আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট মেং হংওয়ে চীনে যাবার পথে নিখোঁজ হয়েছেন। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি পুলিশ।

ইন্টারপোলের সদর দপ্তর, ফ্রান্সের লিয়ন শহর থেকে গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পর থেকে তার পরিবার আর কোন খোঁজ পায়নি।

তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, তিনি ফ্রান্সে নিখোঁজ হননি। একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট লিখেছে, ৬৪ বছরের মেংকে চীনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কিন্তু এটা পরিষ্কার নয় কেন চীনের আইন শৃঙ্খলারক্ষী কর্তৃপক্ষ তার বিষয়ে তদন্ত করছে বা কোথায় তাকে রাখা হয়েছে।মেং এর বিষয়ে প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করেনি চীনের কর্মকর্তারা।

মেং হংওয়ের স্ত্রী ফরাসি পুলিশের কাছে তার স্বামী নিখোঁজ থাকার অভিযোগ জানানোর পর তদন্ত শুরু করে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে তাকে উদ্ধৃত করে ফরাসি পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তারা মেং এর কোন খোঁজ পাননি।

তবে পরে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসলে তারিখটি হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। চীনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়েছে। ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্টের অবস্থা নিয়ে ফ্রান্স ধাঁধায় পড়েছে এবং তার স্ত্রীর ওপর হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। এর বাইরে আর বিস্তারিত কিছু জানায়নি ফরাসি মন্ত্রণালয়।

মেং হংওয়ের চীনে নিখোঁজের ঘটনার সঙ্গে দেশটির কম্যুনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে। সন্দেহের তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের হঠাৎ করে জনসম্মুখ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ওই ব্যক্তি নিখোঁজ বলে জানানো হয়।

সাধারণত দল থেকে সংক্ষিপ্ত একটি বিবৃতি জারি করা হয় যে, নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। দলের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে তার কারাদণ্ডের কোন শাস্তি ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে ১০ লাখের বেশি দলের কর্মকর্তাদের এভাবে শৃঙ্খলাজনিত শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

তবে মেং হংওয়ের ঘটনাটি অনেকগুলো কারণে উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, তার স্ত্রী ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন যে তার স্বামী কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। সাধারণত বেশি শাস্তি হতে পারে, এরকম আশংকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা বিদেশি কোন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ তোলেন না।

তার স্ত্রী কি ভেবেছেন, তার জন্য এখন আর কোন বিকল্প নেই? একসময় চীনা কর্তৃপক্ষ তাকে ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্টের মতো লোভনীয় পদ পাইয়ে দিয়েছিল। তিনি যদি চীনা রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যেই নিখোঁজ হন, তাহলে কাকে তিনি ক্ষুব্ধ করে তুলেছিলেন? তিনি এমন কি করেছেন যাতে, বেইজিং প্রকাশ্যে এভাবে ইন্টারপোলের শীর্ষ পদটি বাতিল করে দেবে?

একটি বিবৃতিতে ইন্টারপোল বলছে, মেং এর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তারা অবগত আছে। এটা ফ্রান্স ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৯২টি দেশের এই সংস্থাটির প্রতিদিনের কার্যক্রম মহাসচিব দেখভাল করে থাকেন, প্রেসিডেন্ট নয়।

প্রেসিডেন্ট হিসাবে মেং নির্বাহী কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন, যা ইন্টারপোলের সার্বিক নীতিমালা এবং পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে থাকে। ২০১৬ সালে তিনি ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার মেয়াদ ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মাদক, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী এবং সীমান্ত রক্ষার মতো কাজে তার ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ইন্টারপোলের দায়িত্ব নেয়ার আগে মেং চীনের জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী ছিলেন। তার নির্বাচনের সময় মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল যে, এই নিয়োগ বিদেশে পালিয়ে যাওয়া চীনা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আটক করতে চীনকে সহায়তা করবে।

কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিতে আন্তর্জাতিক রেড নোটিশ জারি করতে পারে ইন্টারপোল। তবে কোন দেশের ভেতর কর্মকর্তা পাঠিয়ে কাউকে গ্রেফতার করা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা নেই সংস্থাটির।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •