ডেস্ক নিউজ:
৭ দফা দাবি ঘোষণা করার পর ‘অল আউট’ আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এজন্য দলটি একটি ‘মোক্ষম’ সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। জানা গেছে, বিরোধী দলগুলোর দাবি আমলে না নিয়ে ক্ষমতাসীনরা যেভাবে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠনের পরিকল্পনা করছে, সেই পরিকল্পনা মাথায় নিয়েই বিএনপি তাদের আন্দোলন কৌশল নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।

সিনিয়র একাধিক নেতা বলেছেন, বিএনপি সতর্ক পদক্ষেপে এগুচ্ছে। নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সাথে সাথে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। সেই কর্মসূচিতে সরকারবিরোধী সব দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকবে।

জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ছোট্ট পরিসরের একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা ভাবছে শাসক দল। ওই সরকার গঠন করা হবে সংসদে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মূলত নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সেই সময়টা আন্দোলনের জন্য বেছে নিতে চায়। এর আগে দলটি ২টি কাজ এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক. জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দুই. নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার কর্মসূচি দেয়া।

জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারসহ সাত দফা দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এ কর্মসূচি শুরু হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম- জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দলের নেতারা জানিয়েছেন, সরকার বিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হওয়ার আগে বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে জনমত সৃষ্টি করতে চায় তারা। মূলত এর মাধ্যমে সারাদেশে আন্দোলনের যাত্রা শুরু হবে, যা চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ কিংবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে কঠোর কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে।

দলটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতিও দ্রুত শেষ করে আনছে। অধিকাংশ জেলায় কমিটি দেয়া হয়েছে। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠনও শেষের পথে। দলের সংস্কারপন্থিদের মধ্যে যারা ভুল বুঝে আসতে চায়, তাদের দলে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে এখন আর বিরোধিতা করা হবে না। কারণ, দলটির হাইকমান্ড মনে করছে, এখন দলের ঐক্যটা সবচেয়ে বেশি জরুরী।

এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের যে প্রক্রিয়া মাঝ পথে রয়েছে, তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে চায় বিএনপি। জানা গেছে, নির্বাচন এবং কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের আলোচনার জন্য একটা প্যানেল ঠিক হয়েছে। প্যানেলে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে আছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি আ স ম রব ও বিকল্প ধারা মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নান। বিএনপি’র পক্ষে আছেন মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

একটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী দু-একদিনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ও বিএনপির প্যানেল আলোচকদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটবদ্ধ আন্দোলন, কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী নির্বাচন ছাড়াও নির্বাচন পরবর্তী কাজ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এক্ষেত্রে বৈঠকে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতার বিষয়টিও উঠে আসতে পারে।

যুক্তফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না শুক্রবার বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে যে ঐক্য প্রচেষ্টা চলছে, সেটিকে আর এগিয়ে নেওয়া। আলোচনার মধ্যে বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টি।

গত কয়েক মাসে অনানুষ্ঠানিকভাবে ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত নেতাদের সঙ্গে বিএনপির মহাসচিবসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে যুক্তফ্রন্টের বৈঠকে বিএনপির মহাসচিবের পক্ষে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অংশ নেন। ওই বৈঠকে বিএনপির অনুরোধের কারণে তাদের গত ৩০ সেপ্টেম্বরের সমাবেশের পরই ঐক্যের কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় খুব দ্রুতই যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে এখন আলোচনায় বসবে বিএনপি।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা প্রদান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যেতে আগ্রহী বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে। এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যে কর্মসূচির মাধ্যমে এই সরকারের পরিবর্তন আনা সম্ভবপর হবে। পরিস্থিতি বলে দেবে কী ধরনের কর্মসূচি দিতে হবে। তিনি বলেছেন, আগামী এক মাসেই অনেক পরিবর্তন দেখা যাবে। সরকার যতই প্রচারনা করুক না কেনো একতরফাভাবে। তাতে কোনো লাভ নাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •