১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন লবণ উদ্বৃত্ত, তবু আমদানির চক্রান্ত

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০২:২৭

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডিতে নতুন ও উন্নত পদ্ধতিতে লবণচাষের পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করেন বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহাম্মদ ইফতিখার।

ইমাম খাইর, সিবিএন:
১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে। এরপরও ঢাকাকেন্দ্রিক চিহ্নিত একটি সিন্ডিকেট সরকারকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে লবণ আমদানির চক্রান্ত করছে। তাদের কারণে প্রাণ ফিরে পাওয়া এই শিল্পটি আবারো হুমকির মুখে পড়ছে। এমনটি মনে করছেন লবণচাষিরা।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারের লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে দেশে লবণের চাহিদা ছিল ১৫ দশমিক ৭৬ লাখ মেট্টিকটন। এই মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ লাখ মেট্টিকটন। এ হিসাবে চাহিদার তুলনায় লবণের ঘাটতি ছিল ২ লাখ ১২ হাজার মেট্টিকটন। সেই বছর ৫ লাখ মেট্টিকটন আমদানি বাদে ২ লাখ ৮৮ মেট্টিকটন উদ্বৃত্ত থাকে।
২০১৮ সালে ১৬ লাখ ২১ হাজার মেট্টিকটন লবণ চাহিদা ছিল। এই বছর ১৪ লাখ ৯৩ হাজার মেট্টিকটন লবণ উৎপাদন হয়। ঘাটতি থাকে ১ লাখ ২৮ হাজার মেট্টিকটন। ২০১৭ সালের উদ্বৃত্ত ২ লাখ ৮৮ মেট্টিকটন বাদে বর্তমানে ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন লবণ চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে।
১৩টি কেন্দ্রের (মোকাম) অধীনে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলা (আংশিক) সহ ৬৪ হাজার ১৪৭ একর জমিতে লবণ চাষ হয়।
লবণ মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন হয়। এরপরও বেশি মুনাফার আশায় আমদানির চক্রান্ত করে চিহ্নিত সিন্ডিকেট। তাদের সুযোগ দিলে চলবে না।
ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, চাহিদার সাথে উৎপাদনের সমতা থাকলে কোন যুক্তিতে লবণ আমদানি করবে? বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। লবণ চাষিদের দাবী, আমদানিকারক সিন্ডিকেটকে শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে। অন্যথায় দেশীয় লবণশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
এদিকে, কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডিতে বিসিকের আওতাধীন জমিতে নতুন ও উন্নত পদ্ধতিতে লবণচাষের পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে। সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহাম্মদ ইফতিখার।
উপস্থিত ছিলেন পরিচালক জীবন কুমার চৌধুরী, মহাব্যবস্থাপক শফিকুল আলম, আঞ্চলিক পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, উপমহাব্যবস্থাপক দিলদার আহমদ চৌধুরী, লবণ বিশেষজ্ঞ রতন কুমার আইচ সরকার।
অতিথিরা প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে স্বাগত জানান লবনমিল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম আজাদসহ সংশ্লিষ্টরা। তিনি লবণশিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •