উখিয়া সংবাদদাতা:
রোহিঙ্গাদের নাস্তার প্যাকেট ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এনজিও সংস্থা-ইপসার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, ১০০ টাকার নাস্তার প্যাকেটে ৭০ টাকা দুর্নীতির। সে হিসেবে এ পর্যন্ত আত্নসাৎ করা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সুত্র জানায়, বালুখালী ক্যাম্প (৯-১০) ২৫০০ জন, বালুখালী-২ ক্যাম্প (১১) ২৫০০ জন, জামতলী ক্যাম্প (১৫), ২৫০০ জন এবং হাকিমপাড়া শফিউল্লাহ ক্যাম্প (১৬) ২৫০০ জনের পরিবার প্রধানের জন্য মানসম্মত নাস্তার প্যাকেট দিতে ইপসাকে ১০০ টাকা করে বরাদ্দ দেয় ইউনিসেফ। গত ফেব্রুয়ারী থেকে প্রকল্পটি চলমান আছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতি প্যাকেটে ১০০ টাকার নাস্তার স্থলে দেয়া হচ্ছে ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা। বাকী টাকা ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে আত্নসাৎ করছেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক।
হিসেব করলে দাঁড়ায়, প্রতি নাস্তার প্যাকেটে ৭০ টাকা হারে দুর্নীতি করলে দৈনিক ১০ হাজার প্যাকেট নাস্তায় গত সাড়ে ৬ মাসে (২০০ দিন) ২০ লাখ টাকা আত্নসাৎ করা হয়েছে।
এদিকে রোহিঙ্গারা তাদের জন্য কি পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে না জানলেও বিভিন্ন মাধ্যমে তা প্রকাশ হওয়ায় অনেকে প্রতিবাদ করেছে। ন্যায্য অধিকার দাবী করেছে রোহিঙ্গারা। কিন্তু প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম সাকি অভিযোগকারীদের উল্টো হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা।
আরফান আজম, আবুল আলম, এনায়েত উল্লাহ, মোঃ আইয়ুব, মোঃ কাদেরসহ অনেকের অভিযোগ, নাস্তার প্যাকেট একটা জুস, এক প্যাকেট বিস্কিট দেয়া হয়। মাঝে মধ্যে অন্যান্য নাস্তা দেয়। তাতে ৩০ টাকা মতো খরচ পড়বে। মিয়ানমার থেকে তাড়িত হয়ে আসা এসব হতদরিদ্রদের পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী বিতরণের টাকা আত্নসাৎকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছে।
এ বিষয়ে ইপসার প্রকল্প পরিচালক খালেদা বেগম জানান, প্রতি প্যাকেট নাস্তার জন্য ৫০ টাকা করে বরাদ্দ দেয় ইউনিসেফ। সেখান থেকে ভ্যাট, ট্যাক্স, যাতায়াত ও পরিবহন খরচ কেটে বাকি টাকার নাস্তা দেয়া হয়। আর্থিক হিসেবে কোন হেরফের হয়না। নাস্তা বিতরণকালে ইউনিসেফ প্রতিনিধি উপস্থিত থাকে।
তিনি জানান, ইপসা একটি দেশীয় সনামধন্য এনজিও। প্রতিটি কাজে তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা রয়েছে। অন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে তারা সব কাজ করে থাকে।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •