সংবাদদাতা:
কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। পরীক্ষায় ১ নম্বর হওয়া শিক্ষককে বাদ দিয়ে ৩ নম্বরের একজনকে নিয়োগের খবরে এলাকায় তোলপাড় চলছে। অনিয়মের জন্য সবাই দোষছে নিয়োগ কমিটিতে থাকা লোকদের। অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় আপাততঃ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত আছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো জানিয়েছে।
একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুলে একজন শিক্ষক নিয়োগে এমন অনিয়মের খবরে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়েছে। অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তবে, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে দাবী কমিটি সংশ্লিষ্টদের।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টম্বর সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়। নির্ধারিত ৩৫ নম্বারের লিখিত পরীক্ষায় ১৩ জন প্রতিযোগি অংশ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫ জনের নাম ঘোষনা করে নিয়োগ কমিটি।
ফলাফল মতে-লিখিত পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করেন মোহাম্মদ আলম, ২য় মোহাম্মদ শাহজাহান ও ৩য় স্থানে থাকে সরওয়ার আলম আজাদ।
অভিযোগ হলো- বিশেষ সুবিধা নিয়ে প্রথম স্থান হওয়া শিক্ষক মোহাম্মদ আলমের স্থলে তৃতীয়জনকে নিয়োগের দিকে ঝুঁকে কমিটির লোকজন। বিশেষ করে নিয়োগ কমিটির একজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলা হয়। গুঞ্জন ওঠে আর্থিক লেনদেনেরও। ইতিমধ্যে বিষয়টি বিভিন্ন মহলে সাওর হয়। গণমাধ্যমকর্মী পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। নিয়োগ কমিটি সংশ্লিষ্ট এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মোহাম্মদ আলম লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। কিন্তু মৌখিক ও সনদ মূল্যায়নে সরওয়ার আলম আজাদ ১ নম্বর স্থান দখল করেন।
এ বিষেয় বিষয়ে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সেলিম উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। সেই সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়াআপাততঃ স্থাগিত রাখার ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আছিয়র রহমানের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ মেলেনি।
তবে, রবিবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে নিয়োগ কমিটির সদস্য ও প্রধান শিক্ষক শহীদুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, লিখিত, মৌখিক ও সনদ- এই তিনটি বিষয়ে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এরপরও অভিযোগ আসায় শনিবার ফলাফল ঘোষণা হয়নি। রবিবার মিটিংয়ের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •