এম.এ আজিজ রাসেল:

দুয়ারে কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। সোমবার মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে পূজার ক্ষণগণনা। আর সেই মহালয়াকে ঘিরে প্রথমবারের মত এবার পর্যটন শহর কক্সবাজারে দেবী মা দুর্গাকে বরণ করতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে হাসপাতাল সড়কস্থ বঙ্গপাহাড় সার্বজনীন দূর্গোৎসব উদ্যাপন পরিষদের উদ্যোগে এবং পৌর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায়। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বঙ্গপাহাড় দুর্গোৎসব পূজা মন্ডপ থেকে বের করা হবে দেবী দুর্গার আগমন ও মহালয়া উপলক্ষে বণার্ঢ্য র‌্যালি।

শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে দিনরাত সমানে ব্যস্ত প্রতিমার কারিগররা। দম ফেলার ফুরসত নেই। কখনো মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন। কোনোটায় রংতুলির ছোঁয়ায় অপরূপ হয়ে উঠছে দুর্গতিনাশিনী দেবীর অবয়ব। শুধু কি দুর্গা, শিব, অসুর, সিংহ, মহিষ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক আর গণেশের মূর্তিও হচ্ছে বর্ণিল।

শহরের স্বরস্বতি বাড়িতে গিয়ে এই দৃশ্য দেয়া যায়। প্রবীণ প্রতিমাশিল্পী নেপাল ভট্টচার্য্য (৮৫) সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার অনেক দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছি আমরা। এখন চলছে শেষমুহূর্তের কাজ। মা-দুর্গার প্রতিমা তৈরি, রং লাগানোসহ সূক্ষ্ম কাজেই আগ্রহ তার। কৌতূহলী চোখে নিখুঁত হয়েছে কিনা সেদিকেই নজর তার।

তিনি আরও বলেন, এবারের প্রতিমাগুলোর ভারী কাজ, মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন শুধু রঙের কাজ বাকি। আদি বাংলা, অজন্তা, সাগরিকা, মণিপুরি ঘরনার প্রতিমা তৈরি হয় দুর্গাপূজায়। কয়েক বছর ধরে মায়ের অবয়ব সঠিক হচ্ছে না এমন ধারণা থেকে ওরিয়েন্টাল দুর্গা প্রতিমা তৈরি হচ্ছে না। আমরা বাংলা প্রতিমাই গড়েছি। মাটির কাপড়, চটের কাপড় আর শাড়ি দিয়ে সাজিয়েছি মাকে। মায়ের অলংকারগুলোও মাটির তৈরি। কিছু শোলার (ককসিট) তৈরিও হয়।

জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, এবার জেলায় ৩০১টি মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রতিমা পূজা হবে ১৪০টি ও ঘট পূজা হবে ১৬১টি। এছাড়া উপজেলা ভিত্তিক সদরে মোট ৬৫টি, কক্সবাজার পৌর এলাকায় ১৮টি, রামুতে ৩০টি, চকরিয়া পৌর এলাকাসহ ৮৩টি, পেকুয়ায় ১৪টি, কুতুবদিয়ায় ৪১টি, মহেশখালী পৌর এলাকাসহ ৩১টি, উখিয়ায় ১৫ ও টেকনাফ পৌর এলাকাসহ ৫টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গা পূজা হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ব্যাপারে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রণজিত দাশ বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন এখন দূর্গা মাকে বরণের ঢালা নিয়ে অপেক্ষা করছে। মায়ের আগমণে সবার মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের বর্ণিল আবহ। তিনি নির্বিঘেœ পূজা সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, রাজনীতিক, সামাজিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •