কমলের মনোনয়ন কি নিশ্চিত?

শাহেদ মিজান, সিবিএন:
সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কক্সবাজার সদর-রামু আসনে বর্তমান সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের নাম রয়েছে। মাঠের দৌড়েও আপাতত তাকেই দেখা যাচ্ছে। তাঁর অনুসারীদেরও বেশ ফুরফুরে দেখা যাচ্ছে। তবে কী ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে সাইমুম সরওয়ার কমলের মনোনয়ন নিশ্চিত? নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে কমলের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি বেশ আলোচনা হচ্ছে। তবে একদম নির্ভার হওয়ার অবকাশ নেই তাঁর। কেননা ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে গিয়েছিলেন কানিজ ফাতেমা মোস্তাক। ভাগ্য প্রসন্ন হয়নি বলে জটিলতায় পড়ে তিনি ছিটকে পড়েছিলেন। তাই সাইমুম সরওয়ার কমলের ভাগ্য খুলেছিল সেবার। তিনি এবার কমলের পথের বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়াবেন।

মাঠের হিসাব মতে, কক্সবাজার সদর-রামু আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে সাইমুম সরওয়ার কমল ছাড়াও রয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কমলের ছোটবোন নাজনীন সরওয়ার কাবেরী এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয়। কমলের বড়ভাই ও রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এই দৌড়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদও রয়েছেন। তবে মুজিবুর রহমান পৌর মেয়র এবং ফোরকান আহমদ দ্বিতীয়বারের মতো কউকের চেয়ারম্যান মনোনিত হয়েছেন। তাই আপাতত তাঁরা মনোনয়ন নিয়ে বেশি মাথা ঘামাবেন না বলে মনে করা হচ্ছে। তাই তাদের ছাড়াই চলছে মনোনয়নের কানাঘুঁষা!

সাইমুম সরওয়ার কমল সমর্থকেরা বলছেন, সংসদের শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দৃষ্টিতে রয়েছেন সাইমুম সরওয়ার কমল। এছাড়া তিনি সব সময় জনগণের পাশে থাকেন- যা প্রধানমন্ত্রী ওয়াকিবহাল। একই সাথে এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি অনেক অগ্রগামী। সব দিক বিবেচনা করে তাঁর মনোনয়ন পাওয়াটা অনেকটা নিশ্চিত।

তবে তাঁর বিরোধীরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প কেন্দ্রিক নানাভাবে বিতর্কিতও কমল। বিশেষ করে তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে প্রকল্প ‘নয়ছয়’র অনেক ঘটনা আছে। সম্প্রতি কক্সবাজার সরকারি কলেজে সড়ক নির্মাণ নিয়ে যে তুলকালাম কা- ঘটেছে এর জন্য প্রকাশ্যে কমলকে দায়ী করতে দেখা গেছে। কমল তাঁর কাছের কিছু মানুষকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য সেই তুলকালাম ঘটিয়েছিল বলে সে সময় অভিযোগ উঠেছিল। স্বয়ং নাজনীন সরওয়ার কাবেরীও প্রকাশ্যে এই অভিযোগ করেছিলেন। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াকিবহাল বলে দাবি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিদের। এছাড়াও কমলের সাথে মূল আওয়ামী লীগ নেই বলেও দাবি করছেন প্রতিদ্বন্দ্বিরা।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতারা বলছেন, পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ যদি মনোনয়ন দৌড়ে না যান তাহলে সাইমুম সরওয়ার কমল অনেকটা হালকা থাকবেন। কারণ কমলের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বি থেকে তারা অনেকটা ‘শক্তিশালী’। তবে এই নয় যে, তাঁরা দু’জন মনোনয়ন না চাইলেও কমল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে মুক্ত থাকবেন। বর্তমান সাংসদ হিসেবে মনোনয়ন দৌড়ে তাঁর একটা অগ্রাধিকার থাকবে। তবে তাঁকে আরো চার প্রতিদ্বন্দ্বির মুখোমুখী হতে হচ্ছে। এই চার প্রতিযোগির মধ্যে বড় ‘ফ্যাক্ট’ এখন কানিজ ফাতেমা মোস্তাক। কারণ গতবারে পাওয়া মনোনয়ন হারাতে হয়েছিল তাঁকে। সেই অপ্রাপ্তিটা পূরণ করতে এবার তিনি যেকোনো ভাবে মনোনয়নটা পেতে চাইবেন। এই জন্য তিনি অনেকটা নীরবে জোর লবিং চালাচ্ছেন- এমনটা শোনা যাচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তে সাইমুম সরওয়ার কমল এবং কানিজ ফাতেমা মোস্তাককে ডিঙিয়ে নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, ইশতিয়াক আহমদ জয় অথবা অন্য কেউ মনোনয়ন নিয়ে আসলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

এ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারুণ্যকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সে ধারায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আমি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তার জন্য বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ছাত্রলীগের ব্যানারে আমি ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করে যাচ্ছি- যা কেন্দ্র পর্যন্ত ওয়াকিবহাল।’

নাজনীন সরওয়ার কাবেরী বলেন, ‘আমি দিন-রাত দলের জন্য কক্সবাজার ও রামুতে কাজ করে যাচ্ছি। আমার প্রতিবাদের কারণেই রামু ও কক্সবাজারে অনেক সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে এবং গতি ফিরেছে। দলীয় লোকজন ছাড়াও এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। এ আসনে আমি মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো।’

কানিজ ফাতেমা মোস্তাক বলেন, ‘গতবারে আমি মনোনয়ন পেয়েছিলাম। কিন্তু ভাগ্যটা ফেভারে ছিলো না বলে তা হাতছাড়া হয়েছিল। মনোনয়ন পেলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমি সাংসদ হতাম। হারানো মনোনয়ন উদ্ধারে কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে কাজ করতে বলেছেন। আমি মাঠে কাজ করছি। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, ‘২০১২ সালে রামু বৌদ্ধ মন্দির আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই কক্সবাজার সদর ও রামু এলাকায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। রামুতে স্থাপিত হয়েছে সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ডিভিশন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রেললাইনসহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও খুরুশকুলের আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ চলছে দ্রুত। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি রয়েছে। ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ করা হয়েছে। প্রচুর রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। রামুতে সরকারি উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) কেন্দ্র। তাই মানুষ আগামী নির্বাচনে ভোট দেবেন উন্নয়নকে। এসব উন্নয়নের একজন অংশীদার হিসেবে নৌকার মনোনয়নটা আমারই প্রাপ্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন পরিকল্পকনা রেখেছেন।’

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারের ৪টি আসনেই লড়বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

রাঙামাটিতে ৯৪দিন পর অপহৃত চাকমা তরুনী উদ্ধার : আটক-৩

জিএম রহিমুল্লাহর মৃত্যুতে জামায়াতের শোক

বিএনপি জামায়াতের ১০ নেতার আগাম জামিন লাভ

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

রাঙামাটির সাংবাদিক নাজিমের মায়ের ইন্তেকাল, সাংবাদিকদের শোক

রাঙামাটিতে অস্ত্রসহ চাকমা যুবক আটক

জিএম রহিমুল্লাহর মৃত্যুতে লুৎফুর রহমান কাজলের শোক

চকরিয়ায় একই পরিবারের ১২ নারী-পুরুষকে কুপিয়ে জখম

কক্সবাজারে মিল্কভিটার বিপনন ও বিতরণ কেন্দ্রে উদ্বোধন

জননেতাকে এক নজর দেখতে জনতার ভীড়

উখিয়ায় ভাইয়ের হাতে সৎবোন খুন

জিএম রহিমুল্লাহর মৃত্যুতে সদর বিএনপির শোক

পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বসে কারচুপির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

জিএম রহিমুল্লাহর জানাযা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে, বাদে জোহর ভারুয়াখালী

যে কারণে বদি মনোনয়ন পাচ্ছেন না জানালেন ওবায়দুল কাদের

বান্দরবানে পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ১

কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম রহিম উল্লাহ আর নেই

ভিডিও কনফারেন্সে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ নিচ্ছেন তারেক রহমান

বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়ার ৩ বছরের কারাদণ্ড