শাহেদ মিজান, সিবিএন:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বাংলাদেশে ১৪ সালের মতো নির্বাচন আর হবে না। এখন ১৪ সাল না এখন ১৮ সাল। আওয়ামী লীগের সেই প্রহসন মার্কা নির্বাচন দেশের জনগণ আর হতে দেবে না। আমরা মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়েই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচনে যাবো।

নজরুল ইসলাম খান এক বয়স্ক মানুষকে সরকার মাসের পর মাস বিনা চিকিৎসায় অপরিস্কার স্যাঁত স্যাঁতে কারাগারের প্রকোষ্টে ফেলে রেখেছে। তারা খালেদা জিয়াকে ভয় পায় বলেই এভাবে তাকে অবহেলায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে সরকারের কাছে অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু তাদের মনে কোনো দয়ার সঞ্চার হয়নি। শেষে আদালতের নির্দেশে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গ্রেনেড হামলার মামলা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা একটি সন্ত্রাসী হামলা। এটার সাথে বিএনপির কারো সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু সরকার পরিকল্পিতভাবে মুফতি হান্নানের কাছ থেকে জোর করে জবানবন্দি নিয়ে কয়েক দফার পর তারেক রহমানকে জড়িয়ে চার্জসীট দিয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ না হওয়ার জন্য মুফতি হান্নানকে ফাঁসি দিয়ে দেয়া হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ ধার্য কর্যা রয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি- সরকার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে রায় দিবে। তাকে সরিয়ে দেয়া জন্য পরিকল্পিতভাবে এক রায় হওয়ার আশঙ্কা করছি আমরা। এর মাধ্যমে তারেক রহমানের দেশে আসা ঠেকিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করছে তারা।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, যেদেশে প্রধান বিচারপতি বিচার পায় না সেদেশে আমাদের বিএনপি নেত্রী বিচার পাবে না। তাই খালেদা জিয়ার প্রতি সরকার জুলুম করছে তার বিচার আমরা আল্লাহ কাছে দিয়েছি। আর রাজনৈতিক বিচারটা জনগণের কাছে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, দুর্নীতি নয়; দেশকে কুক্ষিগত করার জন্য প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে সরকার খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যমূলক ও ষড়যন্ত্র মূলক সাজা দিয়েছে। একই সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখার জন্য গায়েবী মামলাও দেয়া হচ্ছে। সেব মামলায় মৃতরাও আসামী হচ্ছে। এই জুলুমের মাত্রা ছড়িয়ে যাচ্ছে। সামনে দিন আসছে; দেখবেন তাদের গণেশ উল্টে যাবে। জনগণ তাদের ভোট দেবে না।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মমভাবে খুনসহ বর্বর নির্যাতনের পর যখন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছিল তখন সরকার তাদের উপর গুলি চালিয়েছিল। সেই সময় খালেদায় তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দিতে বিশ^ নেতৃবৃন্দের কাছে বিবৃতি দেয়। এই বিবৃতির পর সরকার সীমান্ত খুলে দেয়। খালেদা জিয়া মানবদরদী বলেই সেই তাৎক্ষণিক সেই প্রতিবাদ করেছিলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ভোটের রাজনীতির জন্য মানবতার জন্য রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। শুধু তাই নয়; এই রোহিঙ্গাদের সেবার জন্য তিনি ড্যাবের মাধ্যমে হাসপাতাল করে দীর্ঘ এক বছরে দুই লাখ রোাঙ্গিা ও এক লাখ স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শুধু চিকিৎসা নয়; বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী, ও কম্বল এবং কাপড় দিয়ে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করেছে এই হাসপাতাল।

উল্লেখ্য, উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের জন্য বিএনপি উদ্যোগে ড্যাব কর্তৃক পরিচালিত হাসপাতালটি দেশের শীর্ষ সারির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণস্বাস্থ্যকে হস্তান্তর করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম খান তা হস্তান্তর করেন। গণস্বাস্থ্যের পক্ষে তা গ্রহণ করেন পরিচালক ডা. ইয়াসিমা ইয়াছমিন।

ড্যাবের হাসপাতালে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন– বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও ভাইসচেয়ারম্যান সোলতান মাহমুদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপন, সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান ফাহিমসহ আরো অনেকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •