সিবিএনঃ
যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানী সাংবাদিক মহসিন উল হাকিম কথা দিয়েছিলেন কক্সবাজার উপকূলে শান্তি ফেরানোর। অবশেষে তার মধ্যস্থতায় শনিবার মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ৪৩ অস্ত্রধারী জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। এরই মধ্যদিয়ে মধ্য দিয়ে আলোচিত এই সাংবাদিক কক্সবাজার উপকূলে সূচনা করেছেন নতুন এক অধ্যায়ের।
ইতিমধ্যেই শান্তির সুবাতাস বইছে কক্সবাজার উপকূলে।
মহসিন উল হাকিমের এই উদ্যোগের ফলে উপকূলের সব জলদস্যু ও পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা স্বাভাবিক জীবনে আসার সুযোগকে কাজে লাগাবে বলে আশা করছে স্থানীয়রা।
জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে মাস তিনেক ধরে কাজ শুরু করেন মহসিন। পরিকল্পনা করেন কিভাবে কি করা যায়? সমন্বয় করেন দস্যু ও তাদের পরিবার পরিজনের সাথে। বুদ্ধি-বিচক্ষণতা ও সাহসকে সঙ্গী করে এগিয়ে যান লক্ষপানে।
যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মহসিন উল হাকিমের মধ্যস্থতায় এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সুন্দরবনের ২১৭ জলদস্যুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনায় প্রশংসিত হন। দীর্ঘ ছয় বছর র‍্যাবের সঙ্গে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
মূলতঃ তার উদ্যোগে ২০টি দস্যুবাহিনীর আত্মসমর্পণ করা ২১৭ জন সাবেক দস্যুর পুনর্বাসনে কাজ করছে র‍্যাব।
কক্সবাজার উপকূলে শুরু হওয়া আত্মসমর্পন প্রক্রিয়া নিয়ে মহসীন উল হাকিম জানান, সুন্দরবনের দস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগরের অর্ধেক এলাকায় জেলেরা নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন। কিন্তু, বঙ্গোপসাগরের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে সাগরে দস্যুতা চলছে। এজন্যই কক্সবাজার অঞ্চলের দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করছিলাম। আজ সেই চেষ্টার প্রথম ধাপ অতিক্রম করলাম।
তিনি আরো জানান, কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া, মহেশখালী এবং চট্টগ্রামেরর আনোয়ারা ও বাঁশখালী এলাকা ঘিরে অনেক গুলো উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে উঠছে। দেশের অন্যতম। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হচ্ছে এই এলাকায়। হাজার হাজার কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে এই অঞ্চলে। তাই দেশের স্বার্থেও এই অঞ্চলের শান্তি ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ন বিষয়। সবকিছু বিবেচনায় এই আত্মসমর্পন প্রক্রিয়া শুরু করাই গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হয়।
মহসিন আরো জানান, আত্মসমর্পণ করা ৬টি বাহিনীর বাইরেও এই অঞ্চলে আরো অনেক বাহিনী রয়েছে। ঐ বাহিনী গুলোও আত্মসমর্পণে সাড়া দিচ্ছে। তাদের বিষয়েও শিগগিরই ফলাফল দেখা যাবে বলে আশা করেন মোহসিন উল হাকিম।
মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকুলীয় এলাকার ৬ জলদস্যু বাহিনীর ৪৩ জন সদস্যের আত্মসমর্পণ করেছে। এসময় ৯৪ টি অস্ত্র ৭৬৩৭ গোলাবারুদ হস্তান্তর করা হয়। এতোবড় আত্মসমর্পন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন যমুনা টেলিভিশনের মোহসিন উল হাকিম।
মহসিন উল হাকিম গত দুই বছরে সুন্দরবনের ২০টি জলদস্যু বাহিনীর ২১৭ সদস্যকে আত্মসমর্পন করিয়েছেন। জমা করিয়েছেন জলদস্যুদের ব্যবহার করা ৩৫৩টি অস্ত্র ও ৫০ হাজারের বেশি গুলি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •