cbn  

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জমির বিরোধের জের ধরে একবছর আগে টেকনাফের বাহারছাড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া এলাকার স্থানীয় মেম্বার মোঃ ইলিয়াছ একই এলাকার আবদু শুক্কুর নামে এক যুবক নিষ্ঠুর কায়দায় নির্যাতন করেছিলেন। পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে যুবক আবদু শুক্কুরকে প্রথমে বানিয়েছিলেন তার চোর। চুরির অভিযোগ দিয়ে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে রাতেই শুক্কুরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল মেম্বার। ওই দিন রাতভর লাঠি, ইট, লোহার রডসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে অমানুষিক মারধর করা হয়েছিল। পরে সকালে শুক্কুরকে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে মতিউর রহমান ও মোঃ ইসহাক নামে আরো দু’যুবককেও ধরে আনা হয়েছিল।

পরে তিনজনকে ইচ্ছে মতো পিটিয়ে গলায় তারের বান্ডিল চোর লিখিত কাগজ ঝুলিয়ে এলাকায় ঘুরানো হয়। কিন্তু তাতে প্রতিহিংসা মিটেনি মেম্বার ইলিয়াছের। একদিন পর পুলিশের সাথে আঁতাত করে চোর থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজিয়ে ইয়াবা দিয়ে শুক্কুরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় মেম্বার ইলিয়াছ। পুলিশ মরণাপন্ন অবস্থায় তাকে ইয়াবা মামলা দিয়ে পাঠিয়েছিল জেলে। ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই এই ঘটনা ঘটেছিল। আঘাতের ফলে চিকিৎসা না পেয়ে ১৯দিন পর কারাগারে মারা যায় শুক্কুর। এর এক বছর ২ মাস পর গত ১০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বাবা হাসান আহমেদ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার আসামীরা হলো- মেম্বার মোঃ ইলিয়াছ, কালা মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ হোছাইন, মোহসেন আলীর পুত্র বদিউর রহমান প্রকাশ ইয়াবা বদি, মৃত ছিদ্দিক আহমদের পুত্র ছেবর মিয়া।

নিহত শুক্কুরের বাবা হাসান আহমদ বলেন, আমার ক্রয় করা ৩০ শতক জমি দখল করতেই মেম্বার মোঃ ইলিয়াছ হাসান আহমদের উপর ক্ষুব্ধ ছিলো। শুক্কুরকে যে বিদ্যুতের তারগুলো দিয়ে ফাঁসানো হয়েছিল সেই তারগুলো আমার বাড়িতে ছিলো। সেগুলো বাড়ির জন্য এনে রেখেছিলাম। পরে চোর সাজিয়ে ক্ষান্ত না হয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে আমার ছেলেটি অসহনীয় কষ্ট নিয়ে মৃত্যু বরণ করেছিল। শুধু তাই নয়; ওই সময় আমার দোকানে ভাংচুর চালিয়ে ৮০ হাজার টাকার মালামালও লুট করেছিল। কিন্তু থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি। বিভিন্ন গণমান্য ব্যক্তির কাছেও গিয়েও সহযোগিতা পাইনি। বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। বিভিন্ন সময় মেম্বার ইলিয়াছ সমাঝোতার কথা বললেও তা করেনি। তাই বাধ্য হয়ে এক বছর দু’মাস পর আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

অসহায় হাসান আহমেদ আরো বলেন, আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। আমার দোকান লুট করা হয়েছে। পুরো এক বছর দু’মাস বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে আমি অনেক ক্লান্ত- নি:স্ব। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে মরতে চাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •