শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, কক্সবাজার সদর:

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্বজনরা ক্লিনিকটি ঘেরাও করে রাখলে কৌশলে পালিয়ে যায় চিকিৎসক। ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ঈদগাঁও বাসস্টেশনস্থ পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ল্যাবে। সংঘটিত মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। পরদিন তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। প্রসূতী রাজিয়া সুলতানা ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম বোয়ালখালী এলাকার জামাল উদ্দীন সওদাগরের সহধর্মীনি। অভিযোগে জানা যায়, এদিন রাজিয়া সুলতানার প্রসব বেদনা উঠলে স্বজনরা দ্রুত ঈদগাঁও বাসস্টেশনস্থ উল্লেখিত ক্লিনিকে নিয়ে আসে। সেখানে রা

ত ৮টার দিকে চিকিৎসক তাসনিম জাহান তাকে নরমাল ডেলিভারীর কথা বলে ভর্তি করে। পরে তাকে কয়েকটি ইনজেকশন দিয়ে হাটাহাটি করার পরামর্শ দেয়। সে অনুযায়ী প্রসূতী ক্লিনিক সেন্টারের আঙ্গিনায় হাটাহাটি করার এক পর্যায়ে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার স্বামী জামাল সওদাগর দাবী করেন তার স্ত্রী ঐ ক্লিনিকেই মৃত্যুবরণ করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে তাকে দ্রুত অন্যত্রে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। পুনরায় স্বজনরা তাকে কক্সবাজারস্থ সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে প্রসূতীর স্বজনরা ঐ হাসপাতালে গিয়ে ভাঙচুর ও অবরুদ্ধের চেষ্টা চালায়। এসময় সর্বত্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কৌশলে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্লিনিকটির পরিচালক ও স্বত্ত্বাধিকারী সেলিম উদ্দীন জানান ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে একটি পক্ষ ক্লিনিকে ভাঙচুর ও উত্তেজিত ভাষায় কথাবার্তা বলে চলে যায়। চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার তাসনিম জাহান জানান, কোন ধরণের অপচিকিৎসা করা হয়নি। বেলা ১১টার দিকে ক্লিনিকে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখেন। এতে সন্ধ্যার দিকে সে মাটিয়ে ঢুলে পড়ে।

অভিযোগ আছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন ব্যাঙের ছাতার মত রাতারাতি ক্লিনিক খুলে দীর্ঘদিন চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ইতিপূর্বে একই এলাকার অনেক রোগী উক্ত ক্লিনিকে চিকিৎসার শিকার হয়ে অনেকে মৃত্যুবরণ ও পঙ্গুত্ববরণ করেছে। সচেতন এলাকাবাসী উক্ত ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •