রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আগত তহবিলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত দাবী

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :

কক্সবাজারের স্থানীয় অধিবাসীদের উপর রোহিঙ্গা শরনার্থী ঢলের প্রভাব সম্পর্কিত গবেষণা বইয়ের উদ্বোধন এবং বিশ্ব মানবিকতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শনিবার বিকালে কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) এবং কোস্ট ট্রাস্টের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম এনডিসি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ কাজী আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচক ছিলেন, মুক্তি কক্সবাজার এর প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার, নোঙ্গর এর নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম রাশেদ, ইউএনএইচসিআর এর এলিজাবেথ পেলস্টার, আইএসসিজি-র মার্গো বার্স, এনজিও প্লাটফরমের ডমিনিকা আর্সেনিউক সহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন সিসিএনএফ এর কো-চেয়ার আবু মোর্শেদ চৌধুরী। আলোচনার শুরুতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ ও মুক্তি কক্সবাজারের মানবিক সহয়তা কর্মী রোজিনা আক্তার সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন তিনি।

অতিথির বক্তব্যে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, সিসিএনএফ এবং কোস্ট ট্রাস্ট কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের জন্য বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, এই বিষয়ে আমি শুরু থেকেই অবহিত ছিলাম। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আসার ফলে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগন নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। এই গবেষণা প্রতিবেদনে তার চিত্র ফুটে উঠেছে। তাছাড়া সিসিএনএফ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষতিপূরণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংগঠনের সাথে ক্রমাগত দেনদরবার করছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ কাজী আব্দুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগনের সংকট নিরসনে অনেক এনজিও এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন কাজ করছে। জয়েন্ট রেসপন্স প্লানের যতটুকু অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, তার শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সেসব অর্থ যেন ব্যক্তিগত সুবিধায় ব্যয় না হয় তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ কিছু ইতিবাচক প্রভাব হয়ত আছে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, প্রশাসনের সাধ্যের অতিরিক্ত জনগণের জন্য স্বাভাবিক সেবা প্রদান আর সম্ভব হচ্ছে না। জেলার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে দেশের এসডিজি অর্জন ব্যাহত হতে পারে।

এলিজাবেথ পেলস্টার তার আলোচনায় বলেন, এখন সময় এসেছে রোহিঙ্গা সংকটের ইতিবাচক প্রভাব উপস্থাপন করার, সব নেতিবাচক নয়। কারন রোহিঙ্গা আসার ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডমিনিকা আর্সেনিউক বলেন, সমস্যা নিরোসনে স্থানীয় সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনকে সংলাপে বসতে হবে এবং একটি প্লাটর্ফমে আসতে হবে। এতে কাজের অংশীদারিত্ব বাড়বে। এনজিও প্লাটফরম সামনে রেখে স্থানীয় সংগঠনের সাথে সংলাপ নিয়মিত করবে।

মার্গো বার্স বলেন, উখিয়া এবং টেকনাফের স্থানীয় জনগন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। এসব ক্ষতির বিষয়ে কাজ করতে জেআরপিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মোট অর্থের ২৫% স্থানীয় জনগনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু দাতা সংগঠন কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত তহবিলের মাত্র ৩৩% সংগৃহিত হয়েছে।

বিমল চন্দ্র দে সরকার তার আলোচনায় বলেন, শুরুতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঢল মোকাবেলায় কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের সাথে কয়েকটা এনজিও সহায়তা শুরু করে। পরে বিভিন্ন দাতা সংগঠন এই মানবিক কর্মকান্ডে যুক্ত হয়। আজ ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম তাদের প্রকল্প প্রস্তাবনা আহবানে স্থানীয় জনগোষ্ঠির সাথে কাজ করার জন্য ঘোষনা দিয়েছে এবং অনেক সংগঠন অতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এসব কিছু সিএসও এনজিও ফোরামের প্রচেষ্টার ফল বলে মনে করি। তবে আমাদের আরো বেশি তাৎপর্যপূর্ণভাবে কাজ করতে হবে।

সিসিএনএফ এবং কোস্ট ট্রাস্টের পক্ষে গবেষণা পত্রের সারাংশ প্রতিবেদন তুলে ধরেন সহকারী পরিচালক বরকত উল্লাহ মারফ। তিনি গবেষণার পত্রের মায়ানমার জনগোষ্ঠির আগমনের ফলে কক্সবাজারের স্থানীয় জনসাধারণের শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশের কি ক্ষতি হয়েছে তার একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সংকট নিরসনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে আমাদের ‘সামগ্রিক সমাজ এপ্রোচে’ কাজ করতে হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শরণার্থী সহ সকল স্টেকহোল্ডারের সক্ষমতা রয়েছে নানাভাবে অবদান রাখার, তার সবগুলো কাজে লাগাতে পারলে সহজেই এই সংকট নিরসন করা সম্ভব।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

দেশব্যাপী সাড়ে চার লাখ অতিদরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেবে ব্র্যাক

মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ নলকূপ শ্রমিকের মৃত্যু

২৮ অক্টেবর উদ্বোধন হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স

থানচিতে ঝিরিতে ভেসে ঢাকার পর্যটক নিখোঁজ

ঈদগাঁওতে মাংস কম দেয়ায় কনে পক্ষের উপর বর পক্ষের হামলা !

সাড়ে ৩ মাসেই ফের বদলী কক্সবাজার সদরের ইউএনও

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শিশুসহ তিন জন দগ্ধ

পেকুয়ায় কিশোরীকে গণধর্ষণ, আটক-৩

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

ঈদগাঁওতে ২ বসতঘরে ডাকাতিঃ প্রহারে আহত ২

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র -চবি উপাচার্য

ব্রীজ থাকলেও নেই সড়ক 

কক্সবাজার থেকে যাওয়া প্লেনের দুই যাত্রীর পেটে মিলল ৭৬ পোটলা ইয়াবা

গ ইউনিটে ফেল, রেকর্ড নম্বর পেয়ে ঘ ইউনিটে প্রথম!

জীবিত অবস্থায়ই টুকরো টুকরো করা হয় খাশোগিকে

বিচারপতি মোজাম্মেল হক আর নেই

রামুতে ১৯ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশ কনস্টেবল আটক

বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মুসলিম নারী

হারিয়ে যাচ্ছে চিতিপেট-হুতোম পেঁচা

মিয়ানমারের উগ্রবাদীদের হুমকি: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার আশংকা