ডেস্ক নিউজ:
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) সম্প্রতি ২০১৭ সালের বৈশ্বিক অস্ত্র বাণিজ্যের তথ্য প্রকাশ করেছে। সার্বিকভাবে এশিয়ার জন্য বড় খবর ও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষভাবে খবর এটি।
এসআইপিআরআই শুরুতেই জানিয়েছে, এশিয়া (উপমহাদেশ ও ওশেনিয়াসহ) গত দশকে ছিল বিশ্বের একক বৃহত্তম অস্ত্র বাজার।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, এই অঞ্চলেই ২-১৩-২০১৭ সময়কালে সকল আন্তর্জতিক অস্ত্র হস্তান্তরের ৪২ ভাগ হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মধ্যপ্রাচ্যকে (৩২) সে আনায়াসেই হারিয়ে দিয়েছে।
অবশ্য এশিয়ার অস্ত্র আমদানি আগের ৪৬ ভাগ থেকে এবার কিছুটা কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকেই বেশি অস্ত্র কেনে এশিয়া
বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারকদের অনেকেই এশিয়ার। এসআইপিআরআই হিসাব অনুযায়ী ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ১০টি বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারকের পাঁচটিই এই অঞ্চলের। এগুলো হলো ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান।
আর শীর্ষ ১৫ আমদানিকারকের মধ্যে ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের নাম রয়েছে।
এই সময়ে সকল অস্ত্র আমদানির ১২ ভাগ করেছে ভারত। গত কয়েক দশক ধরে তারাই বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক। তারা সৌদি আরবের চেয়ে সামান্য এগিয়ে আছে। ২০০৮-২০১২ সময়কাল থেকে তারা ২০১৩-২০১৭ সময়কালে অস্ত্র আমদানি বাড়িয়েছে ২৪ ভাগ।
এসআইপিআরআই হিসাব অনুযায়ী এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে অস্ত্র আমদানি বেড়েছে ৩.৬ ভাগ এবং তা আগের দশকের চেয়ে ৫৯ ভাগ বেশি।

এশিয়ায় অস্ত্র আমদানির ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে যে দুই দেশ তারা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
এসআইপিআরআই হিসাব অনুযায়ী বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের দখল ৩৪ ভাগ। আর রাশিয়া আছে দ্বিতীয়স্থানে। তাদের দখলে আছে অস্ত্র বাজারের ২২ ভাগ।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রফতানি বেড়েছে। এশিয়াতেই মার্কিন অস্ত্রের এক-তৃতীয়াংশ রফতানি হচ্ছে। মার্কিন অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো অস্ট্রেলিয়া ও তাইওয়ান।
এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে রাশিয়া এখনো বেশি অস্ত্র বিক্রি করলেও মস্কোর ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি ক্রেতার কাছ থেকে ব্যবসা কেড়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন।

উদাহরণ হিসেবে ভারতের কথা বলা যায়, ভারতে এখনো রাশিয়া বৃহত্তম অস্ত্র বিক্রেতা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সেখানে বাজার সম্প্রসারণ করতে পেড়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র হলো ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র বিক্রেতা।

২০০৮-২০১২ থেকে ২০১৩-২০১৭ সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভারতের অস্ত্র ক্রয় বেড়েছে ৫৫৭ শতাংশ।
মস্কোর কাছ থেকে জঙ্গিবিমান ক্রয়কারী ইন্দোনেশিয়া তার বাজারে বৈচিত্র্য আনায় ওয়াশিংটন উপকৃত হচ্ছে।
এগিয়ে আসছে চীন
এশিয়ার অস্ত্র বাজারে চীনও তার প্রভাব বাড়াচ্ছে। ২০০৮-২০১২ থেকে ২০১৩-২০১৭ সময়কালে চীন বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারে ৫.৭ ভাগ করায়ত্ত করেছে। এখন তার অবস্থান পঞ্চম স্থানে। তার আগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানি।
বেইজিং থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কেনে এশিয়া। ২০১৩-২০১৭ সময়কালে এই অঞ্চলে বিক্রি হয়েছে চীনা অস্ত্রের ৭২ ভাগ।
পাকিস্তান তার অস্ত্রের ৭০ ভাগ কেনে চীন থেকে। বেইজিং এখন পাকিস্তানের কাছে ৮টি ও থাইল্যান্ডের কাছে ৩টি ইয়ুন-ক্লাস সাবমেরিন রফতানি করার চুক্তি করেছে। মিয়ানমারের কাছে ট্যাংক এবং ইন্দোনেশিয়ার কাছে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুইজ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করছে চীন। তাছঅড়া তারা ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নাইজেরিয়া ও মিসরেও অস্ত্র বিক্রি করছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •