শাহীন মাহমুদ রাসেলঃ
রামু উপজেলার ফতেখাঁরকূল ইউনিয়নের তেচ্ছিপুল এবং লম্বরী পাড়া এলাকার আশপাশের মানুষের কষ্টের সীমা নেই। তেচ্ছিপুল হতে লম্বরী পাড়া পর্যন্ত সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ দেখে মনে হয় এটি সড়ক নয়, যেন ধান লাগানোর জন্য সদ্য চষা জমি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা অনেক কষ্টে আছেন। এলজিইডি অর্থায়নে সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে প্রায় ৬ মাস পার হয়ে গেছে। কাজের কোন গতি নেই। এমনকি ঠিকাদার কাজের কোন তদারকিও করেন না। অদক্ষ ঠিকাদার কাজ নেয়ার কারণে এলাকাবাসী কষ্ট পাচ্ছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, যে ঠিকাদার কাজটি নিয়েছে তার এই ধরণের কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে বলে মনে হয় না। কয়েকদিন সড়কের একপাশে ঢালাই কাজ করে। কিছুদিন বন্ধ রেখে আবার আরেক দিক থেকে শুরু করে। যার কারণে ময়লা আবর্জনার পানি এবং কাদা সড়কের উপর জমে থাকে। সবাইকে এ কাদা–ময়লা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। মসজিদে যেতে হয় আর্বজনার পানি মাড়িয়ে। সড়কটি রীতিমত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে। যেসব ক্ষুদে শিক্ষার্থী কে জি কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় তারা প্রতিনিয়ত কাদায় পড়ে বই–খাতা নষ্ট করে। কলম পড়ে যায়। স্কুলে না গিয়ে মাঝ পথ থেকে বাড়ি ফিরে আসে। জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সভাপতি ইমাম হোসেন বলেন, ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরেজমিন প্রত্যক্ষ করেছি। আমি নিজেও তাদের অসহনীয় দুর্ভোগের বিষয়টি অনুভব করি। কিন্তু ঠিকাদারকে তাগাদা দেয়া ছাড়া আর বিশেষ কিছুই করার নেই’। কাজ করতে গিয়ে যাতে জনদুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে থাকে এবং কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বার বার ঠিকাদারকে অনুরোধ করেছেন বলে জানান তিনি। এলজিইডি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকেও অনুরোধ করার কথা উল্লেখ কওে তিনি বলেন, তারা আশ্বাস দিয়েছেন কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
এক কলেজ ছাত্র অভিযোগ করে বলেন, তেচ্ছিপুলের ব্যস্ততম লম্বরী পাড়া সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ সড়কে চলাচলরত মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ অফিস, থানা, হাট-বাজার, প্রেস ক্লাবসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যাতায়াতের জন্য সড়কটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া প্রায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কের আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষ এখান দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে। সড়কটিতে ছোট-বড় মিলে হাজারখানেক খানাখন্দ রয়েছে। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই খানাখন্দগুলোতে পানি জমে। তখন দূর থেকে দেখে মনে হয়, এ যেন কোনো পানিশূন্য জলাশয় অথবা চাষা ধানক্ষেত। ভঙ্গুর এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলার সময় খানাখন্দে জমে থাকা পানি মিশে সদ্য লাঙল দেওয়া ধানক্ষেতের মতো হয়। কাদামাটি ছিটে প্রায়ই যাত্রী ও পথচারীদের প্রতিদিন ঘটে নানা দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ রাস্তার পূর্ব এবং পশ্চিম পাশেই গড়ে উঠেছে ছোট-বড় কয়েকটি ব্রিকফিল্ড। ফিল্ডের মাঠি সংগ্রহ ও ইট বাজারজাতের একমাত্র পথ এটি। অতিরিক্ত বোঝাই মালবাহী গাড়ি মাঝেমধ্যে সড়কের বড় বড় গর্তে আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজট লাগে। এতে যাত্রী ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই রাস্তার পাশেই গড়ে উঠেছে ১০-১২টি বালুমহাল। বালু বিক্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতিনিয়ত চুষে চুষে পানি এসে সড়কে জমে। এতে সড়কে সারা বছরই কাদাপানি থাকে।
এ ব্যাপারে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বলেন, বর্তমানে আমার তত্ত্বাবধানে সড়কটি জরুরি মেরামতের কাজ চলছে। আশা করি, আগামী এক মাসের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •