ্রামটির পশ্চিমে সামান্য দুরত্বে কক্সবাজার টাউন। আর গ্রামটি ইউনিয়নের পশ্চিম প্রান্তে হওয়ার কারণে ছনখোলা টু চেরাংঘর বাজার ভায়া বাংলাবাজার ষ্টেশন দিয়ে কক্সবাজার শহরে যাওযা আসা ব্যয় বহুল, সময় সাপেক্ষ ও কষ্ট সাধ্য আর এ পথে যাওয়া আসা এ এলাকার মানুষ তেমন অভ্যস্তও নয়। প্রয়োজন ছাড়া ঘুর্ণিমান এ রাস্তা দিয়ে খুবই কম সংখ্যাক মানুষ চলাফেরা করে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নৌকাযোগে ঘাট পারাপারে যুগ যুগ ধরে ওই এলাকার শতভাগ মানুষ ব্যবসা বাণিজ্য, কাজ কর্ম ও ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা করে আসছে কক্সবাজার শহর, শহরের বাইরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে। কক্সবাজার শহর তাদের অতি নিকটবর্তী হলেও বাঁকখালী নদী তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। তারপরেও তারা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁকখালী নদীর উপর দিয়ে ঘাট পার হয়ে দিব্যি যাতায়াত করে আসছে। আর এ নদীর উপর একটি ব্রিজ করার জন্য পিএমখালীর মানুষ কয়েক দশক থেকে প্রাণের দাবি করেও আসছিল। অনেকে আশ্বাস দিলেও কেউ প্রতিশ্রুতি রাখেনি। এভাবে যুগযুগ পার করে আসছে এ এলাকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি পেশার মানুষ। তাই এ এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নয়ন, ঝুঁকিবিহীন চলাচলে এবং কক্সবাজার শহরসহ অন্যান্য এলাকায় অবাধ যাতায়তে সহজলভ্য বিকল্প পথের যোগসূত্র খুঁজতে গিয়ে অত্র এলাকার গণ্যমান্যদের সাথে পরামর্শক্রমে স্থান নির্বাচন করে একদশক আগে পিএমখালী বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুর রহিম এ সংযোগ রাস্তার শুভ সূচনা করেছিল। এরপর থেকে এ রাস্তা সংস্কারের জন্য ফিরে থাকাতে হয়নি। পিএমখালী, খুরুশকুল ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলা পরিষদের কর্ণধারেরা একের পর এক বাজেট দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করে আজ পর্যন্ত জিইয়ে রাখলেও বর্তমান চলিত বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও বেপরোয়া ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তাটি দিয়ে যান চলাচল তো দূরকথা পা’য়ে হেঁটেও চলাচল করা যাচ্ছেনা। যার কারণে এ রাস্তা ব্যবহারকারীদের চরম দুর্ভোগসহ মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পিএমখালীর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন আপাততঃ কিছু বাজেট দিয়ে হলেও রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করে রাখছে আর এ রাস্তাটি কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে করার জন্য চেষ্টার কোন ক্রুটি করছেনা। শুরু থেকে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে তাদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে। সাড়াও পেয়েছে। কয়েক কোটি টাকার প্রকল্প তাই একটু সময় হচ্ছে। চলিত বছর না হলে সামনে বছরের শুরুতে এ রোড কার্পেটিং হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •