মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তাদের বিচার : চীন ভেটো দিলে কী হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর গণহত্যা চালানোর দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করেছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদন। জাতিসংঘের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশটির শীর্ষ ছয়জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বিচার হওয়া দরকার।

এই প্রতিবেদনের পর কি হতে পারে? এর পরবর্তী পদক্ষেপগুলোও বা কি হবে? মিয়ানমারের শীর্ষ ওই সামরিক কর্মকর্তারা কি আসলেই বিচারের মুখোমুখি হবেন।

জাতিসংঘের এ রিপোর্টটি সাধারণভাবে বেশ শক্তিশালী। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের উপর যে গণহত্যা চালানো হয়েছে সেটির জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে গণহত্যার জন্য দায়ী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচার দেশটির ভেতরে করা সম্ভব নয়। সেজন্য আন্তর্জাতিকভাবে এর উদ্যোগ নিতে হবে। একথা উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে।

এ প্রতিবেদনের পর মিয়ানমারের জেনারেলদের বিচারের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আরো জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারবে। রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেসব রিপোর্ট দিয়েছে সেগুলোকে বরাবরই খারিজ করে দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু জাতিসংঘের এ তদন্ত এক বছরের বেশি সময় ধরে চালানো হয়েছে।

তিনজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ জাতিসংঘে তদন্ত প্যানেল পরিচালনা করেছেন। সেজন্য এ প্রতিবেদন জাতিসংঘের ভেতরে অনেকের সমর্থন পাবে এবং মিয়ানমারের পক্ষে সেটি খারিজ করে দেয় কঠিন হবে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, মিয়ানমারের এ ঘটনা বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো উচিত। কিন্তু সেটি করতে হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন লাগবে।

এ ধরণের কোন উদ্যোগের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন ভিন্নমত পোষণ করবে। তারা এটি চাইবে না।
ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো যাবে না। তদন্তকারীরা পরামর্শ দিয়েছেন, রোয়ান্ডা এবং সাবেক ইউগোশ্লাভিয়ার যুদ্ধাপরাধের বিচার যেভাবে হয়েছে সে রকম স্বাধীন একটি অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

এ ধরণের অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মাধ্যমেই গঠন করা যেতে পারে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো দেবার বিষয়টি এড়ানো সম্ভব হবে। এ ধরণের একটি ট্রাইব্যুনাল যাতে কাজ করতে পারে সেজন্য মিয়ানমারকে সহায়তা করতে হবে যাতে অভিযুক্তদের আদালতে সোপর্দ করা যায়। সার্বিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ার সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীদের দ্য হেগের ট্রাইব্যুনালের কাছে হস্তান্তরের জন্য বহু বছর সময় লেগেছিল।

গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সেরা প্রধানসহ ছয়জন শীর্ষ জেনারেলকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে জাতিসংঘের এ প্রতিবেদন অনেক দূর এগিয়েছে। সিরিয়ার যুদ্ধ নিয়ে অনেক তদন্ত হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের অপরাধীদের দীর্ঘ তালিকাও রয়েছে। সে তালিকায় সিরিয়ার সেনাবাহিনী এবং সরকারের সিনিয়র ব্যক্তিরা রয়েছে। কিন্তু তাদের নাম কখনোই প্রকাশ্যে বলা হয়নি।

মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন, সুনির্দিষ্টভাবে ছয় জেনারেলকে অভিযুক্ত করার মাধ্যমে তারা কিছু অর্জন করতে পারবেন। এ রিপোর্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ সপ্তাহেই বৈঠক করবে এবং সে বৈঠকে তারা জাতিসংঘের তদন্তকারীদের বক্তব্য শুনবে।

ফেসবুকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রধানসহ শীর্ষ স্থানীয় জেনারেলদের ঘৃণা এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ করেছে। জাতিসংঘের রিপোর্টে যেসব জেনারেলদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কিংবা অন্য কোন ধরণের ট্রাইব্যুনাল ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।জাতিসংঘের প্যানেল শুধু তদন্ত করতে পারে, বিচার করতে পারে না। তদন্তকারীরা যে ধরণের তথ্য-প্রমাণের কথা বলেছেন তাতে মনে হচ্ছে কোন না কোনভাবে একটা বিচার হবে। যদিও সে বিচার হতে অনেক বছর সময় লাগতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে অং সান সু চির বিচারের সম্ভাবনা অনেক কম। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর উপর বেসামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমণের যে পরিকল্পনা সেনাবাহিনী করেছিল সেটি বেসামরিক সরকার জানতো না বলে এ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়ন থামানোর জন্য অং সান সু চি তার নৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করেননি। তাছাড়া ঘটনা সম্পর্কে মিথ্যা বর্ণনা দেয়া এবং স্বাধীন তদন্তকারীদের ঘটনাস্থলে যেতে না দেয়া এবং সেনাবাহিনীর অন্যায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে অং সান সু চির সরকার রাখাইন অঞ্চলে অপরাধ সংগঠনে ভূমিকা রেখেছে। যদিও এ রিপোর্টের মূল কথা হচ্ছে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিচার। সেটা নিশ্চিত করতে চাইছে জাতিসংঘ।

cbn
কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

উখিয়ায় জেলা প্রশাসকের কম্বল ও গৃহসামগ্রী বিতরণ

বদরখালী পৌরসভা, মাতামুহুরী হবে উপজেলা- এমপি জাফর আলম

বিজয় সমাবেশ সফল করতে কক্সবাজারে আ. লীগের প্রস্তুতি সভা

বালুখালীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা: টাকা লুট, অস্ত্র উদ্ধার

কক্সবাজার শহরে প্রাইভেট কারে আগুন

প্রখ্যাত সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের মৃত্যুতে সাংবাদিক ইউনিয়নর কক্সবাজার’র শোক

চকরিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মানোন্নয়নে সনাক মতবিনিময় সভা

সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়নে কক্সবাজার-রামুকে এগিয়ে নেয়া হবে- এমপি কমল

১৫ হোটেল ও রেস্তোরাঁকে দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা

চকরিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মাননোন্নয়নে সনাক এর মতবিনিময় সভা 

‘কাজী রাসেলকে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় জনগণ’

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার- ১২

চকরিয়া পৌরসভায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্ভোধন

পেকুয়ার ইটভাটা থেকে বিদ্যালয়ে ফিরলো ১২ শিশুশ্রমিক

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন বর্ধিতকরণে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জলবসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব

টেকনাফে ইয়াবাসহ রামুর নুর আটক

পেকুয়া বিএনপির ১১ নেতাকর্মী কারাগারে

চবি ছাত্রের কোটি টাকা উৎস ইয়াবা ব্যবসা!

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নতুন আতঙ্ক আরাকান আর্মি