চট্টগ্রাম সংবাদদাতা:
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল( চমেক) কে ফিল্ম ও কেমিক্যাল না থাকার কারনে ডেন্টাল বিভাগের এক্স-রে মেশিনটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে ডেন্টাল বিভাগের রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে সু চিকিৎসা সেবা থেকে। এতে রোগীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেসরকারি ল্যাবে গিয়ে এক্স-রে করাতে গিয়ে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডেন্টাল বিভাগে পোর্টেবল ডেন্টাল এক্স-রে মেশিন ইমেজিং স্কেপ আছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বহিঃ বিভাগের রোগীদের কোন এক্স-রে করা হয়না।

এইদিকে চমেক হাসপাতাল ডেন্টাল বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী রবিউলের কাছ থেকে জান্তে চাইলে তিনি বলেন, চমেক হাসপাতালে ডেন্টাল বিভাগে এক্স-রে হয় না, বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বেসরকারি ল্যাব বেশি টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় এক্স-রে করাতে হয়।

ডেন্টাল বিভাগে বহিঃ বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সুমাইয়া আক্তার নামে আর এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ডেন্টাল চিকিৎসকে দেখানোর পর এক্স-রে করাতে বলেছেন। কিন্তু বাইরে এক্স-রে করাতে অনেক টাকা লাগবে। এত টাকা তো আনি নাই তাই কি করবো বুঝতেছি না।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ডেন্টাল বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা লাইলা বেগম ও বলেন, প্রচন্ড মাথা আর দাঁত ব্যথা হচ্ছে। তাই চিকিৎসকের কাছে এসেছি। তিনি এক্স-রে করাতে বলছেন। কিন্তু হাসপাতালে এক্সরে হচ্ছে না। মেডিকেলে যদি এক্স-রে হতো তাহলে টাকা এবং সময় দুটোই সাশ্রয় হতো।

এইদিকে, নাম অনিচ্ছুক ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, আমাদের ডেন্টালের এক্স-রে মেশিন দীর্ঘ ৬ বছর যাবত নষ্ট। প্রায় দুই শত শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছি হাতে কলমে শিক্ষা থেকে। সমস্যার কথা পরিচালক স্যারকে অনেক বার বলেছি।

তিনি বলেন, মেডিকেলের এক্স-রে মেশিনটি চালু থাকলে ৫০ টাকা দিয়ে এক্স-রে করানো যেত। এখন বেসরকারি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে করাতে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা গুণতে হচ্ছে রোগীদের।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ডেন্টাল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার আকরাম পারভেজ চৌধুরী বলেন, আমাদের এক্স- রে মেশিন আছে। কিন্তু কোন ধরণের এক্স-রে হয় না এক্স-রে করার ফিল্ম ও কেমিক্যালের অভাবে। হাসপাতাল থেকে কোন ধরণের এক্স-রে ফিল্ম আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। তাই এক্স-রে মেশিনটি অকেজো পড়ে আছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল উপ- পরিচারক আখতারুল ইসলাম বলেন, ডেন্টালের অনেক ধরণের এক্স-রে মেশিন রয়েছে। বর্তমানে পোর্টেবল ডেন্টাল এক্স-রে মেশিন ইমেজিং স্কেপ এক্স-রে মেশিনের জনবল নেই। আমাকে বিষয়টি কিছুদিন আগে জানানো হয়েছে। নতুন করে ডেন্টাল বিভাগের জন্য প্রায় ১২ লাখ টাকার নতুন হাই ফ্রিকোয়েন্সি মেডিকেল এক্স-রে ইমেজিং স্কেপ আগামী সপ্তাহে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে ডেন্টাল ইউনিট এবং ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি চালু হয়। বর্তমানে প্রতিবছর ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয় এই বিভাগে।এসব দিকে নজর দিলে
রোগী ভোগান্তি কবে সেবার সুফল পাবে অনেক গরিব রোগী সহ সবাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •