দুর্গোৎসবে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার বিতরণে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

এম আবুহেনা সাগর, ঈদগাঁও

সনাতনধর্মীদের দুর্গোৎসব উপলক্ষে হত দরিদ্র হিন্দু পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ত্রাণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সদরের পোকখালীসহ বেশ কয়েকটি এলাকার হতদরিদ্রদের তালিকাভুক্ত করা হয়নি। অনেকের কাছ থেকে কার্ডের অনুকূলে উত্তোলিত টাকা ফেরত নেয়া হয়েছে। এর রেশ ধরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে ঈদগাঁওর সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন।
বৃহস্পতিবার (১৮ই অক্টোবর) দুপুরে বৃহত্তর ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে ইসলামাবাদ পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবুল কান্তি দের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। জালালাবাদ পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিকাশ দের পরিচালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন- ঈদগাঁও পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সসীম শর্মা, সাধারণ সম্পাদক পরিতোশ পাল, জালালাবাদ পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আপন কান্তি দে, ইসলামাবাদ পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক লিটন কান্তি দে, পোকখালী সভাপতি সুমন চৌধুরী আগুন, সাধারণ সম্পাদক রতন কান্তি দে, ভারুয়াখালী সভাপতি আপন শর্মা, সাধারণ সম্পাদক শিমুল সরকার।
সভায় কক্সবাজার সদর উপজেলা ও জেলা পুজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের বিমাতাসুলভ আচরণ ও স্বজনপ্রীতির কারণে এ বছর সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেয়। ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে দশমী বিজয়া মঞ্চ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর উপহারে সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক দাশ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবলা পাল স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ করেছেন। ইউনিয়ন কমিটি থেকে হতদরিদ্র হিন্দুদের তালিকা নিয়ে রাতের অন্ধকারে তা পাল্টে নিকটাত্নীয়দের নাম ঢুকিয়েছেন। তাদের স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যের কারণে পাঁচশতাধিক প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবার বঞ্চিত হয়েছে। অনেকেই সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট হাজির হয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়ন পূজা কমিটির নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী এবছর শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে কক্সবাজার জেলায় প্রতি পরিবারের জন্য ৩ হাজার টাকা করে ১২৫০০পরিবারের জন্য পূজা উপহার হিসেবে বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করেন। উক্ত বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্বাবধানে বিলি বন্টনের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু হত দরিদ্র পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করেছে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা কক্সবাজার সদর উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত ৩৬০০পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্ব উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক দাশ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবলা পাল,পৌরসভার সভাপতি বেন্টু দাশ ও সাধারন সম্পাদক জনি ধরকে দেওয়া হয়।
তারা ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট থেকে তালিকা চাইলে ইউনিয়ন নেতারা প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের তালিকা উপজেলা কমিটির বরাবরে জমা দেয়। কিন্তু রাতারাতি ইউনিয়ন কমিটির তালিকা বদলে যায়। সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি দীপক দাশ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবলা পালের পছন্দের লোকদের যোগ করেছেন। তাদের স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার দাপটের কাছে হেরে যায় অনেক প্রকৃত হতদরিদ্র। স্বাবলম্বীরাই পেয়ে যায় পূজার উপহার। উপজেলা পরিষদে গত ১৭ অক্টোবর সারাদিন অপেক্ষার পর খালি হাতেই ফিরে যায় অনেকে। এ নিয়ে প্রত্যেক ইউনিয়নে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
খুরুশকুল ইউনিয়ন পূজা কমিটির সভাপতি অমল কান্তি দে জানান, তিনি পুরো ইউনিয়নের হত দরিদ্রদের একটি তালিকা উপজেলা কমিটির বরাবরে জমা দিয়েছিলেন। তালিকায় নাম থাকা সবাইকে উপজেলা পরিষদে যেতে বলা হয়। কিন্তুইউনিয়ন কমিটির প্রদত্ত তালিকা থেকে দরিদ্রদের নাম বাদ দিয়ে তার আতœীয় স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া হয়।
একই অভিযোগ জালালাবাদ ইউনিয়ন সভাপতি বিকাশ কান্তি দের, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন সভাপতি বাবুল দে, ঈদগাও ইউনিয়ন সাধারন সম্পাদক পরিতোষ পাল, চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন সাধারন সম্পাদক কনক কান্তি দে, পিএমখালী ইউনিয়ন সভাপতি সুধীর শর্মারও।
এ বিষয়ে জানার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের পৌরসভার একমাত্র জনপ্রতিনিধি ও জেলা পূজা কমিটির নেতা বাবু রাজবিহারী দাশের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এই পূজার উপহার দরিদ্রদের জন্য হলেও বেশির ভাগ স্বাবলম্বীরাই পেয়েছে। পৌরসভার মধ্যে ৮ নং ওয়ার্ড হিন্দু অধ্যুষিত হলেও জেলা, সদর, পৌর পুজা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকেরা তাদের ইচ্ছেমত তালিকা দিয়েছে। এমনকি আমার কাছ থেকেও তালিকা সংগ্রহ করেননি। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজে তালিকা প্রস্তুত করে জেলা কমিটিকে দিলেও তারা আমার তালিকা গ্রহণ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মাকে ফোন করলে জানান, ঈদগাঁও থেকে প্রতিমা বিসর্জন দিতে কোন বছর কক্সবাজার আসেনা।
তবে, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো উপহার সামগ্রী বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালনে কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশন সচিবের সংগে মতবিনিময় করলেন ঢাকাস্থ রামু সমিতি

বঙ্গবন্ধু বাংলার সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কথা ভাবতেন : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলায় কুমিল্লার শাহজালাল চ্যাম্পিয়ন

বাংলাদেশ কমিউনিটি মেটস প্রবাসীদের ১লা বৈশাখ উদযাপন

চকরিয়ায় পাওনা টাকা দাবির জেরে বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর, আহত ৬

ইউজিপি-থ্রি প্রকল্প পরিচালকের কলাতলী – মেরিন ড্রাইভ চলমান কাজ পরিদর্শন

দারুল আরক্বম তাহফীযুল কুরআন মাদরাসার সবিনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন

আলোকিত উখিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

আদালতের আদেশনামা গোপন করে শপথ নিয়েছে জমিরী- রফিক উদ্দীন

জেরায় বিমর্ষ সোনাগাজী থানার সেই ওসি মোয়াজ্জেম

পেকুয়ায় শরতঘোনা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ বিলীন

পেকুয়ায় মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে হত্যাচেষ্টা

চকরিয়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের উপজেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা

কিশলয় বালিকা স্কুলে দুর্নীতি বিরোধী বির্তক প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা

প্রবাসীদের আত্মকথা

সৈকত আবাসিক এলাকার প্লট অ-আবাসিক/বাণিজ্যিক অনুমতি নীতিমালা প্রণয়ন সভা

প্রচন্ড দাবদাহে জনজীবনে নাভিশ্বাস

কক্সবাজারে পালিত হচ্ছে বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ

রামুতে পালিত হয়েছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস