মৃত্যুর দুয়ারেও পাইলট জাকারিয়ার দৃঢ়তা!!!


ঢাকা থেকে ইউএস বাংলার ফ্লাইটে কক্সবাজার যাচ্ছিলাম আমি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা কক্সবাজারের মিউজিক্যাল ব্যান্ড এসোসিয়েশন সদস্য কন্ঠশিল্পী শহিদুল ইসলাম শহীদ (FB id-ojattric manush)। শাহজালাল বিমান বন্দর থেকে গতকাল ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং তারিখ বেলা সাড়ে ১১টায় উড়াল দেওয়া বিমান ঠিকমতোই পৌঁছে গিয়েছিল কক্সবাজার। ঘোষণা আসল-অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে অবতরণ করবে বিমানটি। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম সবাই।

পাইলট জাকারিয়া , ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

রানওয়ে দেখছিলাম চোখের সামনে। কিন্তু মাটি স্পর্শ করার মুহুর্তে আবার উটে গেল বিমানটি। এবার জানানো হলো সিগন্যালিং সমস্যা। আকাশে চক্কর দিচ্ছিল প্রায় এক ঘন্টা ধরে। আতংক বাড়ছিল সবার। কিন্তু পাইলট জাকারিয়া সবুজ বার বার অভয় দিচ্ছিলেন।সব প্রস্তুতির পর শেষ মুহুর্তে পাইলট জানালেন-‘সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুণ। আমরা জরুরী অবতরণ করছি’।সে সময় সব যাত্রীদের আত্ব চিৎকার আর মৃত্যুভয়ে ভারী হয়ে আসছিল ফ্লাইটের ভিরতের পরিবেশ।সবাই যার যার মত করে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে শুরু করলেন।যা নিজ চোখে না দেখলে একটি কল্পনা মাত্র।

বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারত ইউএস বাংলার ফ্লাইটটিতে। ১৭১জন যাত্রী সবার জীবন ছিল ঝুঁকিতে। বিমানের চাকা না খোলা অবস্থায় অবতরনে গেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। কিংবা ধুমড়ে মুচড়ে যেতে পারত। কিন্তু অসীম দৃঢ়তায় জাকারিয়া সবুজ মোকাবেলা করলেন সবটুকু।

কক্সবাজারের আকাশে পৌঁছে যান্ত্রিক ত্রুটির সংকেত পেয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানান পাইলট। সেই সঙ্গে জরুরি অবতরণের অনুমতি চান। তড়িৎ গতিতে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন বলে আমরা পরে জানতে পারি। রানওয়ের দিকে মুখ করে সাজানো হয় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স।

কিছুক্ষণ পর রানওয়ের দিকে ফ্লাইটটি নিয়ে আসেন ক্যাপ্টেন জাকারিয়া। তার সামনে আর কোনো বিকল্প তখন নেই। পেছনের চাকা নামিয়ে চট্টগ্রামের শাহ আমানত এয়ারপোর্টের রানওয়ে স্পর্শ করলো ইউএস বাংলার বোয়িং বিএস ১৪১।

তখন চারদিকে ভয়ার্ত আর্ চিৎকার।পরে দেখতে পেলাম দূর থেকে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, সামনে চাকা ছাড়াই বিমানটি রানওয়ের দিকে ছুটছে। আঁকা বাঁকা পথে না গিয়ে প্লেন রানওয়ে ধরে সোজাসোজি চলতে থাকলো। গতি নিয়ন্ত্রণের পর সামনের অংশ রানওয়ের গায়ে হালকা স্পর্শ খায়। তখন একটু ধোঁয়া বের হয়।আমরা সবাই তাড়াহুড়ো করে নামছিলাম।

পেছন থেকে ছুটে আসছে একের পর এক ফায়ার সার্ভিসের জরুরি গাড়ি। প্লেন সামলে নেন পাইলট জাকারিয়া। সবাই ধরে নিয়েছিল হয়ত বিপদ ঘটে গেছে। জরুরি নির্গমন দরজা দিয়ে যাত্রীরাও হুড়োহুড়ি করে নামার চেষ্টা করছিল। তাতে কেউ কেউ সামান্য আহত হলেও বড় ধরনের বিপদ ঘটেনি।

তবে উড়োজাহাজ অবতরণের পর হুড়োহুড়ি করে নামার সময় পড়ে গিয়ে এবং পাখার আঘাতে ৪০ জন যাত্রীর কেউ হাতে, কেউ পায়ে আঘাত পেয়েছেন। কারও মাথা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশে কেটে গেছে। এদের মধ্যে ২৭ জনকে সামান্য ড্রেসিং করে দিতে হয়েছে, ১২ জনকে ব্যান্ডেজ দিতে হয়েছে।বলাযায় আহত যাত্রীদের বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন।

এক নারীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে‘ওই নারীর আগে থেকেই পায়ে সমস্যা ছিল। পা ফোলা ছিল। হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আরও সমস্যা হয়েছে। তাকে বিমানবাহিনীর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।’

বিপদসংকুল অবস্থায় এমন নিরাপদ অবতরণে প্রশংসায় ভাসছেন পাইলট জাকারিয়া সবুজ।
এমন সাহসী ভূমিকার পর পাইলট জাকারিয়া বলেন ‘আমার প্রধান দায়িত্ব ছিল, যাত্রীদের কীভাবে সুস্থ ও নিরাপদে নিচে নামানো যায়। সেটাই করেছি। মাথায় যদি অন্য কিছু আনি তাহলে এদিকে মনোযোগ দিতে পারতাম না।’

ঐ বিমানের একজন যাত্রী হিসেবে আমি পাইলট জাকারিয়াকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

সেই সাথে ধন্যবাদ শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই আজাদ মইনুদ্দীন ভাইয়াকে।সকলকে সঠিক তথ্য জানানোর জন্য।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •