বিবিসি:
বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামের সরকারবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক জোটে সরাসরি যোগ না দিয়ে ‘যুগপৎ আন্দোলন’ করতে চায় বিএনপি। দলটির নেতারা আভাস দিচ্ছেন, জামায়াতকেও সাথে রাখতে চান তারা। বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলার সময় বিএনপির দুজন সিনিয়র নেতা এমন ধারণা দিয়েছেন।

বি. চৌধুরী এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই জোটে বিএনপির অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ নিয়ে অন্যদের আপত্তি রয়েছে। তবে এ নিয়ে পরিষ্কার কিছু না বললেও দলের নেতাদের কাছ থেকে এমন ইংগিত পাওয়া গেছে যে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীকে নিয়েই এগুতে চায়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারপার্সন শামসুজ্জামান দুদু বলছেন, “জামায়াতে ইসলামী ২০ দলের একটি শরিক দল। তারা বেশ অনেক দিন ধরেই এতে আছে। জামায়াতে ইসলামী এখন নিবন্ধনকৃত দল না হলেও তাদের একটা অবস্থান আছে।”

“জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে সবারই কিছু বক্তব্য, দৃষ্টিভঙ্গি আছে” বলেন তিনি। তার কথা হলো, এ নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হতে পারে, তবে জামায়াতে ইসলামী ‘কোন বাধা হবে বলে মনে হয় না।’

কারণ হিসেবে শামসুজ্জামান দুদু বলছেন, “এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিন জোট ছিল। জামাতও ছিল সেই আন্দোলনে। তখন একটা বুদ্ধি বের করে সবাই কাজ করেছে। এখনো একটা জায়গায় পরামর্শ, একটা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমরা বোধহয় এই সমস্যার ঊর্ধ্বে যেতে পারবো।”

অর্থাৎ বিএনপি তার শরিক দল জামায়াত ইসলামীকে সাথে নিয়েই এগুতে চায় – তেমন আভাসই কি দিলেন এই নেতা?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলছেন, আপাতত ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে যুগপৎ আন্দোলন হবে। একই ধরনের কর্মসূচী দেয়া হবে, তবে সেগুলো আলাদা করে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলছেন, “এটি হবে যুগপৎ আন্দোলন। কর্মসূচী একই রকমের হবে। আমরা আমাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে করবো। ওরা ওদের প্ল্যাটফর্ম থেকে।”

মওদুদ আহমেদ বলেন, “আমরা একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করবো। ওরা ওদের কোন অনুষ্ঠানে যদি নেমন্তন্ন করেন আমরা যাবো। আমরাও আমাদের অনুষ্ঠানে তাদের ডাকলে তারা আসবেন। আপাতত এই চিন্তায় আছি আমরা ।”

দলটির ভাইস চেয়ারপার্সন শামসুজ্জামান দুদুও ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানিয়েছেন, “আমাদের লক্ষটা এক জায়গায় হওয়া, একটা মঞ্চে। কোনো কারণে যদি সেটি সম্ভব না হয়, সময়ের প্রশ্নে, তাহলেও একটি জায়গায় না হলেও পাশাপাশি আমরা এটা করার চেষ্টা করবো। এখন যে পরিস্থিতি, যে সম্পর্ক, অনুভূতি – তাতে একসঙ্গে আমরা চলতে পারবো বলেই মনে হচ্ছে।”

কিন্তু নির্বাচনের আর খুব বেশি বাকি নেই। একসাথে চলতে পারলেও এটি আদৌ কোন নির্বাচনী জোট হবে কিনা, এবং সে নিয়ে ঐক্যমত্য হচ্ছে কিনা – সেই প্রশ্নও রয়েছে।

মওদুদ আহমেদ বলছেন, “যদি ভবিষ্যতে, জনগণের অংশিদারিত্বের মাধ্যমে, দাবির প্রেক্ষাপটে, নির্বাচনের আগে যদি এক হতে হয় – সেটা আমরা বিবেচনা করবো। সেটা চিন্তা করার সময়ও এখন না। সময়ই এটা নির্ধারণ করবে। এটার ব্যাপারে এই মুহূর্তে আমরা কিছু বলতে চাইনা।”

গণফোরাম সভাপতি ডঃ কামাল হোসেনের আহবানে ও তার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামের বিরোধী এই জোটে বিকল্পধারা, যুক্তফ্রন্ট সহ আরও ছোট কয়েকটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাদের সাথে একই মঞ্চে প্রকাশ্য এক সভায় অংশও নিয়েছে বিএনপি।

কিন্তু বিএনপি এই জোটে সরাসরি অংশ নিচ্ছে কিনা – সে নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে।

তার মাঝেই বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য এলো। বিএনপি জামায়াতে ইসলামিকে নিয়েই এগুতে চায়, কিন্তু জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার দলগুলো থেকে ইতিমধ্যেই জামায়াতের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে এই জোট তাহলে কোন দিকে যাচ্ছে? জিজ্ঞেস করেছিলাম রাজনীতির অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর কাছে।

তিনি বলছেন, “কয়েক দিনের ভেতরে যেটা দেখা গেছে, যে সব বক্তব্য আসছে, সেটাতে দেখা যাচ্ছে যে যুক্তফ্রন্ট এবং বিএনপির ভিতরে কতগুলো বেসিক ইস্যুতে সমঝোতা হয়নি। সমঝোতার অভাবে তারা এখনো পর্যন্ত কোন লিয়াজোঁ কমিটি করতে পারেনি।”

“সমঝোতার একটা বিরাট ব্যাপার হলো জামায়াতকে নিয়ে। তারপর রয়েছে আসন ভাগাভাগির ব্যাপার। আর কে এই ঐক্যজোটের নেতৃত্ব দেবেন সেটি নিয়েও কোন পরিষ্কার ছবি নেই। অতএব তারা যে বলছেন তারা পাশাপাশি হাঁটবেন, এটা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে কতদূর সাফল্য অর্জন করবে, সে বিষয়ে অনেকের দ্বিধা থেকে যাচ্ছে” – বলেন অধ্যাপক চৌধুরী।

তিনি আরো বলছেন, “নির্বাচন তো একদম দরজার গোড়ায়। ডিসেম্বরে ইলেকশন হবে শুনছি আমরা। তারা এখনো পর্যন্ত যদি কোন সমঝোতা না করে কোনরকম আন্দোলন ও কর্মসূচী দিতে না পারে তাহলে এই ঐক্য জোটের আমি খুব একটা ভবিষ্যৎ দেখছি না।”

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, আলাপ আলোচনা করে খুব শীঘ্রই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে একটি ‘লিয়াজোঁ কমিটি’ গঠন করা হবে।

এই শনিবার বিএনপি ঢাকায় যে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে সেখানে ভবিষ্যৎ কর্মপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •