শফিক আজাদ, উখিয়া:

পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের অগ্রদূত শিক্ষা অফিসার আবু আহমদকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বদলী করা হয়েছে। এ বদলীর খবর নাইক্ষ্যংছড়িতে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্রে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কী কারণে তার বিরুদ্ধে এমন বদলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা না গেলে তবে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রেজু গর্জনবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি গেজেটের অফিস আদেশ দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। যদিওবা উক্ত আদেশ মহামান্য হাইকোর্ট স্থগিত করেন। কিন্তু উচ্চমহল থেকে তাকে ওই গেজেটের অফিস আদেশের অনুবলে বেতন-ভাতা ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। শিক্ষা কর্মকর্তা আবু আহমেদ একজন সৎ, আদর্শিক অফিসার হিসাবে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশকে সম্মান দেখিয়ে বেতন-ভাতা করেননি। যার প্রেক্ষিতে তাকে বদলী করা হয়। নাইক্ষ্যংছড়ি শিক্ষকরা তার এই বদলী ষড়যন্ত্রমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবী জানান। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইচ বুকে চিংচালা নামের এক শিক্ষক তার আইডি’তে লেখেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ও বিদ্যালয় ভবন সমূহের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পথিকৃৎ আমাদের সম্মানিত জনাব আবু আহমেদ স্যার। শুনেছি আপনাকে বদলী করা হয়েছে। আপনার বদলীতে নাইক্ষ্যংছড়ি প্রাথমিক শিক্ষায় ভাটা পড়বে এটা নিশ্চিত। আপনার বদলী স্থগিত হোক, কামনা করছি। যদি চলেও যান ভালো থাকুন।

আরেক শিক্ষক নুরুল ইসলাম লেখেছেন, স্যার আপনার অনবরত প্রচেষ্টা ও তদারকিতে গড়া নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অনেকদুর এগিয়েছে। আবু আহমেদ স্যারের মাধ্যমেই এবং উনার প্রচেষ্টায় ক্রীড়া ক্ষেত্রে অত্র উপজেলা জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে।বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে দুর্নীতির বিরোদ্ধে উনার প্রয়াস অবিস্মরণীয়। শিক্ষা অফিসের সুন্দর্য বর্ধনে সামনে বাগান ও শিশুদের খেলনা সহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সেরা উপজেলা শিক্ষা অফিস বলে মনে হয়। সততায় অনন্য যার নাম তিনি হচ্ছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহমেদ। সার্বজনীনতায় সবার সেরা যিনি তিনি হলেন আবু আহমেদ।সরকারের নীতি বাস্তবায়নে যিনি সেরা তিনি হলেন আবু আহমেদ। ব্যক্তিত্ব নীতি নৈতিকতা ও অফিসার হিসেবে জনগণের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে এবং প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশ সাধনে তৃণমূলে কৌশল প্রয়োগে যিনি সেরা তিনিই আবু আহমেদ। এই কর্মবীরকে স্বশ্রদ্ধ সালাম। স্যার আপনি চলে গেলে আমাদের কোন দুঃখ নেই তবে এ জনপদে আপনার অভাব পুরন হবার নয়। নাইক্ষ্যংছড়ির প্রাথমিক শিক্ষা পেছনে ধাবিত হবে।

মাষ্টার মোঃ ইদ্রিচ তার ফেইচবুক আইডি’তে লেখেছেন,
I PRAY TO ALMIGHTY ALLAH, YOU COME BACK IN YOUR OWN PLACE THAT IS NAIKHONG CHARI UPAZILA.

এরশাদুল হক লেখেছেন, নাইক্ষ্যংছড়ির শিক্ষা বিস্তারের অগ্রদুত আবু আহমদ স্যারের বদলী উপজেলার প্রাঃ শিক্ষার অগ্রযাত্রা থমকে যেতে পারে।

গণমাধ্যমকর্মী আজিজুল হক রানা লেখেছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব অাবু অাহমেদ স্যারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মুলক স্টান্ড রিলিজ! নাইক্ষ্যংছড়ি শিক্ষাঙ্গনে অশনি সংকেত বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবক মহল।

এভাবে অনেক,সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষ তাদের অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি এই বদলী আদেশ বাতিলের দাবী জানিয়েছেন।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, একটি অপশক্তি সম্প্রতি সময়ে অহেতুক নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহমদের কাছে অন্যায় আবদার করে আসছিলেন।তারা অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পেরে সংশ্লিষ্ট উপরিমহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে অপতৎপরতার অংশ বিশেষ বলেও মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্র।

উল্লেখ্য যে, ১অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) নার্গিস সাজেদা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আগামী ০৮ অক্টোবর তাঁকে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদানের নির্দেশনা দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা

অধিদপ্তর নির্দেশ পাঠিয়েছেন। যার স্মারক নং- ৩৮.১০১.০১৯.০০.০০.০১৫.২০১৬-১৫৩। উল্লেখ করা হয়েছে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বদলিকৃত কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদান না করলে ৯অক্টোবর থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবে। অপরদিকে এ বদলির খবর শুনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বেশ ক’জন শিক্ষক জানিয়েছেন, আবু আহমদ নাইক্ষ্যংছড়ি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে অত্যন্ত সততা,নিষ্টা ও আন্তরিকতার সহিত দায়িত্ব পালন করায় চলতি বছর তিনি বান্দরবান জেলা শ্রেষ্ট শিক্ষা অফিসার মনোনীত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানার জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহমদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •