“লেমুপালং” : উখিয়ায় নয়!

 


আলমগীর মাহমুদ

“পালং” এর শহর উখিয়া। এদিক থেকে রামু তার সহোদর । এই সীমানার বাইরে পালং কল্পনা ভাবাইত মোরে।ং ঁ ঃ ওয়ালা শব্দগুলো আমার কাছে নান্দনিক নান্দনিক ।মনে হত এসবে আভিজাত্য সর্বোত্তম ভাব নিয়ে প্রকাশ করা যায়।জন্ম পরিচয়ের পালং নামটি সে কারনেই ছিল আমার গর্বের।

কথায় হামেশাই শুনতাম ‘পালং পালং ৩৬০ পালং তার মাঝে রাজা পালং’।ছোটকালে গুনে গুনে ৩৬০ পালং বের করা ছিল আমাদের খেলার অংশ।

উখিয়ায় কবিগানের আসরে জনৈক কবিয়াল প্রতিপক্ষকে ৩৬০ পালং এর বর্ণনা দেন, ৩৬০ পালং নয়।তিন শ,স,ষ ৬০ পালং।জটিল প্রশ্ন আরো নন্দনের বর্ণনায় গেয়ে যান তিন শ,স,ষ আদ্যাক্ষরের ষাট পালং মুল্লুকের নামরে ভাই পালংপুরী।স্বর্গ অবতারী।

এই সব অঞ্চলে রাখাইন রাজত্ব ছিল। এক সময় উখিয়া রাজাপালং মাদ্রাসা তথা পুরো যাদিমোরা পাহাড়টি ছিল রাজভিটি।পাহাড়ের নীচের বিশাল অংশজুড়ে ছিল রাজার গড় যেখানে রাণী সন্ধ্যাবেলায় নৌবিহারে বেরুতেন।রাজাপালং মাদ্রাসাস্থিত পশ্চিম উত্তর কোণায় ত্হশীলদার জাহেদের বাড়ির পাশে উজিরের ভিটা,কোতোয়ালের ভিটা চিহ্নিত আছে।আছে এলাকাবাসীর স্মৃতিতে প্রবাহমান ।

পালং” এইসব সামন্তরাজদের রেখে যাওয়া স্মৃতি চিহ্ন।পালং তাদের ভাষায় নির্দিষ্ট কোন স্থান বা গ্রাম বলে অনেকে মনে করেন। Francis Bokanon 1798 সালে সোনার পাড়াকে সোনা পালং উল্লেখ করতে দেখা যায়।১পালং নিয়ে যারা ভেবেছে তাদের ধারনায় চকরিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত আসলেই ৩৬০ পালং ছিল।

বর্তমানে পালং সংখ্যা দেখা যায় ১/ফালংখালী ২/কুতুপালং ৩/টাইপালং ৪/ডিগলিয়া পালং ৫/ওয়ালাপালং ৬/রাজাপালং ৭/রত্নাপালং ৮/হিজলিয়া পালং ৯/জালিয়াপালং ১০/ভালুকিয়া পালং ১১/ধেছুয়া পালং ১২/মরিচ্যা পালং ১৩/খুনিয়া পালং ১৪/দরগা পালং ২৫/রুমখাঁ পালং ২৬/চাকবৈঠা পালং ১৭/হলদিয়া পালং ১৮/ধোয়াপালং ১৯/গোয়ালিয়া পালং। চাকবৈঠা, দরগা পালং,হিজলিয়া পালং কে আমরা পালং হিসেবে শুনতে বেমানান মনে হলেও এদের কাছে পালং শব্দটি বিলুপ্ত হয়ে চাকবৈঠা, হিজলিয়া,দরগাবিল হয়েই ধারিত লোকমুখে।২

Francis Bokanon লেখায় “বারোফালং “এই বানানেই আছে লেখা তাই ফালংখালীকে গণনায়, যদিও রোডস এণ্ড হাইওয়ের একটি সাইনবোর্ড ” পালংখালী” লেখা থেকে ফালংখালী নামটি গেছে ঐ নামেই ধারিত আজ। যে নামের বয়স এখনও হয়নি ২০পূর্ণ।

বর্তমানে ”পালং ” এই নাম সদৃশ দু’টি পালং এর অস্তিত্ব নজরে আসে যাহ বান্দরবান জেলার অন্তর্গত। একটি লেমু পালং অন্যটি পালং পাড়া।

লেমুপালংঃ—-
অবস্থানঃ ৫ নং সরাই ইউনিয়ন।
উপজেলাঃলামা জেলাঃ বান্দরবান। জনসংখ্যা মুরু উপজাতি।একটি মৌজারই নাম এই লেমু পালং।

পালং পাড়াঃ—-
অবস্থান ঃআলীকদম সদর ইউনিয়ন।
জনসংখ্যাঃ আদিবাসী বাঙ্গালী মিক্স।৩

তথ্যসূত্র ঃ—
১/Francis Buchanan’s Journey Through Chittagong and Tippera,1798,India Office Manuscripts,ADD 19286 SCH-65754

2/চিলবদউল ২০০৪ স্মৃতিস্মারক উখিয়া কলেজ কক্সবাজার পৃঃ৫৬

৩/অধ্যাপক হাসেম সৈকত থানছি কলেজ। হাসেম সৈকত এর একান্ত প্রচেষ্টায় এই নুতন পালং অথবা পালং আবহওয়ালার সন্ধান।

লেখকঃ বিভাগীয় প্রধান। সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।উখিয়া কলেজ কক্সবাজার।
[email protected]

সর্বশেষ সংবাদ

মৌসুমের শুরুতেই ডেঙ্গুর ‘কামড়’

স্ত্রীকে ‘উত্ত্যক্তের’ প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

মিয়ানমারের বিচারে আরও একধাপ এগোচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

ইয়াবা ব্যবসার নিরাপদ স্থান রোহিঙ্গা ক্যাম্প!

অল্প বৃষ্টিতেই দুর্ভোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন উপায় 

ফিউচার লাইফের আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস পালিত

দারুল আরক্বমে সংবর্ধনা ও নবীন বরণ

একবার ভেবে দেখবেন কী !

কনস্টেবল স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ৩৮৬ জনের বিপরীতে ৭৫৩ জন উত্তীর্ণ : বৃহস্পতিবার লিখিত পরীক্ষা

একটি সাদা কাফনের সফর নামা – (৭ম পর্ব)

হোপ ফাউন্ডেশনের ফিস্টুলা সেন্টারের অনুমোদনপত্র হস্তান্তর করলো কউক

অপরাধ দমনে শ্রেষ্ট অফিসার চকরিয়া থানার এএসআই আকবর মিয়া

জেলা মৎস্যজীবি শ্রমিকলীগের কমিটি গঠন

চকরিয়ায় আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস পালিত

সন্ত্রাসীর সঙ্গে যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

বিশ্ব বিবেক নাড়িয়ে দেওয়া আরেকটি ছবি

মাদক ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় প্রচারণা, ঘরে ঘরে হুশিয়ারি

‘ঈদগাহ উপজেলা’ গঠন প্রক্রিয়া শুরু

মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : ডিসি কামাল

হ্নীলায় রাশেদ, ফাঁসিয়াখালীতে গিয়াস ও বড়ঘোপে কালাম মেম্বার