প্রিয়.কম : নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

২০ আগস্ট, সোমবার ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তারের আদালত নওশাবার জামিন নাকচের এ আদেশ দেয়। অবশ্য নওশাবাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় এর আগে নওশাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দফায় রিমান্ডে নেয় পুলিশ। প্রথম দফায় চার দিন এবং দ্বিতীয় দফায় দুই দিন। গত ১৩ আগস্ট দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন নওশাবা। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নাসের জানান, পুলিশ হেফাজতে অভিনেত্রী নওশাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি ডিসেন্ট্রিসহ কয়েকটি সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে গত ৫ আগস্ট র‌্যাব-১-এর ডিএপি আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ সালের ৫৭(২) ধারায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন। এর আগে ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে নওশাবাকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সপ্তম দিনের (৫ আগস্ট) মতো ছাত্র-ছাত্রীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। দুপুরে জিগাতলা এলাকায় ‘ছাত্রলীগের’ সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে চার ছাত্র নিহত হওয়া ও একজনের চোখ তুলে নেওয়ার তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৪টার দিকে ফেসবুকে লাইভে এসে নওশাবাও এ তথ্য জানান।

নওশাবা প্রিয়.কমকে জানান, এ ঘটনা তিনি নিজের চোখে দেখেননি। অন্য আরেকজনের কাছে শুনে ফেসবুকে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিতে নওশাবা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লাইভে আসার আগে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি ঝিগাতলা নিয়ে কথা বলার সময় উত্তরায় ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ান অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদ। ফেসবুক থেকে তিনি লাইভে বলেন, ‘জিগাতলায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। একজনের চোখ উঠিয়ে ফেলেছে এবং চারজনকে মেরে ফেলেছে।’

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের একটি বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার দিন থেকেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি রেখে প্রতিবাদ জানায় তারা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •