আলমগীর মানিক,রাঙামাটি :

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজদের পক্ষে দাঁড়ালো রাঙাপানি এলাকার পাহাড়ি নারীরা। রাঙামাটি সেনাসদর দফতরের মাত্র আধা কিলোমিটার দূরের লোকালয় থেকে দুই চাঁদাবাজকে হাতেনাতে গ্রেফতারের পরও তাদের থানা পর্যন্ত নিয়ে আসা যায়নি নারীদের তৈরি মানবঢালের কারনে। চাঁদাবাজদের বাঁচাতে মাঠে নামা নারীরা সেনা সদস্যদের উপরে লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালেও ধৈর্য্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সেনা জোয়ানরা। ঔই নারীদের উপর জোর খাটিয়ে তারা হয়তো চাঁদাবাজ দুজনকে আনতে পারতো। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ পেতো পাহাড়ের কুচক্রি মহল। এমন মন্তব্য করে নিরাপত্তা বাহিনীর এক উর্দ্বতন কর্মকর্তা জানান, মূলতঃ এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দুই চাঁদাবাজকে হাতেনাতে আটকের পরও তাদের ছেড়ে দিয়ে আসতে বাধ্য হয় যৌথবাহিনীর সদস্যরা। বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা শহরের রাঙ্গাপানি এলাকায় নজিরবিহীন এই ঘটনা সংঘটিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে রাঙ্গাপানি এলাকায় দু’চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিরাপত্তাবাহিনীর একটি টহলদল ওই দু’চাদাঁবাজ সন্ত্রাসীকে আটক করার জন্য অভিযান পরিচালনা করে চাঁদা কালেক্টর সুরেশ চাকমা ও নয়নমনি চাকমাকে আটক করে। এদিকে এই দু’জনকে আটকের পর মুহুর্তের মধ্যে এলাকার পাহাড়ি নারীরা আটককৃতদের নিয়ে আসতে যৌথবাহিনীকে বাঁধা প্রদান করে। ওই নারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর লাঠি-সোঠা নিয়ে হামলা চালিয়ে আটক দুই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীকে মুহুর্তের মধ্যেই ছিনতাই করে নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেয়। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর থেকে রাঙামাটির সচেতন মহল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইতে শুরু করে। সচেতন মহলের দাবি নিরাপত্তা বাহিনী হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বাহিনী। তাদের উপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো সত্যি ঘৃণার জন্ম দিয়েছে এবং যারা এ ধরণের কর্মকান্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে সোস্যাল মিডিয়ায়।

এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১১জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো-১। মালতী চাকমা (৩৫), স্বামীঃ উমায়ে চাকমা, ২। সুভা চাকমা (৩৭), স্বামীঃ জ্যোতি চাকমা, ৩। রুবেশ চাকমা(৪২), পিতাঃ পেদারা চাকমা, ৪। অজিৎ চাকমা(৪৭), পিতাঃ তামরুল চাকমা, ৫। অন্তিক দেওয়ান(৪৪), পিতাঃ শ্যামা প্রসা দেওয়ান, ৬। রিপু চাকমা(২৭), পিতাঃ সুমি মোহন, ৭। সুমন চাকমা(২১), পিতাঃ পূর্ণধন চাকমা, ৮। জাবলিং খীসা(২৪)পিতাঃ প্রিতিরাজ, ৯। লক্ষীমনি চাকমা (৩৫) স্বামীঃ মিথুন চাকমা, ১০। রুপন চাকমা(৪০)স্বামীঃ কোইজ চাকমা, ১১। কালেবরতœ চাকমা(৩৩) স্বামীঃ ফেইল্যা চাকমা।

এদিকে, বুধবার মধ্যরাতে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়ুয়া আটকের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, আমরা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কিছু লোকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনেছি। সার্বিক বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •