বিশেষ প্রতিবেদক:

এলএ অফিসের অনিয়মে সরকারের উন্নয়ন অর্জন ম্লান হচ্ছে উল্লেখ করে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেছেন, বর্তমান সরকার কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। রেললাইনসহ সব প্রকল্পে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ অফিস। এখানে কর্মরত সার্ভেয়ারেরা ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের কাছ থেকে লাখে ৭ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছে। দাবি পূরণ না হলেই ভোগান্তিতে ফেলা হয়। ফলে নিরবে সহ্য করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কমিশন দিচ্ছে ভুক্তভোগিরা। যা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরী করছে।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে জাতীয় উন্নয়ন মেলার ‘বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন, আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ কমল এ অভিযোগ তুলেন। জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এমপি কমল আরো বলেন, সার্ভেয়ারদের লাগামহীন দুর্নীতির কারণে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সব প্রকল্পে জটিলতা তৈরী হচ্ছে। বিঘ্ন ঘটছে সরকারের মহৎ উদ্যোগে। তারা পরিচয় জানার পরও আমার আত্মীয়দের কাছ থেকেও টাকা চেয়েছে এবং অনেকের কাছ থেকে নিয়েছেও। গুটিকয়েক সার্ভেয়ারের কারণে সরকারের দুর্নাম হোক, সেটা আমরা চায় না। আপনি (ডিসি) এসব দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ারদের দ্রুত বিদায় করে নতুন সার্ভেয়ার নিয়ে আসেন। প্রয়োজন হলে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ম্যাজিস্ট্রেট আরও বাড়িয়ে দেন। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেবেন না। বক্তব্যের এক পর্যায়ে মেলার মঞ্চের সামনে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে সাংসদ কমল প্রশ্ন করেন, সার্ভেয়ারেরা যে কমিশনের নামে দুর্নীতি করছে এটা সঠিক কিনা? উপস্থিত সকলে জোর গলায় ‘হ্যাঁ’ বলে তার প্রশ্নের উত্তর দেন। কেউ কেউ নানা পেশার চিহ্নিত বেশ কয়েকজন এলএ অফিসে দালালি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। এসব দুর্নীতি আর হয়রানি বন্ধের দাবী জানান সাধারণ জনতা।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার, জেলা জাসদের সভাপতি নইমুল হক চৌধুরী টুটুল ও জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান কানিজ ফাতেমা আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আফসার। সকালে জেলা প্রশাসকের নেতৃতে ডিসি অফিসের সামনে থেকে উন্নয়ন মেলার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহীদ স্মরণী সড়ক হয়ে বাহারছড়া গোল চত্বর মাঠে আয়োজিত উন্নয়ন মেলা প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়।

এরপর সকাল ১০টায় সারাদেশে একযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন মেলা উদ্বোধনের পরই কক্সবাজারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে অতিথিরা মেলার স্টল পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসন সূ্ত্র জানায়, কক্সবাজারে দেশের অন্য এলাকার চেয়ে বেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাই ১২৪টি স্টল নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় মেলা চলছে কক্সবাজারে। মেলায় সন্ধ্যার পর থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে মঞ্চ কাঁপাবেন স্থানীয় ও দেশসেরা শিল্পীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •