জাহাঙ্গীর আলম কাজল, নাইক্ষ্যংছড়ি :

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ফারিখালের ভয়াবহ ভাঙ্গনে চাক হেডম্যান পাড়ায় বসবাসরত কয়েকটি বসত বাড়ী সহ পূর্ব বাইশারী গ্রামের শত বছরে প্রাচীনতম রাস্তা ও গ্রামটি এখন বিলীন হতে চলছে। বিগত সময়ে পরপর বন্যা ও পাহাড়ী ঢলের তীব্র স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়া চলাচল রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় এখন রাস্তা ছেড়ে বসত বাড়ী বিলিনের পথে।

চাক হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক উক্যজাই রবিন চাক জানান, ফারিখালের তীব্র পানির স্রোতে পাহাড়ী এলাকা ভেঙ্গে পড়ার কারণে এখন হুমকি মুখে পড়েছে হেডম্যান চাক পাড়ায় বসবাসরত চাক সম্প্রদায়ের কয়েকটি বসতবাড়ী। এসব বসত বাড়ী রক্ষায় দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহন না করলে বছর দুয়েকের মধ্যে বিলিন হয়ে যাবে পাড়াটি।

পূর্ব বাইশারী গ্রামের বাসিন্দা গাড়ী চালক মোঃ বাবুল জানান, শুধু রাস্তা নয়, অবিলম্বে খালের বেরিবাধ মেরামত করা না হলে পুরো গ্রামটি আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, ফাঁরিখাল ঘেঁষে পাহাড়ের চুড়ায় হেডম্যান চাক পাড়ার কয়েকটি বসত বাড়ী রয়েছে। পাহাড় ভেঙ্গে পড়ায় ওই বসত বাড়ী গুলো হুমকির মুখে রয়েছে এখন। এছাড়া ফারিখালের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে আরো ৫টি গ্রামে সহজে যাতায়াত করা সম্ভব এলাকার লোকজনের। তবে ফাঁরিখালের ভয়াবহ ভাঙ্গনে অনেকগুলো বাড়িঘর সহ ভিটেমাটি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের। যেকোন মুহুর্তে গ্রামটি বিহীন হয়ে যেতে পারে।

উক্ত গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম, বাদশা মিয়া, আবুলশামা সহ অনেকেই বলেন, জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে তারা বাড়িঘর হারা হবে এবং পরিবার নিয়ে মাথাগোঁজানোর আশ্রয়স্থল তাদের এই বসতভিটা ছাড়া আর নেই বলেও জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আবু তাহের বলেন, শত বছরের পুরানো রাস্তাটি রক্ষার জন্য ইতিমধ্যে তিনি পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছেন এবং উক্ত এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণে পরিকল্পনা রয়েছে তার।

বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং সরজমিনে উক্ত এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। অচিরেই রাস্তাটি এবং গ্রামটি রক্ষার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট কথা বলবেন বলে জানান তিনি। বসত বাড়ী রক্ষা ও শত বছরের পুরাতন রাস্তাটি ফিরে পেতে জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •